close
ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭ | ০৮ ভাদ্র ১৪২৪

অভিনয় ছাড়ছেন মিশা সওদাগর

এ এইচ মুরাদ
|  ০৮ আগস্ট ২০১৭, ২০:৪১ | আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ২১:১১
সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ সিনেমায় অভিনয় করেছি। দর্শকদের প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। আল্লাহতালার রহমতে ও আপনাদের ভালোবাসায় আমাকে নিয়ে সংবাদের কোনো কমতি নেই। অনেক তো হলো এবার অবসর নিতে চাই। মঙ্গলবার আরটিভি অনলাইনকে এসব কথা বললেন ঢালিউডের গুণী অভিনেতা মিশা সওদাগর।  

তিনি আরো বলেন, এখন আমি সবচে’ বেশি পারিশ্রমিক নেয়া খলঅভিনেতা। ক্যারিয়ারে ভালো সময়েই বিদায় নিতে চাই।

বিশ্বখ্যাত দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের উদাহরণ টেনে মিশা জানান, উসাইন বোল্ট পাঁচবার বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তিনবার অলিম্পিক স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং দলীয় সঙ্গীদেরকে নিয়ে ৪×১০০ মিটার রীলে দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড ও অলিম্পিক রেকর্ডের অধিকারী। তিনি এ তিনটি বিষয়ে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের ৭ম দৌড়বিদ হিসেবে যুব, জুনিয়র এবং সিনিয়র বিভাগের অ্যাথলেটিক ইভেন্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ জয় করেন। অথচ সম্প্রতি লন্ডনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানশিপে শেষবারের মত একশো মিটারের দৌড়ে নেমেছিলেন বোল্ট। জীবনের শেষ একশো মিটার দৌড়ে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাস্টিন গ্যাটলিনের কাছে হারতে হতে হয় বোল্টকে।

মিশা বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে বোল্ট তার শেষ দৌড়ের জন্য ফিট ছিলেন না। তাইতো ঠিক করেছি কাজের মধ্যে থাকা অবস্থাতেই চলচ্চিত্র থেকে  বিদায় নেব।

নায়ক-নায়িকার চেয়ে কোনো অংশেই কম জনপ্রিয় নন মিশা। এখনো দর্শকরা তার অভিনয় উপভোগ করছেন। নতুনভাবেই আবিষ্কার করছেন নিজেকে। তবে কেন বিদায়ের কথা আসছে। জবাবে মিশা বলেন, দর্শকরা আমাকে ভালোবাসেন এটাই সবচে’ বড় অর্জন। আমার মনে হয় এরকম অবস্থায় বিদায় নিতে ভালোবাসাটা সাড়া জীবন রয়েই যাবে।

এদিকে সোমবার নায়ক সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে বলে রুবি নামে এক নারী একটি ভিডিও আপ দেন। যা কিনা এখন টপ অব দ্য কান্ট্রি।

এ নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর কথা বলতে রাজি হননি। কথার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানিয়েছেন, আদালত থেকে এরই মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন করে যদি কোনো কিছু সামনে আসে তাহলে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

মিশা সওদাগর চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন ১৯৮৬ সালে। এফডিসি আয়োজিত নতুন মুখ কার্যক্রমে নির্বাচিত হন তিনি। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ১৯৯০ সালে। ‘অমরসঙ্গী’ ছবিতেও তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তমিজ উদ্দিন রিজভীর ‘আশা ভালোবাসা’ ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এরপর একে একে সাতটি ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৪ সালে ‘যাচ্ছে ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম খলনায়ক হিসেবে পর্দায় উপস্থিত হন মিশা। দীর্ঘ ২৭ বছরের অভিনয় জীবনে খল চরিত্রে নিজেকে কিংবদন্তি হিসেবেই তুলে ধরেছেন তিনি। 

এইচএম

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়