• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

প্লাস্টিক পণ্য মেলার একাল সেকাল

মিথুন চৌধুরী
|  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২১:৩৪
প্লাস্টিক খাতের ক্রেতা-উদ্যোক্তাদের মিলনকেন্দ্র প্লাস্টিক পণ্য মেলার ১২তম আসরের পর্দা নামবে শনিবার। ৪ দিনব্যাপী চলা এ মেলায় সাধারণদের উপস্থিতি কম থাকলেও বিশেষ দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

বেশির ভাগ দর্শনার্থী নিজেদের প্লাস্টিক কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতির খোঁজে এসেছেন এবং মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছেন। সেই সঙ্গে স্টলে প্রদর্শিত যন্ত্রপাতি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে বসিয়ে উৎপাদনে যাবার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, আমাদের দেশে প্লাস্টিক শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে হলে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে হয়। যা ব্যয়সাপেক্ষ। 

দেশীয় উদ্যোক্তারা জানান, প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি আসছে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব না। প্লাস্টিক মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের মেশিনারিজ প্রদর্শন করছে।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, একদিকে বিদেশিরা দাওয়াত দিচ্ছে দেশীয় ক্রেতাদের। আরেকদিকে দেশীয় উদ্যোক্তারা কারখানা পরিদর্শনে দাওয়াত দিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতাদের। এ যেনো বন্ধুত্বের নিবিড় বন্ধন। দেখে মনে হয় মেলা নয়, যেনো বনভোজনের আয়োজন। অনেকে অনেককে আগে থেকে চিনতো আবার অনেকের সঙ্গে গড়ে উঠছে নতুন সম্পর্ক।  

১৪ দেশ অংশ নিয়েছে ১২তম আসরে। এবারের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহস্থালি সামগ্রী, পণ্য মোড়কীকরণের উপকরণ, প্ল্যাস্টিক মোল্ড, খেলনা, আসবাব, মেলামাইন, পোশাক খাতের সরঞ্জাম, পিপি ওভেন ব্যাগ ইত্যাদি প্রদর্শন করছে। আর বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্লাস্টিক ইনজেকশন মোল্ডিং, পিপি ওভেন ব্যাগ, প্যাকেজিং, ফ্লেক্সোগ্রাফিক, পেট ব্লো, প্ল্যাস্টিক ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির যন্ত্র প্রদর্শন করছে। কিন্তু শুরুর চিত্র এমন ছিল না।

১৯৮৯ সালে বিপিজিএমইএ ও বিসিক যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্লাস্টিক মেলার আয়োজন করে।

এরপর বিপিজিএমইএ একাই ২০০২ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্লাস্টিক ফেয়ারের আয়োজন করে তখনকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। তখন মোট ১০টি ক্যাটাগরিতে ৩৫টি কোম্পানির ৪২টি স্টল বসে। মেলায় দেশি-বিদেশি দর্শণার্থীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার।

পরবর্তীতে ১০টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬১টি কোম্পানির সর্বমোট ৮৭টি স্টল নিয়ে প্লাস্টিক ফেয়ার ২০০৩ অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে দর্শণার্থীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৫ হাজার।

২০০৪ সালে মোট ১২টি ক্যাটাগরিতে ৬৪টি কোম্পানির সর্বমোট ৮০টি স্টল নিয়ে ফেয়ার হয়। ৪ দিনব্যাপী এ মেলায় দেশি-বিদেশি দর্শণার্থীদের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজার।

২০০৫ সালে প্লাস্টিক মেলায় ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি কোম্পানি ৮১টি স্টল নিয়ে অংশ নেয়। তখন দেশি-বিদেশি মিলিয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল প্রায় ১ লাখ।

২০০৮ সালে ৫ম ফেয়ারে বাংলাদেশসহ চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, তুরস্ক ও অষ্ট্রিয়া মিলিয়ে মোট ১৪টি দেশ নেয়। এর মধ্যে ১৩টি দেশ থেকে মোট ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের ২৩৯টি স্টলসহ দেশীয়ভাবে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৬১টি স্টল বসে। দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল প্রায় দেড় লাখ।

২০১০ সালের জানুয়ারির ২৫-২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার। যেখানে মোট ৮০টি দেশীয় কোম্পানির ১৭০টি এবং ৮২টি বিদেশি কোম্পানির মোট ৮২টি প্যাভিলিয়ন ও সর্বমোট ২৫২টি স্টল মেলায় স্থান পায়। উপস্থিতির সংখ্যা ছিল আড়াই লাখের মতো।

২০১২ সালের ৭ম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। মেলায় মোট দেশি ৫২টি কোম্পানির ১৫০টি স্টল এবং ১৪০টি বিদেশি কোম্পানির ২০০টি স্টল বসে। মেলায় উপস্থিতির সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

২০১৩ সালে ৪ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৮ম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার ২০১৩ অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউকেসহ মোট ১৫টি দেশ অংশ নেয়। আর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বমোট ৩৫০টি স্টল অংশ নেয়।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৯ম মেলা শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, যুক্তরাজ্যসহ মোট ১৬টি দেশ অংশ নেয়। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বমোট ৩০০টি স্টল বসে।

১০ম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। মেলায় আধুনিক ডিজাইনের নতুন নতুন পণ্য সামগ্রী ছিল বেশ। মেলায় বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১২টি দেশ অংশ নেয়। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বমোট ৩০০টি স্টল বসে।

২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে বসে মেলার ১১তম আসর। মেলায় বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ২০টি দেশ অংশ নেয়। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বমোট ৩০০টি স্টল বসে।

আর গেলো বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয় মেলার ১২তম আসর। মেলায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ৭২টি প্রতিষ্ঠানের ৪ শতাধিক স্টল রয়েছে।

শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি ১২তম আসরের ইতি টানবেন।

এমসি/ডিএইচ 

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়