‘যার বিকল্প দেখি না’

প্রকাশ | ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:১৯ | আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২৯

আনিস আলমগীর

জীবনের পরিণতিই হচ্ছে মৃত্যুকে আলিঙ্গন। দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই। আজ এপারে, কাল ওপারে। বয়স যতই বাড়ছে, দুপারেই জমছে বন্ধু বান্ধর আত্মীয়স্বজন।

কাল মেয়র আনিস ভাইয়ের (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক) মৃত্যু সংবাদ যখন কানে এলো, অপ্রত্যাশিত মনে হয়নি। গেলো চার মাস ধরে উনাকেতো কতবারই না মারা হয়েছে, কত উদ্ভট খবর হয়েছে- কোনোটাই বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু কাল একবাক্যেই বিশ্বাস হয়েছে। মূলত দ্বিতীয় দফায় যখন হাসপাতালে গেলেন তখন মন বলছিল উনি আর ফিরবেন না আমাদের মাঝে। আর যদি ফেরেনও- আগের আনিস ভাই আসবেন না।

আমার দুঃখ হচ্ছে আমরা ঢাকার বাসিন্দারা এমন একজনকে হারালাম, যার বিকল্প দেখি না। অল্প কদিনেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় যে ক’টি দৃশ্যনীয় পরিবর্তন এনেছেন, তাতে প্রমাণ করেছেন- ইচ্ছা থাকলে নগরবাসীকে নগরকর্তারা অনেক স্বস্তি দিতে পারেন। সবকিছু তিনি করতে পারেননি, কিন্তু তার ইচ্ছেটা প্রকাশিত হয়েছে প্রতি পদক্ষেপে।

তার অভাব আমরা আরো অনুভব করব কারণ, আমরা পেয়েছি চারদিকে চোর আর চোর। চোরের পুত চোর। তাকে বাদ দিলে, একজন মেয়রও ঢাকাবাসী পায়নি চোর তকমা ছাড়া। চোর, মেধাহীন লোকগুলো দিনের পরদিন ঢাকাকে করে তুলেছে বাস অযোগ্য শহরে। রাজনৈতিক অনুগ্রহে এরা আমাদের ঘাড়ে এসে আগামীতেও তাই করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিনন্দন যোগ্য কাজ করেছিলেন, রাজনীতির বাইরে গিয়ে ঢাকাবাসীকে মেয়র আনিসুল হককে উপহার দিয়ে। শহর দুভাগ না করে তাকে একা দিলে আরো বেশি ভালো হতো নগরবাসীর।

খুব বড় জীবন পাননি আনিস ভাই কিন্তু অসাধারণ কাজ দিয়ে তিনি এপারে বেঁচে থাকবেন অনেক বছর। দেশের সবচেয়ে আধুনিক, জনপ্রিয় উপস্থাপকের আসনটি দখল করা, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই’র মতো শীর্ষ সংগঠনের শীর্ষ নেতা হওয়া, সফল ব্যবসায়ী এবং সর্বশেষ একজন জনপ্রিয় মেয়র হওয়া- সবার ভাগ্যে জোটে না।

যেখানেই থাকেন আনিস ভাই, শান্তিতে থাকেন! আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতবাসী করেন এবং আপনার স্বজনদের এই শোক বইবার ক্ষমতা দেয়- এই দোয়া করি। আপনার সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো, বিশেষ দিনে আপনার ম্যাসেজগুলো, উপহারগুলো- আমাদের অনেকের কাছে অমর থাকবে।

(লেখক : সাংবাদিক ও শিক্ষক)

এম