close
ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ০৪ ভাদ্র ১৪২৪

জরাজীর্ণ লঞ্চ রঙ করে ঈদে যাত্রী পারাপারের প্রস্তুতি (ভিডিও)

নাজিব ফরায়েজী
|  ১৯ জুন ২০১৭, ১৯:০৬ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৭, ১৯:২৫
নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচল করে ‘এম এল শাহান’। ঈদ উপলক্ষে রঙয়ের প্রলেপ দিয়ে ৫৩ বছরের পুরনো লঞ্চটিকে চকচকে করার চেষ্টা হলেও কাজ হয়নি। অবস্থা অনেকটা ‘উপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট’র মতো।

ঈদ সামনে রেখে জরাজীর্ণ এমন অনেক লঞ্চকে রঙ করে যাত্রী পারাপারে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ লঞ্চগুলো নদীতে চলার সময় মাঝ নদীতে স্টার্টও বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া এর তলার ফুটো লুকাতে দেয়া হয়েছে সিমেন্টের প্রলেপ।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচল কারা ‘এম এল শাহান’ লঞ্চটি ১৯৬৪ সালে তৈরি করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে এর নকশা বদল করা হয়। এ লঞ্চটির ডেকের অবস্থা এখন ভয়াবহ।

অথচ গেলো বছরের আগস্টে ফিট ঘোষণা করে এক বছরের জন্য লঞ্চটিকে চলাচলে অনুমতি দেন সার্ভেয়ার। আর লঞ্চটি মাস্টারের বদলে চালাচ্ছেন ইঞ্জিন অপারেটর গ্রিজার বা হেল্পাররা।

‘এম এল শাহানে’র মতোই অবস্থা ১৯৬০ সালে তৈরি ‘শাহ আলী প্লাসে’রও। এটিও চলে নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর রুটে।

তবে অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে এটির সংস্কারের কাজ শুরু হয়। অথচ অবাক করার বিষয় হলো সংস্কার শুরুর এক মাস আগেই এটিকে ফিট ঘোষণা করেন সার্ভেয়ার। সার্ভে কাগজে এক বছরের জন্য চলাচলের অনুমতি দেন।

সে অনুযায়ী ১ জুন বন্দর কর্তৃপক্ষ নৌ-পথের সময়সূচিও দেয়। কাগজপত্র অনুযায়ী ২ মে সার্ভেয়ার সার্ভে শেষে সন্তোষজনক অবস্থায় পেয়ে ২০১৮ সালের ১২ মে পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেয়ার সুপারিশ করেন। যা সার্ভে জালিয়াতির একটি বড় উদাহরণ। 

এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ডকইয়ার্ডেও এমন অসংখ্য জরাজীর্ণ লঞ্চকে রংচং করে ঈদে যাত্রী পারাপারে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাদের বেশিরভাগেরই ফিটনেস সনদ নেই।

তবে এসব অসাধু লঞ্চ মালিকদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন মালিক সমিতি।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। জানান, পুরনো লঞ্চের বিষয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা।

 

আরকে/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়