• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

নানা সংকটে দেশের পোল্ট্রি শিল্প

মাইদুর রহমান রুবেল
|  ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:৩৩ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:৪২
নানা সংকটে দেশের প্রাণীজ আমিষের অন্যতম উৎস পোল্ট্রি শিল্প। এই সংকট সমাধান না করতে পারলে দেশে গর্ভবতী মা ও শিশুসহ সবারই পুষ্টির চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেবে।

বাংলাদেশের পূর্ণ বয়স্ক মানুষের শারীরিক গঠন অনুযায়ী প্রতিদিন ১শ’২০ গ্রাম মাংস খাওয়া প্রয়োজন। অথচ দেশের মানুষ গড়ে প্রতিদিন মাংস পাচ্ছে মাত্র ২১ গ্রাম।

একইভাবে একজন মানুষের বছরে ১শ’৪টি ডিম খাওয়া দরকার। সেখানে প্রতিবছর গড়ে একজন মানুষের ডিম খাওয়া হচ্ছে মাত্র ৪৬টি। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, চর্বি, জিংকসহ নানা উপাদানে সমৃদ্ধ পোল্ট্রির মাংস ও ডিমের মত প্রাণীজ আমিষ খাওয়ার দিক থেকে এভাবেই পিছিয়ে আছে দেশের মানুষ। 

গবেষণায় দেখানো হয়েছে, অপুষ্টির কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪১ শতাংশ শিশু খাটো, ৩৬ শতাংশ শিশু কম ওজন, এবং ১৬ শতাংশ শিশু ভুগছে উচ্চতার তুলনায় ওজন স্বল্পতায়। এছাড়া রক্তস্বল্পতায় ভুগছে ৫১ শতাংশ শিশু ও ৪২ শতাংশ গর্ভবতী মা। এসব সমস্যার কারণে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে ৫৩ হাজার শিশু।

জনস্বাস্থ্যের এত বড় সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে যে খাত দেশের সেই পোল্ট্রি শিল্পই আছে সংকটে। এদিকে বিগত বছরের তুলনায় কমেছে মুরগী এবং ডিমের দাম। তবে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় খামার বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক খামারি।

অন্যদিকে পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণীজ আমিষের এ ঘাটতি থেকে জন্ম নেবে রোগাক্রান্ত নবজাতক। যার খেসারত দিতে হবে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।

প্রাণীজ আমিষের যোগানদার পোল্ট্রি শিল্পের সংকট সমাধানে এখনই উদ্যোগ না নিলে একদিকে দেশে আশঙ্কাজনকভাবে দেখা দিবে পুষ্টিহীনতা, অন্যদিকে বাড়বে বেকার সমস্যা।

 

আরকে/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়