• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

শিশুমন বিকশিত হবার আগেই নির্যাতনের শিকার শিশুরা

শাহাবু্দ্দিন শিহাব
|  ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:৪৭
প্রত্যেক শিশুই ফুলের মতো ফুটবার এবং জীবনকে বিকশিত করার দাবি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। কিন্তু দেশে কিছু মানুষের অমানবিক আচরণ, সামাজিক অসংগতির কারণে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে শিশুরা।

শিশুদের সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন নিয়মনীতি থাকলেও বেড়েই চলছে শিশু নির্যাতন।

তেমনি এক নিষ্ঠুর ঘটনার শিকার ময়মনসিংহের কিশোর সাগর। চুরির অভিযোগে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ফেলে দেয়া হয় কাশবনে।

প্রায় একই অভিযোগে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে ১৩ বছরের শিশু রাজনকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ফেনীর আরেক শিশুকে বিবস্ত্র করে নিষ্ঠুরতা চালানো হয় চুরির অভিযোগে। 

অন্যদিকে বগুড়ায় টাইলস কারখানার শিশু শ্রমিক রাসেলকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করে তারই সহকর্মী।

একইভাবে হত্যা করা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সুতা কারখানায় ১০ বছরের শিশু শ্রমিক সাগর বর্মণ, সিরাজগঞ্জের শিশু শ্রমিক কাইয়ুম, খুলনার রাকিব এবং লক্ষ্মীপুরে মিলনকে।

এমন নির্মমতা প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও চলছে। আবার অনেক সময় শ্লীলতাহানির বা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে শিশুরা। 

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ২০১৩ সালে ছয়টি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ পর্যালোচনায় জানিয়েছে, ২০১৩ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৬৭ শিশু, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১২ শিশুকে, নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয় ২৩৯ শিশু, ধর্ষণ ছাড়াও অন্যান্যভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ১৫০ শিশু, এসময়ে অপহৃত হয় ৯০ শিশু।

ফাউন্ডেশনটি জানায়, গেলো চার বছরে পারিবারিক কলহ, মুক্তিপণ না পেয়ে, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মা-বাবার পরকীয়ার জেরে খুন হয়েছে ৩৩৫ শিশু। এসময়ে পাচার হয় ৪২ শিশু, অ্যাসিডদগ্ধ হয় ১০ শিশু, এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে মারা যায় ৪১ শিশু।

এসব নির্যাতন বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন, সমাজবিজ্ঞানীরা।

এ অবস্থায় সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, জাতির আগামী দিনের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এছাড়া এক্ষেত্রে এখনই সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। 

আরকে/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়