জন্মদিন ঘটা করে আয়োজন বিব্রতকর: রামেন্দু মজুমদার

প্রকাশ | ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:২০ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩২

পাভেল রহমান, আরটিভি অনলাইন
ছবি: সংগৃহীত

‘নিজের জন্মদিন ঘটা করে আয়োজন করা বিব্রতকর।’ এমনটাই মনে করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। তিনি বলেন- ‘উৎসব আমার ভালো লাগে, অন্যের জন্মদিনে যেতেও আপত্তি নেই। কিন্তু নিজের জন্মদিন পালনের মতো পাবলিক ফাংশন আমার ভালো লাগে না। আমি বসে থাকবো, সবাই আমার প্রশংসা করবে এটা শুনতে ভালো লাগে না।’

আজ বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের জন্মদিন। আরটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘নিজের জন্মদিনকে ঘিরে মানুষের উপচেপড়া ভিড় আর নিজে একজন কয়েদির মতো করে বসে থাকাটা আমার কাছে বিব্রত লাগে। এমনিতে মানুষ ফোনে কিংবা সরাসরি শুভেচ্ছা জানায়। একবার অনেক জোর করে আমাকে রাজি করিয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সে কী বিব্রতকর অবস্থা।’

আজ কিভাবে কাটবে জানতে চাইলে রামেন্দু মজুমদার বলেন- ‘এ দিনটি অন্য সব দিনেই মতোই। তবে সবার ভালোবাসায় দিনটি বিশেষ হয়ে ওঠে। এবারের জন্মদিনটিও সাদামাটাভাবেই কাটাব। তবে দুটো টেলিভিশন চ্যানেল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় আরটিভি’র সরাসরি সম্প্রচারিত ‘তারকালাপ’অনুষ্ঠানে এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় চ্যানেল আইয়ের সরাসরি সম্প্রচারিত ‘তারকা কথন’অনুষ্ঠানে অংশ নেবো। এছাড়া সন্ধ্যায় ঘরোয়াভাবে আমার নাট্যদলের সবার সঙ্গে সময় কাটাবো।’

১৯৪১ সালের ৯ আগস্ট লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন রামেন্দু মজুমদার। ছাত্রাবস্থায়ই থিয়েটারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করার পথে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। নাট্যসংগঠন ‘থিয়েটার’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন শুরু থেকেই। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নাট্যবিষয়ক পত্রিকা ‘থিয়েটার’ সম্পাদনা করছেন।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : নাট্যশালায় আবারও ‘মর্ষকাম’
-------------------------------------------------------

ইউনেস্কোর অধীনে আন্তর্জাতিক নাট্য সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট’-এর সভাপতি হিসেবে পরপর দু’বার দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে এটির সাম্মানিক সভাপতির পদে রয়েছেন। কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার তার স্ত্রী। তাদের একমাত্র সন্তান অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক ত্রপা মজুমদার।

রামেন্দু মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) ও এমএ পাস করে তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নেন পেশা হিসেবে। নোয়াখালীর চৌমুহনী কলেজে বছর তিনেক শিক্ষকতার পর পেশা পরিবর্তন করে ১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে বিজ্ঞাপনশিল্পে যোগ দেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি এবং বঙ্গন্ধুর বক্তৃতা, বিবৃতির একটি ইংরেজি সংকলন সম্পাদনা করে দিল্লি থেকে প্রকাশ করেন। ১৯৭২-এ দেশে ফিরে বিটপি অ্যাডভার্টাইজিংয়ে পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ এ প্রতিষ্ঠা করেন এক্সপ্রেশানস্- যেখানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত।

বেতার ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করছেন যথাক্রমে ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সাল থেকে। এ দুটো মাধ্যমে দীর্ঘদিন সংবাদ পাঠ করেছেন। মঞ্চে অভিনয় করছেন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। বাংলাদেশের নব নাট্যচর্চা ও আন্দোলনে রামেন্দু মজুমদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

‘থিয়েটার’নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ‘থিয়েটার’পত্রিকার সম্পাদক, ‘আবদুল্লাহ আল-মামুন থিয়েটার স্কুল’-এর অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হিসেবে তার সংযুক্তি বাংলাদেশের নাটক ও সংস্কৃতি চর্চাকে বেগবান করেছে।

বাংলাদেশের নাটককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করাতে রামেন্দু মজুমদার পালন করছেন অগ্রণী ভূমিকা। তিনি ১৯৮২ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট’(আইটিআই) এর বাংলাদেশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ আইটিআই কেন্দ্রকে একটা মর্যাদার আসনে পৌঁছাতে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন।

তার মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থ সংখ্যা ১৭। তিনি বিভিন্ন সম্মাননা ও পদক পাওয়া ছাড়াও ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন। বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করেছে। রামেন্দু মজুমদার দ্বিতীয় এশিয়ান হিসেবে বিশ্বনাট্য সভা ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন অনন্য গৌরব।

আরও পড়ুন : 

পিআর/পি