• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

জুমাতুল বিদা

মাজহার খন্দকার
|  ০১ জুলাই ২০১৬, ১৪:৩৬
মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি আমাদের সমাজে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। পরিভাষাটি পবিত্র কোরআন বা হাদিসের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় না। তবুও মোবারক মাস রমজানের শেষ জুমার দিন হিসেবে এর গুরুত্ব কম নয়। রমজান আর জুমা একত্রে মিলিত হয়ে দিনটিকে করে তুলেছে সীমাহীন মহিমাময়। উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে বছর ঘুরে আসা মাহে রমজান আর তার সঙ্গে যুক্ত সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন ইয়াওমুল জুমা, আজকের দিনটি পেরিয়ে যাওয়ার পর এর সাক্ষাৎ অনেকের ভাগ্যেই হয়তো জুটবে না। তাই জুমাতুল বিদায় প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের বিশেষ তৎপরতা লক্ষ করা যায়। মসজিদে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা এবং বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা ও নিজের আত্মার আকুতি দয়াময় প্রভুর দরবারে পেশ করাই যেন এ দিনে সব মুসলমানের পরম আগ্রহের বিষয়।

জুমাতুল বিদার মাহাত্ম্য : দুটি কারণে জুমাতুল বিদা অত্যন্ত মহিমাময়—১. মাহে রমজানের কারণে : রমজান মাস সীমাহীন ফজিলতের মাস এবং এটি উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ উপহারস্বরূপ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : নিশ্চয়ই তোমাদের রব বলেছেন, বনি আদমের প্রত্যেকটি নেক-আমলের সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত দেওয়া হয় শুধু রোজা ছাড়া। কেননা, রোজা শুধুই আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। আর নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকে আম্বারের চেয়েও বেশি প্রিয়। তোমাদের কারো রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ তার সঙ্গে জাহেলের মতো আচরণ করে, তা হলে সে বলে দেবে, ‘আমি একজন রোজাদার।’ (সহিহ আল-বোখারি : ৫৯২৭, সহিহ মুসলিম : ১১৫১, মুসান্নেফে ইবনে আবি শাইবা : ৮৮৯৪, মুসনাদে আহমাদ : ৯৭১৪) আর জুমার দিনের মাহাত্ম্য সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : সূর্যোদয়ের মাধ্যমে যে দিনগুলো হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনে হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছিল, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং এ দিনেই তাঁকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছিল। আর এ দিনের মধ্যে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলমান নামাজরত অবস্থায় দোয়া করলে অবশ্যই তার দোয়া কবুল করা হয়। (সুনানে তিরমিজি : ৪৯১) রমজানের রোজা অবস্থায় জুমার দিনের নিশ্চিত দোয়া কবুলের শেষ সুযোগ হিসেবে জুমাতুল বিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

করণীয় : জুমার দিনের কিছু সুন্নত আমল রয়েছে, যেমন—১. সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করতে হবে, ২. নতুন বা উত্তম পোশাক পরতে হবে, ৩. আতর তথা সুগন্ধি ব্যবহার করতে হবে, ৪. হেঁটে মসজিদে যেতে হবে, ৫. আগে আগে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে, ৬. ইমামের কাছাকাছি জায়গায় বসতে হবে, ৭. ইমামের খুতবা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে, ৮. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করতে হবে, ৯. কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না, কোনো অনর্থক কাজ করা যাবে না। হজরত আওস ইবনে আওস আস-সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি জুমার দিনে ভালো করে গোসল করবে এবং আগে আগে হেঁটে মসজিদে যাবে এবং ইমামের কাছাকাছি বসে খুতবা মনোযোগ সহকারে শুনবে আর কোনোরকম অনর্থক কাজ করবে না, তাকে তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে লাগাতার এক বছর নামাজ ও রোজার সওয়াব দান করা হবে। (সুনানে ইবনে মাজা : ১০৮৭, সুনানে আবু দাউদ : ৩৪৫, আস্-সুনানুল কুবরা : ১৭০৩, সুনানে নাসাঈ : ১৩৮৪, মুসনাদে আহমাদ : ১৬১৭৬, সহিহ ইবনে হিব্বান : ২৭৮১)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়