• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

তোমাদের এ ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না

মো: নুর এলাহি মিনা, নিউইয়র্ক
|  ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৩:১৫

লেয়ার লেভিনকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার দরকার হয় না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ আমেরিকান ফিল্মমেকার তার স্টিল ও মুভি ক্যামেরাতে যদি রঙ্গিন ছবি না তুলতেন, তাহলে একাত্তর পরবর্তী প্রজন্ম কখনো ১৯৭১ সালের বাংলাদেশকে রঙ্গিনভাবে দেখতে পেত না।

আপনাদের মনে থাকার কথা ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের উপর তৈরি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'মুক্তির গান'র কথা। প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও তার সহধর্মিনী ক্যাথরিন মাসুদের হৃদয় নিংড়ানো মমতা আর সীমাহীন পরিশ্রমের ফসল এ 'মুক্তির গান'। তারা লেয়ার লেভিনের কাছ থেকে অরিজিনাল ফুটেজ এনে ব্যবহার করেছিলেন এ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সঙ্গীত ও নাট্য শিল্পীদের নিয়ে গঠিত যে তরুণ দল দেশের বিভিন্ন স্থানে গান গেয়ে, রাজনৈতিক পাপেট শো করে মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধে আটকে পড়া মুক্তিকামী মানুষদের উদ্দীপ্ত করেছিল; সে দৃশ্য সেলুলয়েডে ধারণ করেছিলেন লেয়ার লেভিন। অপার মমতায় বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এ সাংস্কৃতিক অংশগুলো।

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে 'ফ্রেন্ডস্ অফ লিবারেশন ওয়ার' অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেন। সোমবার নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে 'স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস' উপলক্ষে বিদেশি মেহমানদের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেখা হলো এই মহান ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। বিনম্র শ্রদ্ধায় তাকে আলিঙ্গন করলাম। প্রাণ খুলে বললাম, বাংলাদেশ তোমাকে আজীবন স্মরণ করবে, বন্ধু।

মনে পড়ে ঢাকা বেতার নিজস্ব শিল্পী বিপুল দা'র কথা। মুক্তিযুদ্ধের সেই যে তরুণ দল, যারা গান গেয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই তরুণ দলের তরুণ গায়ক ছিলেন বিপুল ভট্টাচার্য।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ১৬ বছর বয়সে গানে গানে বাংলার মুক্তিকামী মানুষের মনে প্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি। 'মুক্তির গান' ছবিটির ১১টি গানের ১০টিই এই সঙ্গীতশিল্পীর গাওয়া।

নিরহংকার, মৃদুভাষী, প্রচারবিমূখ এই স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিককে কাছে পেয়েছিলাম কিছুদিন; পেশাগত কারণে। খুব ভোরে তার সঙ্গে শিফটের ডিউটি পড়তো। কাজের ফাঁকে ফাঁকে মোহাবিষ্টের মতো তার কাছে ১৯৭১ সালের গল্প শুনতাম।

তার নস্টালজিক চোখের গভীরে নিজেকে হারিয়ে দেখে নিতাম মুক্তিযুদ্ধ। কন্ঠে গায়কী নেমে এসে ঠোঁটে সুর ফুটতো 'নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে..'। বিপুল দা বলতেন, ' ভালোইতো গান'! ২০১৩ সালে ক্যান্সার কেড়ে নিল বিপুলদাকে। বিপুল দা তুমি মনে দাগ কেটে থাকবে আজীবন, সীমাহীন মমতা, গভীর শ্রদ্ধা আর অব্যক্ত ভালোবাসায়।

এইচএম

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়