• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫

তীব্র শীতেও জমেনি পোশাক বেচাকেনা

মিথুন চৌধুরী
|  ১৪ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:১৭
বইছে মৌসুমের দ্বিতীয় শৈত্যপ্রবাহ। জানুয়ারির শুরু থেকে রাজধানীতে শীতের আমেজ অনুভূত হলেও জমে ওঠেনি পোশাক বেচাকেনা। সকাল-সন্ধ্যা হিমেল হাওয়া গায়ে লাগলেও ক্রেতারা তেমনটা পোশাক কিনছেন না বলে দাবি বিক্রেতাদের।

ফুটপাত থেকে আধুনিক বিপণিবিতানগুলোতে শীত পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে বিক্রিবাট্টা তেমনটা হচ্ছে না। বিক্রি জমজমাট হবার প্রত্যাশায় হাল ফ্যাশনের শীতবস্ত্রের সমাহার ঘটিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত, নামীদামি শপিং মল, ব্র্যান্ডের দোকানে শীত পোশাকের রবরব অবস্থা।

বিক্রেতারা বলছেন, দেরিতে শীত আসায় গরম কাপড় কেনার প্রবণতা এবার কম। তাই চাহিদা নেই বললেই চলে। ঘুরতে এসেও কেউ কেউ কিনছেন শীত কাপড়। তার ওপর ক্রেতারা মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলামুখী। মেলায় ‍ডিসকাউন্টে স্বল্পমানের পণ্যের প্রতি ঝোঁককেও দায়ী করছেন বিক্রেতারা।

শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, পল্টন, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেইটের পাইকারি ও খুচরা কাপড়ের বাজার ঘুরে ভিড়ের চিত্র তেমনটা চোখে পড়েনি। এসব মার্কেটগুলোতে নারী-পুরুষ ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ‌৭০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।

বিক্রেতা জাহিদ জানান, শুরুতে ক্রেতা সমাগম হলেও এখন তেমনটা নেই। এছাড়া ঢাকায় বাড়িঘরের চাপ ও বায়ু দূষণের কারণে শীতের প্রকোপ কম বলে মনে করেন তিনি।

ফুটপাতে পোশাক বিক্রেতা আনিসুল বেশকিছু বাচ্চা ও নারীদের সোয়েটারের পসরা নিয়ে বসেছেন। তিনি জানান, লটের মাধ্যমে শীতের আগে কাপড়গুলো মিরপুরের একটি গার্মেন্টস থেকে কেনা হয়। প্রথমে ভালো দাম পেলেও এখন কাপড়গুলো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নামমাত্র মুল্যে ছেড়ে দিচ্ছি।

বসুন্ধরা সিটির চাদর বিক্রেতা আলাউল জানান, ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পাইকারি দরে কাশ্মিরি চাদর কিনেছি। তবে বেচাকেনা তেমনটা না হওয়ায় কেনা দামের চেয়ে কমে বিক্রি করছি।

ঢাকা কলেজের বিপরীত পাশের ফুটপাত থেকে বেশ কয়েকটি সুয়েটার কিনছিল সুজন খন্দকার। তিনি জানান, তার বাড়ি দিনাজপুরে। উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ বেশি। তাই ঢাকা থেকে বাড়িতে কুরিয়ার করতে পোশাকগুলো কিনছেন।

গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতের ব্যবসায়ী জামাল জানান, নতুন বছরে স্কুলে ভর্তি ও বইখাতা কিনতে গিয়ে মানুষের টাকা-পয়সা কমেছে। এছাড়া বাজারদর বেশি হওয়ায় মানুষ পুরাতন কাপড় দিয়ে শীত পার করে দিচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে কয়েকটি টুপির পসরা বসিয়েছে মহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, গেলো বছর বেশ টুপি বিক্রি হয়েছে। এবার তেমনটা বিক্রি হচ্ছে না। অনেকে হাতে নিয়ে দেখলেও তেমনটা কিনছেন না।

দীর্ঘক্ষণ দেখে একটি চার্লে চ্যাপলিন টুপি কিনলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র সুজন রহমান। তিনি জানান, শীতের জন্য নয় বরং স্টাইলের জন্য টুপিটি কিনেছেন। চার্লিকে তার ভালো লাগে। আর শীতকালের নানা ঢং আর রং এর টুপি পাওয়া যায়। তাই প্রায় টুপির দোকানে ঢু দেন।

গুলিস্তানের পাইকারি বাজারের বিক্রেতারা জানান, অক্টোবর থেকে নভেম্বর প্রতিবছর শীত কাপড়ের বেচাকেনা শুরু হয়। যার বেশির ভাগ পাইকারি ক্রেতা। আর ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত  রাজধানীর পাইকারি ক্রেতাদের চাপ থাকে। তবে এবার শুরুতে বেচাকেনা হলেও ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে তেমনটা হয়নি।

এমসি/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়