‘এটা আমার অভিনয় জীবনের সেরা ঘটনা’

প্রকাশ | ০২ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:০৫ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:২৬

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া।

দর্শকের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে মোমেনা চৌধুরী অভিনীত নাটক ‘লালজমিন’। ২০১১ সালের ১৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডলে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয়। এরপর ইংল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মঞ্চে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়ে প্রশংসিত হয়েছে। এবার নাটকটি ১৫০তম প্রদর্শনীর মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। আগামী ৬ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই নাটকটির ১৫০তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ‘লালজমিন’ নিয়ে আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান।

‘লালজমিন’ শুরুর সময়ের কথা শুনতে চাই?

এই নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ২০১১ সালের ১৯ মে। এরপর বাংলাদেশের পাশাপাশি বিদেশেও নাটকটির একাধিক মঞ্চায়ন হয়েছে। ইংল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মঞ্চে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। সবাই নাটকটিকে পছন্দ করেছেন। এই নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা হয়েছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: ভিলেন চরিত্রে কেন সালমান?
--------------------------------------------------------

নাটকটির গল্প ও কুশীলবদের বিষয়ে জানান?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘লালজমিন’ নাটকের কাহিনি। কিশোরী একটি মেয়েকে ঘিরে এর গল্প আবর্তিত হয়। শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, তারপর আরও কয়েকটি দশক। সেই কিশোরীর মনে জেগেছে নতুন কিছু প্রশ্ন। লাল জমিন এমনই কিছু প্রশ্নের উৎসভূমি। মান্নান হীরার রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন জুলফিকার চঞ্চল ও রামিজ রাজু। কণ্ঠ দিয়েছেন বারী সিদ্দিকী, রামিজ রাজু ও নীলা। আলোক পরিকল্পনায় সুদীপ চক্রবর্তী। কস্টিউম ডিজাইন করেছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং তাকে সহযোগিতা করেছেন নীলা মমতাজ।

নাটকটি তো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুদান পেয়েছে?

হ্যাঁ, এই নাটকটি যেন সারাদেশে মঞ্চায়ন করা হয় তার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে ১১ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ৪৪টি জেলা, উপজেলায় ‘লালজমিন’ নাটকটির মঞ্চায়ন করা হবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাটকটির মঞ্চায়ন করেছি। ১১ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ভ্যাট আর ট্যাক্স বাবদ কেটে নেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সম্ভবত এই প্রথম কোনো নাটককে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এত বড় আকারে পৃষ্ঠপোষকতা করা হলো। এভাবে যদি ভালো নাটককে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় এবং সারাদেশে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়; তবে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যরকম একটা পরিবর্তন আসবে।

১৫০তম মঞ্চায়নের অপেক্ষায় লালজমিন। এই মুহূর্তে কী বলবেন?

এটা জীবনের সেরা আনন্দের ঘটনা হতে যাচ্ছে। একক অভিনীত কোনো নাটক বাংলাদেশে ১৫০তম মঞ্চায়নের গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে। এমন একটা মুহূর্তের জন্য ভীষণভাবে অপেক্ষায় আছি। আমি ভীষণ এক্সাইটেড। আগামী ৫ এপ্রিল মৌলভীবাজারে নাটকটির ১৪৯তম এবং পরদিন ৬ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলে বিজয়ী থিয়েটারের আমন্ত্রণে হতে যাচ্ছে ‘লালজমিন’ নাটকের ১৫০তম প্রদর্শনী। থিয়েটারে আমার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পথ চলা। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য এটা ভীষণ আনন্দের ঘটনা। নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এই সাত বছরে নাটকটির ১৪৮টি প্রদর্শনী করেছি। এবার ১৫০ এর মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আরণ্যক নাট্যদল, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে যারা আমাদের নাটকটি মঞ্চায়নের সুযোগ করে দিয়েছেন।

আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ। আরটিভি অনলাইন পাঠকের জন্য শুভকামনা।

আরও পড়ুন:

পিআর/পি