• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ব্যক্তিজীবন নিয়ে কৌতূহল, ব্যক্তিগতই থাক: হানিফ সংকেত

পাভেল রহমান
|  ৩০ মার্চ ২০১৮, ১৩:১৪ | আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৮, ১৩:৫৫
ছবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইত্যাদি’র শুটিংয়ের দৃশ্য
অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে জায়গা দখল করে আছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। হানিফ সংকেতের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে শিক্ষা, সাহিত্য, সঙ্গীতে সমৃদ্ধ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। গত ১৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর তীরে তিতাসপাড়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডের এক নম্বর কূপের সামনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ঐতিহ্যের আবহে সাজানো মঞ্চে ধারণ করা হয় এবারের ইত্যাদি। আজ ৩০ মার্চ শুক্রবার রাত ৮ টার বাংলা সংবাদের পর বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এ প্রচারিত হবে অনুষ্ঠানটি। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। অনুষ্ঠানটির নানা বিষয় নিয়ে আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন হানিফ সংকেত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: শাকিব খান হাসপাতালে, তবে শঙ্কামুক্ত
--------------------------------------------------------

ইত্যাদির দৃশ্যধারণের জন্য এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বেছে নিলেন কেন?

আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদি ধারণের ধারাবাহিকতায় আমরা এবার গিয়েছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। যেহেতু ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযুদ্ধের বহু বীরত্বগাঁথায় সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী জেলা, তাই স্বাধীনতার এই গৌরবোজ্জ্বল মাসে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বেছে নিয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত তিতাস গ্যাস ফিল্ডের এক নম্বর কূপকে পেছনে রেখে এবারের ইত্যাদির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই গ্যাস ফিল্ডের ট্রান্সমিটার (রেডিও ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা) ব্যবহার করে স্থানীয় জনগণ রেডিও সম্প্রচারের মতো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

এবারের ইত্যাদিতে বিশেষ আকর্ষণ কী থাকবে?

এবার বলে নয়, ইত্যাদির প্রতিটি পর্বই আমরা বিশেষ বলে মনে করি। যেহেতু ইত্যাদির প্রতিটি পর্বই ধারণ করা হয় বিভিন্ন জেলায় এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, তাই মঞ্চ নির্মাণেও থাকে বৈচিত্র্য। এরপর ঐ জেলার শিল্পীদের দিয়ে বিভিন্ন পর্ব করানো হয়। সেখানেও থাকে বৈচিত্র্য। যেমন এবারের পর্বে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। ছিলেন অভিনয় শিল্পী জাকিয়া বারী মম ও সাজু খাদেম। রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। এছাড়াও এবারের পর্বে রয়েছে বেশ ক’টি হৃদয়ছোঁয়া প্রতিবেদন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শুনতে চাই।

তিতাস নদীর তীরে গ্যাস ফিল্ডের ১ম কূপের সামনে ইত্যাদি ধারণ করা হয়। গ্যাস ফিল্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মঞ্চের চারিদিকে জ্বালানো হয়েছিল গ্যাসের মশাল, আর পুরো মঞ্চ জুড়েই ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীতে সমৃদ্ধ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বিষয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দর্শকরা ছিলেন অত্যন্ত উচ্ছল ও সহযোগিতা প্রবণ। রাত ১১টা পর্যন্ত তারা মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন ইত্যাদির ধারণ পর্ব। অনুধাবন করেছেন একটি ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে হলে কতটা শ্রম দিতে হয়। অনুষ্ঠান ধারণের দিন হাজারো দর্শক সমাগম হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন আর সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে ধারণ করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দর্শকদের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

ইত্যাদির শুরুটা কোন ভাবনা থেকে করেছিলেন?

কোনো কিছুই বিশেষ ভাবনা থেকে করি না। আর আমি একসঙ্গে অনেক কিছু করি না। একটি বিষয়ের প্রতিই মনোযোগ দিতে চেষ্টা করি। তাই প্রায় ৩০ বছর ধরে এই একটি অনুষ্ঠান নিয়েই আছি, যেখানে আমার উপস্থিতি থাকে।

৩০ বছর পেরিয়ে এখনো জনপ্রিয় ইত্যাদি। বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আমরাও সব সময় বলি ইত্যাদি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান। কারণ একটি শিশুও যেমন ইত্যাদি দেখে, তেমনি তার দাদুও দেখেন। ইত্যাদিতে আমরা সবার কথা বলতে চেষ্টা করি। কারণ দেশ গড়ায় সবার অবদান রয়েছে। আর তাই আমরা ইত্যাদিকে নিয়ে যাই গ্রামে-গঞ্জে, সাধারণ মানুষের কাছে। দর্শকরা সময় বের করে আমাদের অনুষ্ঠান দেখতে বসেন। আমিও তাদের সেই সময়ের মূল্য দিতে চেষ্টা করি। কারণ সাধারণ মানুষের সমর্থন, সহযোগিতা, ভালোবাসার কারণেই ইত্যাদি পাড়ি দিতে পেরেছে এই ৩০ বছরের দীর্ঘ পথ।

এই প্রথম আলী আকবর রুপুকে ছাড়া ইত্যাদি। এই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলুন।

ইত্যাদির দীর্ঘ দিনের পথ চলার সাথী অধিকাংশ গানের সুরস্রষ্টা আলী আকবর রুপু। শুধু সঙ্গীত পরিচালনাই নয়, আমার সঙ্গে তার ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। দেশাত্মবোধক গানে তার জুড়ি মেলা ভার। যে নামটি গত তিন দশক ধরে বলে এসেছি, সেই আলী আকবর রুপু নামটি এবারের অনুষ্ঠানে বলতে পারিনি। কারণ আমাদের সবাইকে শোকাহত করে পৃথিবীর সকল বাঁধন ছিন্ন করে রুপু চিরবিদায় নিয়েছে। ভীষণ কষ্ট লেগেছে। রুপুর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

টিভি নাটক নির্মাতা হিসেবে আপনাকে দেখেছি। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে দেখা যাবে কবে?

বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, লেখালেখি, ইত্যাদি, বিশেষ দিনের বিশেষ নাটক এসব নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকতে হয় যে-ছবি নির্মাণ করতে গেলে যে সময়ের প্রয়োজন তা এখনও পাইনি। আর তাছাড়া এখনও ইত্যাদিকেই আমি বেশি গুরুত্ব দেই কারণ এর মাধ্যমে সরাসরি কিছু মানুষের উপকার করতে পারি। কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।

আপনার ব্যক্তিজীবন নিয়ে মানুষের অনেক কৌতূহল। শোবিজ অঙ্গনের কাজের বাইরে ব্যক্তি হানিফ সংকেত সম্পর্কে কিছু শুনতে চাই।

পর্দার বাইরেও আমি কিছু সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে থাকি। আর ওটাও আমার একটি বড় তৃপ্তির জায়গা। ব্যক্তিজীবন নিয়ে কৌতূহল, ব্যক্তিগতই থাক। মানুষ দেখবে আমার কাজ। আর এই কাজটাই একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। 

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ইত্যাদির জন্য শুভকামনা।

তোমাকেও ধন্যবাদ। আরটিভি অনলাইন পরিবারের সবার জন্য ভালোবাসা।

আরও পড়ুন:

পিআর/জেবি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়