close
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ০৪ কার্তিক ১৪২৪

বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংকটে রোহিঙ্গা শিবির : আইএসসিজি

শামীমা নাসরিন
|  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:১০ | আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:১৯
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও মগদের নির্যাতনে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা। ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আসতে থাকা রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারজুড়ে। তাদের সহায়তায় কাজ করছে দেশীয়-আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংস্থা।

গেলো এক মাস ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ‘সিচুয়েশন রিপোর্ট: রোহিঙ্গা রিফিউজি ক্রাইসিস’ শিরোনামে প্রতিবেদন করেছে মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা ‘ইন্টার সেক্টর কো অর্ডিনেশন গ্রুপ’ আইএসসিজি। সংস্থার মতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন বিশুদ্ধ খাবার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।

কক্সবাজারের কুতুপালং, বালুখালি, হাকিমপাড়া, জামতলীসহ বিভিন্ন জায়গা এখন মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের দখলে। প্রাণে বাঁচতে দেশ ছেড়ে এখানে এসেও তারা আছে কঠিন অবস্থায়।

এদিকে রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে কক্সবাজারে কাজ করছে বিভিন্ন দাতা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। কাজ করছে আইএসসিজিও। গেলো ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গবেষণা করে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন ছেপেছে সংস্থাটি। এতে উঠে এসেছে সংকটের সার্বিক চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ঢুকেছে চার লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা। এরমধ্যে অস্থায়ী ভিত্তিতে বন্দোবস্ত করা হয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার জনের। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরো দুই লাখ। আকস্মিক জনস্রোতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকট। নেই পর্যাপ্ত খাবার, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও নিরাপত্তা। অস্বাস্থ্যকর-ঘিঞ্জি পরিবেশে আছে রোগ ছড়ানোরও ঝুঁকি। দুঃসহ অভিজ্ঞতায় মনোবৈকল্যে ভুগছেন অনেকে।

আনুমানিক চার লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গার আশ্রয় দরকার এখন। উখিয়ায় নতুন ক্যাম্পের জন্য দুই হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে অবকাঠামো নির্মাণের আগেই সেখানে থাকতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে ৮৪ ভাগ রোহিঙ্গাকে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৫৬ হাজার গর্ভবতী, স্তন্যদায়ী মা ও পাঁচ বছরের নীচে শিশু। গবেষণার এক সপ্তাহে এদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে ছয় হাজার জনকে।  

আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। শিশুদের রোগ প্রতিরোধে দরকার ইপিআইয়ের জরুরি টিকা। মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা লাগবে ২৪ হাজার গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়ের। এক সপ্তাহে স্বাস্থ্য সহায়তা পেয়েছে, এক লাখ দুই হাজার রোহিঙ্গা। হাম ও রুবেলার টিকা পেয়েছে, ৬৪ হাজার শিশু। পোলিও টিকা পড়েছে, ৩৪ হাজার শিশুর মুখে।

দুর্গম এলাকার নতুন বসতিতে মেডিকেল কেন্দ্র বসানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। অতিরিক্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন তহবিল। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে আছে, মহামারী আকারে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি।

কমপক্ষে তিন লাখ রোহিঙ্গার পুষ্টি প্রয়োজন। অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য দুই লাখ গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী নারী এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সহায়ক খাবার দরকার। আর তীব্র অপুষ্টির শিকার, এক লাখ শিশু-কিশোর।

আশ্রয় শিবির ও অন্যান্য স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শোচনীয়। বিশেষ করে কুতুপালং শিবিরে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তার বালাই নেই। প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশু ও ছয় থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরীর নিরাপত্তায় দরকার সুরক্ষিত পরিবেশ। প্রয়োজন সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ।

প্রতিদিন নিরাপদ পানির প্রয়োজন আনুমানিক ছয় কোটি লিটার। সীমান্তবর্তী ও নাফ নদী তীরে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের জরুরি ভিত্তিতে ধৌত সামগ্রী, নিরাপদ পানি ও ল্যাট্রিন দরকার। পানি পরিবহন ও সংরক্ষণে প্রয়োজন জ্যারিকেন।

গেলো এক সপ্তাহে ধৌতকরণ কাজে সহায়তা দেয়া হয়েছে প্রায় দেড় লাখকে।  টিউবওয়েল দেয়া হয়েছে ২১৩টি। এসেছে ১৫ হাজার ৪৭৭টি জ্যারিকেন। জরুরি ভিত্তিতে ল্যাট্রিন বানানো হয়েছে দেড় হাজারটি।

আরকে/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়