‘ঢাকা অ্যাটাক’ নামের মধ্যে গল্পটা লুকিয়ে আছে : সানী সানোয়ার

প্রকাশ | ০১ অক্টোবর ২০১৭, ১৭:৩৪ | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৭, ২১:৩৭

পাভেল রহমান

দেশের উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা; যুক্ত আছেন লেখালেখির সঙ্গে। প্রথমবারের মতো লিখেছেন চলচ্চিত্রের কাহিনি। তিনি সানী সানোয়ার। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম ইউনিট)। আগামী ৬ অক্টোবর মুক্তি পাবে দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘ঢাকা অ্যাটাক’। মুক্তির আগেই নানাভাবে সিনেমাটি নিয়ে দারুণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শকের মাঝে। বিশেষ করে সিনেমাটিতে পুলিশের সদস্যরা নিজেই যখন যুক্ত; তখন ধারণা করা হচ্ছে পুলিশকে ভিন্নভাবে দেখা যাবে এই সিনেমায়। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন সানী সানোয়ার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান।  

‘ঢাকা অ্যাটাকএর কাহিনি লেখার নেপথ্যের কথা শুনতে চাই?

ঢাকা অ্যাটাক-এর কাহিনি লেখার নেপথ্যে পরিচালক দীপংকর দীপনের অনুপ্রেরণা অগ্রগণ্য। দীপন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু। সে হিসেবে ব্যক্তিগত কাজে একদিন (২০১২ সালে) ডিবি অফিসে এসে আমার এবং আমার টিমের কার্যক্রম দেখে অবাক হয়ে যায়। সে বলে উঠে ‘এ পুলিশ তো আমরা দেখিনি কখনও।  ভাবিনি যে আমাদের দেশে পুলিশের কার্যক্রম এতোটা স্মার্ট। এই রূপ তো আমরা মিডিয়াতে পাই না’। দীপন অনুরোধ করল একটা গল্প লেখার। যেটা দিয়ে একটা সুন্দর সিনেমা হতে পারে। আমারও মিডিয়ার প্রতি একটা প্রীতি আছে। স্টুডেন্ট লাইফে ফিল্ম সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। অসংখ্য দেশি-বিদেশি সিনেমা নিয়ে লিখেছি। আগে থেকেই লেখালেখির অভ্যাস ছিল। শুরু হয়ে গেল সিনেমার জন্য গল্প লেখা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ক্লাইমেক্স নিয়ে একটি গল্প লিখেও ফেললাম। নাম দিলাম সেটা ‘থ্রিল পয়েন্ট', যেটা পরে ‘ঢাকা অ্যাটাক' নাম ধারণ করেছে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ আমার লেখা প্রথম সিনেমার গল্প এবং চিত্রনাট্য। যদিও চিত্রনাট্য আমরা কয়েকজনে মিলে সম্পন্ন করেছি।

ঢাকা অ্যাটাকসিনেমাকে কেন পুলিশের অ্যাকশান থ্রিলার বলা হচ্ছে?

সিনেমায় পুলিশ দেখানো আর পুলিশ-অ্যাকশন-থ্রিলার এক জিনিস নয়। এখানে একটা নির্দিষ্ট সময়ের একটা সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট দেখানো হয়েছে; যেখানে পুলিশ কি করে, তাদের  পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনের একটা খন্ডাংশ বিভিন্ন জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ভেতর দিয়ে চলে এসেছে। যেহেতু গল্পের প্লটে পুলিশের স্পেশাল টিমের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাস্তবভিত্তিক বিষয়গুলোকে সিনেমাটিক ভঙ্গিতে উপভোগ্য করে দেখানো হয়েছে, তাই এটি সিনেমার আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিন্যাস অনুসারে অ্যাকশন থ্রিলার। যেহেতু অ্যাকশন ও থ্রিলের মধ্যে পুলিশ প্রধান্য পেয়েছে তাই পুলিশ-অ্যাকশন-থ্রিলার।

এই সিনেমার বিশেষ কি কি দিক আছে?

গল্পটা বাস্তবভিত্তিক এবং প্রতিটি দৃশ্যই আনপ্রেডিক্টেবল।গল্পকার নিজেই যেহেতু পুলিশ, তাই গল্পে আকাশকুসুম বিষয় কিংবা অতিনাটকীয়তার যে বিরক্তি সেটা এখানে থাকবে না। অ্যাকশন দৃশ্যগুলো প্রাসঙ্গিক এবং খুবই উপভোগ্য হবে; কেননা এই ধাঁচে পুলিশের স্পেশাল ইউনিটের অ্যাকশন এতোটা সুন্দর করে আমাদের এই উপমহাদেশে কেউ দেখিয়েছে বলে আমার জানা নেই। অপরাধীর এবং তদন্তকারীদের মধ্যে যে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতা হয় সেটাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপভোগ্য করা হয়েছে। সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব এবং তাদের সামর্থ্য ও ঝঁকিগুলোও এখানে নিঁখুতভাবে এসেছে। খুবই নিঁখুত সিনেমাটোগ্রাফি, সুন্দর লোকেশন, বিরল কিছু যন্ত্রপাতীর ব্যবহার, সুন্দর ৫টি গান। এ রকম অসংখ্য জিনিসের জন্য সিনেমাটি দর্শক উপোভোগ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। আমাদের মাথায় ছিল এন্টারটেইনমেন্ট সমৃদ্ধ একটি সিনেমা বানানো। সেটা পুরোপুরি করতে পেরেছি বলেই আমাদের বিশ্বাস।

আরিফিন শুভকে আপনি অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন শুভ কি আপনাকে মুগ্ধ করতে পেরেছে?

শুভ এখানে গোয়েন্দা পুলিশ এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট চিফ হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একজন ইয়াং বিসিএস পুলিশ অফিসার। এসি আবিদ। যে দায়িত্বে আমি নিজেই ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা, ভাবনা, কৌশলের অনেকটুকু তার উপর ঢেলে দিয়েছি। তার প্রতিটি শটের সময় আমি পাশে ছিলাম। সে খুব মজা পেত। আবেগে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেত। সে চরিত্রের সাথে মিশে যেত, আমি এটা অনুভব করতাম। তার আগ্রহ এবং দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। সে যতটুকু রপ্ত করে সিনেমায় দেখাতে পেরেছে সেটা তার সফলতা। আর যদি কোন ত্রুটি থাকে সেটা আমার ব্যর্থতা। পাশাপাশি এসি সোয়াটের ভুমিকায় এবিএম সুমনও খুব ভালো করেছে। প্রতিটা মুহূর্তে তার পাশে থেকে তার স্টেপিং, অস্ত্র ধরা, পেশাদার বডি ল্যাংগুয়েজ দেখিয়ে দিয়েছি। সেও খুব ভালোভাবে সেগুলো রপ্ত করে আউটপুট দিয়েছে। মাহি ক্রাইম জার্নালিস্টের ভূমিকায় খুব প্রাঞ্জল অভিনয় করেছে।

সিনেমার নামঢাকা অ্যাটাককেন?

সিনেমার গল্পটা নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে। তবে জার্নিটা অনুমান করা যাবে সিনেমাটা দেখে। দর্শকের প্রতি ম্যাসেজ থাকবে, এদেশেও ভাল মানের পরিচালক, গল্পকার এবং কলাকুশলী আছে; যাদের দিয়ে মানসম্পন্ন বাণিজ্যিক সিনেমা বানানো সম্ভব। গল্পের বাস্তবতার আলোকে নিজেদের দেশের প্রতি আস্থা, ভালোবাসা এবং অহংকার সমুন্নত রাখাও সম্ভব। তাই নিজেদের সক্ষমতা আরেকবার যাচাই করে নিন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেখে।

আপনি কি মনে করেন সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে?

সত্যি কথা বলতে সিনেমা নির্মাণে পরিচালক এবং আমরা অনেকেই নতুন। আমরা আমাদের ভাবনা, পরিশ্রম এবং একাগ্রতা দিয়ে সিনেমা বানানোর কৌশল রপ্ত করে সিনেমাটি বানিয়েছি। বিষয়ভিত্তিক গল্প, মানসম্পন্ন চিত্রনাট্য, ব্যাপক আয়োজন, সর্বোচ্চ মানের কাস্টিং এবং সর্বোপরি একজন তরুণ পরিচালকের নেতৃত্বে সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের এই শ্রমের ফসল হিসেবে নতুন কিছু আসবে। তবে সেটা আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করবে কিনা এটা দর্শক সিনেমা দেখার পরে বলবেন। এটাই যৌক্তিক হবে। কেননা, নিজের সিনেমা নিজের কাছে তো শ্রেষ্ঠই মনে হবে। কিন্তু সেটা অহংকার হয়ে যাবে।

পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে সিনেমায় আগ্রহী হলেন কেন?

প্রত্যেক পেশাজীবিরই একটা শখ থাকে যেটা তার পেশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে লেখালেখি করা আমার একটা শখ; সিনেমা বানানোও আমার একটা শখ। সবার সব শখ পূরণ হয় না। কিন্তু সিনেমা বানানোর এই শখটা পূরণ হয়েছে পরিচালক দীপংকর দীপনের স্বপ্নের সাথে আমার স্বপ্নটা যোগ করতে পেরেছি বলে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার লেখার পাঠকপ্রিয়তা রয়েছে লেখালেখি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?

লেখালেখি আমার একটা শখ। এটা আমার মনে আনন্দের খোরাক জোগায়। ফেসবুকে লেখালেখির ফলে পাঠকের রেসপন্স পেয়ে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি। এখন মনে হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করবো। তবে সেটা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে। আগে পেশা, তারপর শখ।

নাটক কিংবা সিনেমার কাহিনি কি নিয়মিতভাবে লিখবেন?

ভবিষ্যতে সিনেমা-নাটককেন্দ্রিক লেখালেখির কিছুটা আগ্রহ রয়েছে। বাকীটুকু আল্লাহর ইচ্ছে।

পিআর/এম