• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ‘গলাচিপা’ কাঁচপুর ও মেঘনা সেতু

মো. শাহাদাৎ হোসেন স্বপন, নারায়ণগঞ্জ
|  ১০ জুন ২০১৮, ১৩:৫৩
প্রতিবারের মতো এবারের ঈদেও ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কয়েকটি স্থানের যানজট নিয়ে গভীর আশঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘরমুখো মানুষের চাপে যানজটের পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। 

আরটিভি অনলাইন এর এই প্রতিনিধির সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্র্যাফিক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে এ আশঙ্কার বিষয় জানা গেছে। তারা বলছেন- এবার ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে প্রবল যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঈদে ঘরমুখো এই মানুষদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য তারা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছেন। 

ঈদযাত্রায় সংশ্লিষ্টদের দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হচ্ছে মেঘনা ও কাঁচপুর সেতুতে কোনও গাড়ি বিকল হয়ে পড়া। যদি গাড়ি একবার বিকল হয়ে যায় সেটি সারাতে যে সময় লাগে ওই সময়টুকু যানজট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

এছাড়া ২৭ রমজানের পর গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একযোগে ছুটি হবার কারণে রাস্তায় চাপ আরও বেশি পড়ে। 

এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্পট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাংরোড এলাকার শিমরাইল মোড় পর্যন্ত আট লেনের হলেও কাঁচপুর সেতু দুই লেন হওয়ায় যানবাহন চলতে ধীর গতি হচ্ছে। ফলে এ স্থানে যানজটের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সেতুতে ভারি যানবাহন উঠতে গাড়ি বিকল হওয়ার কারণেও যানজট সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ চলায় রাস্তার ত্রুটির কারণেও যানজট হতে পারে। মহাসড়কের একটি অংশ ভাসমান হকারদের দখলে থাকার কারণে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্র্যাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল রশিদ আরটিভি অনলাইনকে জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্নে করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার, হাইওয়ে পুলিশ সদস্য ট্র্যাফিক বিভাগের সঙ্গে একযোগে রেশনিং পদ্ধতিতে কাজ করা হবে। গত বছরের মতো এবারও আশা করি ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন। 

এদিকে মেঘনা সেতুর টোল আদায়ে ধীরগতি এবং দুই লেনের সেতুর কারণে এ পয়েন্টে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ইন্সপেক্টর মোল্ল্যা তসলিম আরটিভি অনলাইনকে জানান, এবারের ঈদযাত্রা কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুকেন্দ্রীক হওয়ায় যানজট সম্ভাবনা রয়েছে। এই সেতু দুটি দুই লেন হওয়ার কারণে গাড়ি ওঠে খুব ধীরগতিতে। তখন গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেশি থাকলে সমান তালে পার না হতে পারায় পর্যায়ক্রমে গাড়ির সাড়ি লম্বা হতে থাকে। এছাড়া কাঁচপুর সেতু কিছুটা ঢালু অপরদিকে মেঘনা সেতু একটু খাড়া হওয়ায় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান বা ফিটনেসবিহীন গাড়ি সেতুতে উঠতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে। তখন নষ্ট গাড়ি সারাতে যে সময় লাগে তাতেই আরও তীব্র হয় যানজট। মূলত ২৭ রমজানের পর ঘরমুখো মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 

অপরদিকে একই সমস্যা কুমিল্লা দাউদকান্দি সেতু ও আশপাশ এলাকায়। চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের চালক মোবারক আরটিভি অনলাইনকে জানান, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বেশি হলেও মূলত কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজায় ধীরগতি টোলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এবারও যানজট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্ষার মৌসুম হওয়ায় যেকোনও সময় বৃষ্টি হলে যানজটের তীব্রতাও বেড়ে যেতে পারে। 

শিমরাইল মোড়ে স্টারলাইন কাউন্টারের পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে জানান, ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে আসার পর শিমরাইল মোড়ে পৌঁছানোর পর থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না যানজট কোথায় হবে। কারণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট অনেক সময় কাঁচপুর সেতুতে অথবা মদনপুর, মেঘনা টোলপ্লাজা বা দাউদকান্দিতেও হতে পারে। এমন যানজট গতবারও ছিল এবার এসব পয়েন্টে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাঁচপুর হাইওয়ের ওসি আব্দুল কাইয়ুম আরটিভি অনলাইনকে জানান, আমরা গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা ট্র্যাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি যাতে মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখা যায়। এছাড়া কাঁচপুর পয়েন্ট ভাসমান হকারদের দখলমুক্ত করতে পারলে যানজটের সমস্যা হ্রাস পাবে। তবে ঈদের আগে মহাসড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করা গেলে কিছু চাপ কম থাকবে। আশা করি মানুষ ঠিকভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন। 

অপরদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একমাত্র যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া অংশে। ট্র্যাফিক বিভাগ ও গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাউছিয়া পয়েন্টে বহুদিন ধরে যানজট হয়ে আসছে। এই পয়েন্টে রয়েছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি কাপড় মার্কেট। এ মার্কেটে এতো লোকের সমাগম হয় যা মহাসড়কের অনেকাংশ দখলে থাকে ফলে এখানে যানজটের তীব্রতা বেশি থাকে। এছাড়া বর্তমানে ভুলতা থেকে গাউছিয়া পর্যন্ত ফ্লাইওভার কাজ চলার কারণে গাড়ি চলাচলের লেন সরু হয়ে গেছে। তাই ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ পড়লে এ অংশেও যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্র্যাফিক বিভাগ বলছে, মহাসড়কের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে কাজ শুরু করবেন। 

জেবি/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়