• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫

চিফ মার্কেটিং অফিসার হিন্দোল রয়

৭ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার কোম্পানি হতে চায় আকিজ ফুড (ভিডিও)

শাহীনুর রহমান
|  ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:১২ | আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫৯
আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) হিন্দোল রয়
'যে খাবার আমি আমার সন্তানকে দিতে পারবো না, সেই খাবার কখনই কারও জন্য প্রস্তুত করবো না।' 

---আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আকিজ উদ্দিন

এই দর্শনই ছিল আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আকিজ উদ্দিনের। ফুড সেক্টর ছিল তার অন্যতম আগ্রহের জায়গা। সেই জায়গা থেকেই আকিজ ফুডের যাত্রা। এরপর পথচলা। বলছিলেন আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) হিন্দোল রয়।

সম্প্রতি আকিজ গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে কোম্পানিটির বর্তমান ও আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। জানালেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাহীনুর রহমান।

নিজের সম্পর্কে বলুন

হিন্দোল রয়: আমি মূলত ভারতীয়। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আসানশোলে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা।  আকিজে যুক্ত হওয়ার আগে প্রায় অর্ধ ডজন কোম্পানিতে নানা পদে কাজ করেছি। ভারতভিত্তিক পার্লে অ্যাগ্রো কোম্পানির সুবাদে বাংলাদেশে আসা। এরপর কহিনুর ক্যামিকেল, হক গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ পদে কিছু সময় কেটেছে। আকিজ ফুডে প্রায় ২ বছর ধরে মার্কেটিং হেডের দায়িত্ব পালন করছি।

বাংলাদেশে তো ৪ বছর হলো, কেমন লাগছে?

হিন্দোল রয়: বাংলাদেশে মূলত কহিনুর কেমিক্যাল দিয়ে আমার শুরু। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আমি কোম্পানিটির সেলস ও মার্কেটিং বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দিই। এখানে প্রায় সাড়ে ৪ বছর আছি। এ দেশ সম্পর্কে আগেই শুনেছি। তবে সরাসরি এসে দেখলাম এটা একটা যাদুর দেশ। এদেশের পানিতে একটা মায়া আছে। কর্মের প্রয়োজনেই দেশটাকে চিনতে শুরু করেছি, জানতে শুরু করেছি। মাটির টানে এই দেশের সঙ্গে একটা আত্ম্যিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। এখানকার মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি চির কৃতজ্ঞ।

আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (এএফবিএল) সম্পর্কে বলুন

হিন্দোল রয়: ২০০৬ সালে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের যাত্রা হয়। মোজো, ক্লেমন, স্পিড, ফ্রুটিকাসহ বেশ কয়েকটি বেভারেজ পণ্য নিয়ে এটি বাজারে আসে। আকিজ ফুড বাংলাদেশে মর্যাদাশীল কোম্পানিগুলোর একটি। 

এএফবিএল কি মানুষের মন জয় করতে পেরেছে?

হিন্দোল রয়: যাত্রার পর থেকেই আকিজ ফুড মানুষের মনে একটা জায়গা করে নিয়েছে। গত এক যুগে সে অবস্থান আরও পোক্ত হয়েছে। কারণ আকিজ কোম্পানির একটি নিজস্ব নীতি আছে। নীতির বাইরে আমরা কোনোদিন যাই না। অন্য অনেক কোম্পানি অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু আমরা সেটা করতে পারি না। পণ্যর মান নিয়ে আমাদের কোম্পানি কখনও কপ্রোমাইজ করে না।

বাংলাদেশে বেভারেজ পণ্যের বাজার কেমন?

হিন্দোল রয়: বাংলাদেশে বছরে মোট সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার কার্বোনেটেড ড্রিংকসের বাজার আছে। এর সঙ্গে পানি, জুস যোগ হবে। এর প্রবৃদ্ধি হার প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ। মানুষের আয়, অভ্যাস ও চাহিদা যেহেতু প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে এ শিল্প বেভারেজের মার্কেট ভালো।

ব্যবসা বাড়াতে আকিজ ফুডের পরিকল্পনা কী?

হিন্দোল রয়: প্রথমে বেভারেজ কোম্পানি হিসেবে যাত্রা করে আকিজ ফুড। এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে এ কোম্পানি। বর্তমানে বছরে আমাদের টার্নওভার ২ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের মধ্যে এটাকে ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে। আর ৭ বা ৮ বছরে আমরা ১০ হাজার কোটি টাকার কোম্পানি করতে চাই।

এই সম্প্রসারণ কি শুধু বেভারেজ সেক্টরে?

হিন্দোল রয়: শুধু বেভারেজ না, আমরা একটা ভ্যালু চেইন তৈরি করতে কাজ করছি। আমাদের ব্যবসা থাকবে বেভারেজ, ফুড, কমোডিটি (চাল, ডাল, লবণ, তেল) ও ডেইরি খাতে। আমরা আগামীতে ডেইরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছি। ফ্রুটিকার ব্র্যান্ড সম্প্রসারণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বড় কিছুর পরিকল্পনা আছে। একই সঙ্গে আকিজ স্ন্যাকস ফুড, প্যাকেজ ফুড নিয়েও বড় পরিসরে আসছে।

সেক্ষেত্রে কোনটাকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন?

হিন্দোল রয়: বাংলাদেশ অনেকটা আমদানি নির্ভর দেশ। বাইরে থেকে পণ্য আনতে গেলে পণ্যের দাম অনেক সময় বেশি পড়ে। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানুষের আস্থা রেখেই তাদের কাছে সঠিক দামে স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য পৌঁছে দেয়া।

তাহলে কর্মসংস্থানের তো একটা বড় সুযোগ তৈরি হবে

হিন্দোল রয়: দেখুন আমাদের কোম্পানির সঙ্গে এখন বাংলাদেশের অনেক পরিবার জড়িত। আপনি ঠিক বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে আকিজ ফুডে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

শীতকাল বেভারেজ পণ্যের জন্য দুঃসময় আপনি কি মনে করেন?

হিন্দোল রয়: এখন তো শীতকাল ১৫ দিনের। তাছাড়া শীতকালেও এখন মানুষ এ ধরনের পণ্য খেতে ভালোবাসে। তাই একেবারেই দুঃসময় বলা ঠিক হবে না। তবে এসময় ব্যবসা কিছুটা কমে।

এনার্জি ড্রিংকস বন্ধের সিদ্ধান্ত বাজারে কি ধরনের প্রভাব ফেলবে?

হিন্দোল রয়: বহুদিন ধরে দেশের বাজারে অবৈধভাবে এনার্জি ড্রিংস আমদানি করা হচ্ছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে এতে যে পরিমাণ ক্যাফেইন আছে মাত্রাতিরিক্ত। তাই বিএসটিআই ও ফুড সিকিউরিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা যৌক্তিক। সফট ড্রিংসের সঙ্গে বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের বেভারেজ পণ্যের বাজারে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

গুরুত্বপূর্ণ সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ

হিন্দোল রয়: আরটিভি অনলাইনকেও ধন্যবাদ।

এসআর/এম

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়