• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

৯ম ও ১০ম গ্রেডে শতভাগ সুপারিশ চেয়ে ৩৬তম বিসিএস নন ক্যাডারদের বিনীত আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
|  ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:৩১ | আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:০১
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানই এমন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগ দিতে চায় যিনি যোগ্য ও সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করতে আগ্রহী। যোগ্যতা সম্পন্ন কিন্তু অনাগ্রহী কোনো প্রার্থীকে কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়োগ দিতে চায় না। আবার যোগ্যতাহীন আগ্রহী প্রার্থীদেরও প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ দেয় না। এটাই স্বীকৃত। দেশে ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি পদে অর্থাৎ নবম ও দশম গ্রেডে কর্মকর্তা নিয়োগদানকারী সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসি প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি অনুসরণ করে আসছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক নেয়া বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। ৩৫তম বিসিএসে পিএসসি শুধু ক্যাডার পদেই নিয়োগের সুপারিশ করেনি, হাসি ফুটিয়েছেন অপেক্ষমান সব নন ক্যাডারের মুখে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রায় দুই হাজার দুশ’র বেশি নন-ক্যাডারকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক বিসিএস থেকে এতো বিশাল সংখ্যক নিয়োগের সুপারিশ আগে কখনো করা হয়নি। ফলে পিএসসির প্রতি ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি চির কৃতজ্ঞ ৩৫তম বিসিএসে উর্ত্তীণরা। এতে পিএসসির প্রতি চাকরি প্রার্থীদের আস্থা বহুলাংশে বেড়ে গেছে, একইসঙ্গে বেকারদের চাকরি দিতে পিএসসির যে অক্লান্ত প্রচেষ্টা তা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

৩৫ পরবর্তী ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ২ লক্ষাধিক। গেলো ১৭ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন মাত্র ৫ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থী।  তাদের মধ্যে দু’হাজার ৩২৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে তিন হাজার ৩০৮ জনকে অপেক্ষমান নন ক্যাডার তালিকায় রাখা হয়। ৩৫তম বিসিএসে নন ক্যাডারদের ৯ম ও ১০ম গ্রেডে শতভাগ নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে তাদেরকে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, সে একই ধরনের মহৎ উদ্যোগ পিএসসি ৩৬তম বিসিএসের ক্ষেত্রে গ্রহণ করবে এমনটাই আশা ৩৬তম নন-ক্যাডারদের।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলোতে ৯ম ও ১০ম গ্রেডের প্রায় ৭০,০০০ পদ শূন্য। সম্প্রতি মহান সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে শূন্য পদের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখেরও বেশি বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে শুধু ৯ম গ্রেডেই ৪৮হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে শূন্য পদ ৫০ হাজারের বেশি। এ অবস্থায় ৩৬ বিসিএসের সব নন ক্যাডারদের আশা তারাও ৯ম ও ১০ম গ্রেডের চাকরিতে শতভাগ নিয়োগের সুপারিশ পাবেন।

কিন্তু সম্প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৬তম বিসিএস নন ক্যাডারদের মধ্য থেকে ১২তম গ্রেডভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এ সংবাদে হতাশ ৩৬তম নন ক্যাডাররা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পরিশ্রমের পরে তারা বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনে ৯ম ও ১০ম গ্রেডের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকলেও ১২ তম গ্রেডভুক্ত চাকরিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকার খবরে হতাশ তারা। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ১০ম ও ১২তম গ্রেডের বেতনে ব্যাপক তফাৎ রয়েছে। একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কেউ ১০ম গ্রেড আবার কেউ ১২তম গ্রেড সুপারিশ পাবেন, আলাদা দু’টি গ্রেডে নিয়োগের সংবাদে উদ্বিগ্ন তারা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৪তম বিসিএস নন ক্যাডার থেকে পিএসসি ৮৯৮ জনকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু সুপারিশকৃতদের অর্ধেক প্রার্থীই ঐ পদে যোগদান করেননি। এর বড় কারণ পদটি ১২তম গ্রেডের। এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ১২তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি। এ অবস্থায় শূণ্যপদ পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অত্যন্ত খুশি ৩৬তম নন-ক্যাডাররা। এছাড়া পিএসসিও সবাইকে নিয়োগের সুপারিশেও ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। তাই পিএসসির কাছে ৩৬তম নন-ক্যাডারদের বিনীত অনুরোধ ও কামনা, তারা যে কঠোর শ্রম করে বিসিএসের মতো কঠিনতম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, এর প্রতিদানে তাদের রাষ্ট্র ও সরকারের একনিষ্ঠ কর্মচারী হয়ে জনগণের সেবা করতে সুযোগ দেবে আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান পিএসসি। তাদের আশা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে চিরমুক্তি দিতে নিয়োগের “অ্যাপেক্স বডি” পিএসসি তাদের ৯ম ও ১০ম গ্রেডে শূন্য পদে শতাধিক নিয়োগে সুপারিশ করবে। যেমনটি পিএসসি করেছিল ৩৫তম নন-ক্যাডারদের বেলায়। সরকারি কর্মচারী নিয়োগে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতি দৃঢ় আস্থা সব নন ক্যাডারদের। পিএসসির কাছে তাদের বিনীত অনুরোধ, ৯ম ও ১০ম গ্রেডে শূণ্যপদ খালি রেখে ১২তম গ্রেডের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করা না হলে, তারা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হবেন এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, পিএসসির প্রতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তার সোনারবাংলা গড়ার পাশপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দেশ সেবায় ব্রতী হতে চায় ৩৬তম বিসিএসের সব নন-ক্যাডার প্রার্থীরা।

 

নিবেদক

৩৬তম বিসিএস নন ক্যাডাররা

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়