• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

কসাই ম্যাজিকে মহিষ হয়ে যায় গরু!

আশিকুল আলম
|  ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৪৩ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৫৯
জাদুকরের জাদুতে অনেক কিছুই পাল্টে যায়। দর্শকের চোখে ভেল্কি লাগিয়ে একজন জাদুকর আমকে জাম, জামকে আম করে ফেলতে পারেন। কিন্তু তিনিও বোধহয়  এই নির্জলা আনন্দের খেলায় মহিষের মাংসকে গরুর মাংস করতে পারেন না!

অথচ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন মাংসের দোকানে কসাইয়ের ম্যাজিকে মহিষের মাংস হরহামেশাই হয়ে যায় গরুর মাংস। আর এতে করে মাংস কিনতে আসা ক্রেতারা প্রতিনিয়তই হচ্ছেন প্রতারণার শিকার।

সিটি করপোরেশন নির্ধারিত রাজধানীর কাপ্তান বাজারে পশু জবাই করা হয়। এই জবাইখানায় গরু, মহিষসহ বিভিন্ন ধরনের পশু জবাই হয়ে থাকে।

জবাই শেষে এসব মাংস চলে যায় ঢাকার বিভিন্ন বাজারগুলোতে। আর এসব বাজারেই কসাইরা প্রতারণা করে ক্রেতাদের কাছে মহিষের মাংসকে গরুর মাংস বলে চালিয়ে দেন।

কিন্তু এই প্রতারণা যাদের রোধ করার কথা তাদের এসব নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এমনকি খুঁজেও তাদের কাউকে পাওয়া যায় না।

নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই রাজধানীর এসব সিটি করপোরেশন নির্ধারিত পশু জবাইখানায়। সেখানে মেয়রের নামে কসাইদের ওপরও চলে নানা নির্যাতন। তাদের নেই কোনো ধরনের পরিচয়পত্রও। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় থাকেন না কোনো ডাক্তার।

প্রতি রাতে কত পশু জবাই হয় তার হিসেব মেলানো ভার। অভিযোগ আছে সব অনিয়মই হয় সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সহায়তায়। এ বিষয়ে কসাইদের মধ্যেও রয়েছে নানা ধরনের ক্ষোভ।

তারা জানান, এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থারও আছে ঘাটতি। প্রায়ই জবাই করার যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যায়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে জীবননাশের হুমকিও দেয়া হয় তাদের।

আসছে ডিসেম্বর মাসে কাপ্তান বাজারের এই ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন করার কথা রয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের।

কিন্তু পশু জবাইয়ের বিকল্প কোনো স্থান এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তাই এ কাজে নিয়োজিতদের দাবি দ্রুত একটি সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার।

 

আরকে/জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়