• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

মসজিদের পাশে কবর চাই: কনকচাঁপা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৩ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৫৯
ছবি: সংগৃহীত
সুরের মায়াজালে অসংখ্য মানুষকে মুগ্ধ করেছেন কনকচাঁপা। দেশের নন্দিত এই সঙ্গীতশিল্পীর জন্মদিন আজ (১১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৬৯ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিশেষ এই দিনে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখেছেন কনকচাঁপা।

তিনি লিখেছেন- “প্রতিটি কর্মদিবসই আমার জন্মদিন। কাজের মাঝেই এবং কাজের জন্যই আমার জন্ম। আমি একজন আপাদমস্তক কণ্ঠশ্রমিক। সবাই একটা নির্দিষ্ট তারিখে জন্ম নেয়। কারও বাবা-মা সে তারিখ মনে রাখে, কারও বাবা-মা জন্ম দিয়ে বাচ্চা লালন করার তাগিদে সেই তারিখ ভুলে যান। আমি সৌভাগ্যবান কারণ আমার বাবা সে তারিখটি সযত্নে নিজ ডায়েরির পাতায় লিপিবদ্ধ করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।”

জন্মদিন পালন করা নিয়ে কনকচাঁপা লিখেছেন- “কেক কেটে মোম জ্বালিয়ে স্বজনদের দাওয়াত করে উৎসব পালনের রেয়াজ আমাদের পরিবারে ছিল না। যখন কিশোরী হয়ে উঠছিলাম তখন দুয়েক বছর বান্ধবীদের ডেকে মা পায়েস চানাচুর কেক নুডলস কলা দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন বটে; এর পরই বিয়ে হয়ে গেলো সেই কিশোরী থাকতেই। স্বামী একজন মিউজিক ডিরেক্টর। বলা যায় দুজনই বেকার। গান গাওয়ার জন্য বিটিভি, বাংলাদেশ বেতারে যাওয়ার রিকশাভাড়া জোটানোও ভয়াবহ কঠিন কাজ ছিল। জীবন বাঁচাতে জীবিকার পেছনে ছুটতে ছুটতে এই কিশোরী তখন দুবাচ্চার মা।”

তিনি আরও লিখেছেন- “গান গেয়ে যেভাবে মানুষের মনে নিজ পরিচয় নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম তাতে এখনকার যুগ হলে স্টার হয়ে যেতাম। ইউটিউবে ভিউ কোটির ঘর ছাড়িয়ে যেতো। কিন্তু কখনোই বুঝতে সক্ষম হইনি যে আমার গান মানুষ শোনে বা আমি জনপ্রিয় কেউ। চুরাশি সালে প্রথম ছবির গান গাইলেও নব্বই দশকে ছবির গান গাওয়া নিয়মিত হলো। তখন থেকেই জীবন আর আমার হাতে রইলো না এবং জন্মদিন ভুলেই গেলাম।”

সঙ্গীতজীবনের ব্যস্ততম সময়ের জন্মদিনের কথা উল্লেখ করে কনকচাঁপা লিখেছেন- “কত জন্মদিন মঞ্চে রেকর্ডিং স্টুডিওতে পার করেছি ইয়ত্তা নেই। কেউ জানতোও না মাইক্রোফোনে দাঁড়ানো কণ্ঠশ্রমিকের আজ জন্মদিন। যাদের আন্ডারে অর্থাৎ যে মিউজিক ডিরেক্টরদের সুরে গান গাইতে সারাদিন সারামাস স্টুডিওতে কাটিয়েছি অথবা এফডিসির কেউ, তারাও বলতে পারবেন না আমার জন্মদিন কবে। কখনও কোন পেপার পত্রিকার কাছ থেকে শুভেচ্ছা শুভকামনা পাইনি। ঘরের মানুষও প্রায় বছরই ভুলে গেছেন একথা। ভুলে যাওয়াটা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হয়েছে। কত জন্মদিন ফ্লাইটে কাটিয়েছি, ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী বলে ফ্লাইটের তরফ থেকেও সে শুভাশিস পাইনি। ছেলেমেয়ে মেয়ে জামাই, আমার অনলাইন স্কুলের সন্তানসম ছাত্রছাত্রীরা, তারা যদিও জন্মদিন পালন করে এখন খুব আগ্রহভরে। কিন্তু এখন আর এইসব সেভাবে আমাকে টানে না।”

কনকচাঁপা আরও লিখেছেন- “যে মহামানব হযরত মুহাম্মাদ সঃ এর জন্য এই পৃথিবীর জন্ম তার জন্মদিন মৃত্যু দিবস পালন যেখানে নিয়ম নাই সেখানে আর কারও জন্মদিবস পালন অর্থহীন। যদিও সেপ্টেম্বর মাস এবং এগারও সংখ্যা আমার খুবই প্রিয়। হাজার হলেও আমি মানুষ, নিজেকে ভালোবাসি, তাই হয়তো এর বাইরে যাওয়ার সাধ্য আমার নাই। তবে আমি কখনোই আমার জন্মদিন এবং মৃত্যুদিন পালন করা হোক এ আমি চাই না।”

মৃত্যুর পর মসজিদের পাশে যেন কবর দেয়া হয় সেই ইচ্ছার কথা জানিয়ে কনকচাঁপা লিখেছেন- “এ বছর আমি ঊনপঞ্চাশে পা রাখবো। কর্মহীন দীর্ঘজীবন আমার খুবই অপছন্দ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে চাই। সুরের সাথে ন্যায়ের সাথে ভালো কাজের সাথেই থাকতে চাই। আরও ভালো কিছু কাজ করতে চাই। এই আমার বড় ইচ্ছা। মৃত্যুর পর শহীদ মিনারে যেতে চাই না একদমই, এটাও আমার বড় ইচ্ছা। মসজিদের পাশে কবর চাই, এটাও আরেকটি সুপ্ত ইচ্ছা।”

নিজেকে তারকা মনে করেন না কনকচাঁপা। তিনি লিখেছেন- “সত্যিকার অর্থেই জন্মদিনের প্রতি আলাদা কোনও দুর্বলতা আমার নেই। একথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই। আর আমি কোনও সেলিব্রিটি বা তারকা নই যে আমার জন্মতারিখ কাউকে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতি করার জন্য আমি গান গাইনি, আমি গান গেয়েছি নিজের জীবিকার তাগিদে। তাই দেশের মানুষের কাছে সুশীল সমাজের কাছে, সরকারের কাছে আমার কোনোই চাওয়া নেই, আক্ষরিক অর্থেই এক ফোঁটাও চাওয়া-পাওয়া নেই। জন্মদিন তো দূরের কথা।”

আরও পড়ুন  :

পিআর/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়