থেমে নেই ইয়াবা আসার চালান, বসে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও (ভিডিও)

প্রকাশ | ০২ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৩ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৫১

অভি ইসলাম, আরটিভি

কখনো মাছ বা শাক-সবজির গাড়িতে, কখনো-বা কম্পিউটারের সিপিইউ’র মধ্যে। যখন যেভাবে সুবিধা, সেভাবেই ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে ইয়াবা। 

মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাব-পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের পরও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেক ছোট-বড় চালান ঢুকছে। 

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকায় ধরাও পড়ছে তারা। মাদক পাচারকারীদের ধরতে বর্তমানে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে খবর আসে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নামবে রাজধানীর খিলক্ষেতে। পরে পুরো এলাকায় ছদ্মবেশে ছড়িয়ে পড়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি বাসে সবুজ গেঞ্জিতে থাকা এক ব্যক্তির হাতে থাকা বিশেষ ধরণের একটি প্যাকেট দেখতে পায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পরে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন গোয়েন্দা সদস্যরা।

সবুজ গেঞ্জি পরা ওই ব্যক্তি একটি গলি পেরিয়ে কিছুটা ভেতরের দিকে যেতেই সেখানে হাজির হন ডিবি সদস্যরা। পরে তিনি জানান তার হাতে থাকা প্যাকেটের ভেতরে কম্পিউটারের সিপিইউ’র মধ্যে, ২৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট আছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আওয়ামী লীগ নেতা ও তার স্ত্রী ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার
--------------------------------------------------------

এবার গোয়েন্দারা ওই ইয়াবা পাচারকারীর সঙ্গে জড়িত বাকিদের ধরতে ডিবি’র এক সদস্যকে সঙ্গে দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর নজরবন্দী ব্যক্তির মাধ্যমে আরেকজনকে ধরা হয়।
পরে তাদের এক কোরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ।

ডিবি উত্তরের ডিসি মশিউর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছেন তারা। তারপরও, ঝুঁকি নিয়ে, রাজধানীতে মাদক আসছে।

তিনি আরও জানান, ইয়াবার সাপ্লাই কমে যাওয়ায় এর দাম বেড়ে গেছে, ফলে বেশি টাকার আশায় মাদকপাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবার ছোট ছোট চালান নিয়ে আসছে।

মাদক নির্মূলে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানালেন ঊর্ধ্বতন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

এদিকে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগ্রাধিকারে আছে মাদকের চিহ্নিত স্পটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। সে অনুযায়ী অভিযানও চলছে। কিন্তু বারবার আটক হয়েও জামিনে বেরিয়ে এসে মাদক ব্যবসায়ীদের আবারও এতে জড়িয়ে পড়াকে মূল সমস্যা মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

মাত্র ছয় মাস আগে রাজধানীর মগবাজারের একটি আখড়া থেকে ইয়াবার বড় চালানসহ মণি নামে এক মাদকব্যাবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যা ব। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে তিনি ফের এতে জড়িয়ে পড়ে। র্যা ব পরে ওই এলাকার আবারও অভিযান চালিয়ে চিহিৃত মাদকব্যবসায়ী মণিকে ইয়াবা এবং খাজাসহ আটক করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর এতো তৎপরতার মধ্যেও শক্তিশালী একটি চক্র অনেকদিন ধরে এলাকাবাসীর সমানে মাদক বিক্রি করছে।  

একইভাবে, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, আগারগাঁও বস্তি, তেজগাঁও রেললাইন বস্তিসহ, চিহিৃত মাদকের স্পটগুলো নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে গেলেও কোনও না কোনওভাবে তারা বের হয়ে এসে ফের জড়িয়ে পড়ছে, প্রাণঘাতী বাণিজ্যে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, সব জিনিষ কন্ট্রোল কারা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। জামিনের বিষয়টি আদালতের, এটা তারাই দেখবে।  

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তরিকতা থাকলে, প্রচলিত আইনেই আসামিকে যথাযথ সাজা দেয়া সম্ভব।
 
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, যে আইন বিদ্যমান আছে সেটি দিয়ে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আইনের যে বিধান, যে স্বচ্ছতা, পরিপূর্ণতা এবং পরিপক্বতা দরকার গোঁড়া থেকে সেটি করলেই এই অপরাধীরা পার পাবে না।    

রাষ্ট্রের সব সংস্থা মাদকবিরোধী সর্বোচ্চ মনোভাব নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে মাদক নির্মূল সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন :

এসএস