• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

‘দর্শকের সামনে প্রতিটা প্রদর্শনীই নতুন চ্যালেঞ্জ’

পাভেল রহমান
|  ০৬ মে ২০১৮, ২১:২৫
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ মঞ্চে নিয়ে আসছে নাটক ‘দ্য লোয়ার ডেপথস’। ৭ থেকে ১১ মে টানা পাঁচদিন দুনিয়ার শ্রমজীবী, নিপীড়িত, বাস্তুহারা, সর্বহারা, রাষ্ট্রহারা মানুষের উদ্দেশ্যে এই নাটকটির প্রদর্শনী হবে। ঢাবির নাটমণ্ডলে নাটকের প্রদর্শনী শুরু হবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায়। ম্যাক্সিম গোর্কির লেখা এই নাটকটি অনুবাদ করেছেন তানভীর মোকাম্মেল। নির্দেশনা দিচ্ছেন বিভাগের তরুণ শিক্ষক তানভীর নাহিদ খান। এই নাটকের প্রদর্শনী ও থিয়েটারের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে সম্প্রতি আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন নির্দেশক তানভীর নাহিদ খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান।

আপনার নির্দেশনায় মঞ্চে আসছে ‘দ্য লোয়ার ডেপথস’। এই বিষয়ে জানতে চাই?

ঢাবি থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসছে। নাটকটিতে অভিনয় করছেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা। ঢাবি’র শিক্ষক হিসেবে এই নাটকটিই আমার প্রথম নির্দেশনা।

আপনি তো এই বিভাগ থেকেই স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন?

২০০৮ সালে আমি ঢাবিতে নাট্যকলায় উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়। তবে থিয়েটারের সঙ্গে সম্পর্কটা ছিল ছোটবেলা থেকেই। ঢাবি থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ২০১৭ সালের শেষের দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ের নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হই। ২০১৮ সালের মার্চে জয়েন করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন, এখন শিক্ষক হিসেবে নাটক নির্দেশনা দিচ্ছেন। কোনো চাপ অনুভব করছেন?

থিয়েটারে তো চাপ থাকবেই, প্রতিমুহূর্তেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। দর্শকের সামনে প্রতিটা প্রদর্শনীই নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জ। এই নাটকে যারা অভিনয় করবেন, তারা সবাই পরীক্ষার অংশ হিসেবে নাটকটিতে অভিনয় করবেন। নির্দেশক হিসেবে আমিও কিন্তু পরীক্ষার্থী। দর্শকই আমাদের পরীক্ষক। আমরা অপেক্ষায় থাকবো দর্শকের।

‘দ্য লোয়ার ডেপথস’ নাটকটিই কেন বেছে নিলেন?

আমার মনে হয়েছে, পুরো বিশ্বের সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় খুবই প্রাসঙ্গিক একটি নাটক ‘দ্য লোয়ার ডেপথস’। ম্যাক্সিম গোর্কির এই নাটকে শ্রমজীবী, নিপীড়িত, বাস্তুহারা, সর্বহারা, রাষ্ট্রহারা মানুষেরা তাদের স্বপ্নের কথা বলে, তাদের অধিকার হারানোর কথা বলে।

থিয়েটারে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন কিভাবে?

আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন চাঁদপুরে অনন্যা নাট্য গোষ্ঠীতে থিয়েটারচর্চা শুরু। সেখান থেকেই থিয়েটারের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। এখনো থিয়েটার নিয়েই পড়ালেখা করছি।

বাংলাদেশের সমকালীন নাট্যচর্চা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন শুনতে চাই?

আমাদের দেশে শুধুমাত্র নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা হয়ে আসছে, সেটা পুরো পৃথিবীতেই বিরল দৃষ্টান্ত। উন্নত দেশগুলোতে থিয়েটার করার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা জীবিকা নির্বাহ করেন। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও থিয়েটারশিল্পীরা সরকার থেকে বেতন পান। আমাদের দেশে থিয়েটারকর্মীরা এখনো নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান। থিয়েটারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরি।

এখন তো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলায় উচ্চতর পড়ালেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন?

আন্তর্জাতিক থিয়েটারের সাথে আমাদের তাল মেলাতে হলে একাডেমিক পড়ালেখাটা জরুরি। আমাদের দেশে থিয়েটার নিয়ে পড়ালেখার পর ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন থিয়েটার দলে চাকরি করার প্লাটফর্ম তৈরি হয়নি। ফলে নাট্যকলার শিক্ষার্থীরা মিডিয়া, এনজিও কিংবা নানামুখী পেশার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে জীবিকার তাগিদে। কেউ কেউ নাট্যকলায় পড়ার পরও জীবিকার প্রয়োজনে থিয়েটার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তাই থিয়েটারে পেশাদারিত্ব তৈরিটা খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে।

আপনাকে ধন্যবাদ

আপনাকেও ধন্যবাদ। ‘দ্য লোয়ার ডেপথস’ নাটকটি দেখার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ।

পিআর/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়