• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের চাকরি নিয়ে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১২ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৫৩
প্রতি বছর প্রায় ২,০০,০০০ (দুই লাখ) দক্ষ লোকের চাহিদা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে পৃথিবীর শীর্ষ শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা, লেখাপড়ার চমৎকার পরিবেশ, চিকিৎসা সুবিধা এবং উপার্জন করার সুযোগের কারণে সবারই পছন্দের একটি দেশ অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের দক্ষ লোকজনের চাহিদা পূরণ করার জন্য চালু করেছে সাব-ক্লাস ৪৮২। এই সাব-ক্লাসের অধীনে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীরা পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পেতে পারে। এর আওতায়  বিদেশি শ্রমিকরা অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনও বৈধ প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতে পারে। এই সাব-ক্লাস ৪৮২-এর অধীনে এখন শর্ট টার্ম,  মিডিয়াম বা লং টার্ম বা  শ্রম চুক্তি ভিক্তিক ভিসা হয়ে থাকে।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  : পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ: ডব্লিউটিও
-------------------------------------------------------

একজন দক্ষ অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তায় ভালো কোনও প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে যোগ্য লোকজন তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

এই ভিসার ক্ষেত্রে ভিসাপ্রার্থীকে অবশ্যই টিএসএস ভিসার পেশা তালিকার জন্য একটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। এই ভিসার জন্য আইইএলটিএসে কমপক্ষে প্রতিটি ব্যান্ডে ৪.৫ বা সমমানের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। উল্লেখ্য, IELTS প্রতিটি ব্যান্ডে ৫ থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়।

সাব-ক্লাস ৪৮২ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশিরা যদি কোটা পূরণ হবার আগেই দ্রুত ও দক্ষতার সাথে এবং নির্ভুলভাবে ফাইল প্রসেস করে, তবে স্বল্প সময়ে এই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু অস্ট্রেলিয়া ডিমান্ড লিস্টে ৪৩২টি পেশা রয়েছে। সুতরাং অনেকেই বিভিন্ন সাবক্লাসে আবেদন করে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে। তবে স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, সঠিক চাকরি এবং সঠিক টেরিটরি বেছে নেওয়ার দক্ষতা এ ক্ষেত্রে নাগরিক হওয়ার বিষয়টি ত্বরান্বিত করে এবং ৮-৯ মাসের মধ্যে পুরো প্রসেসটা সম্পন্ন করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় প্রতি বছর  চার লাখ স্থায়ী চাকরির পদ সৃষ্টি হয়।

দেশটিতে যাওয়ার জন্য কয়েক ডজন ভিসা প্রোগ্রাম রয়েছে। তবে মূলত চারটি প্রচলিত ক্যাটাগরিতে সেখানে যাওয়া তুলনামূলক সহজ। এগুলো হলো :

সাব-ক্লাস ৪৮২- গ্যারান্টেড জব:

প্রোগ্রামটি মূলত গ্র্যাজুয়েটদের জন্য। এক্ষেত্রে IELTS স্কোর ৪.৫ থাকলেই আবেদন করতে পারবে। তবে IELTS এ ৫ থাকলে জব অফার পাওয়া নিশ্চিত হয়।

•             যে কোনও বয়সের লোকজন আবেদন করতে পারেন।

•             পরিবারের সদস্যরা যুক্ত হতে পারেন।

•             IELTS এর পরিবর্তে OET(B),TOEFL iBT (35),PTE(36),CAE (154) গ্রহণযোগ্য

•             যোগ্য চাকরিদাতা থাকতে হবে যে স্পন্সর করতে ইচ্ছুক।

•             ৩ বছর পর পিআর এর জন্য আবেদন করা যায়।

•             চারটি ধাপে কাজটি সম্পন্ন হতে পারে ক) যোগ্যতা নিরুপণ খ) বৈধ স্পন্সর সংগ্রহ গ) নমিনেশন ঘ) ভিসার জন্য আবেদন।

•             তিন ধরনের ভিসা দেয়া হয় ক)শর্ট খ)মিডিয়াম গ)শ্রম চুক্তি ভিত্তিক।

•             ম্যানেজার, কর্পোরেট জব (যে কোন লেভেলের), শিক্ষক, মিউজিশিয়ান, একাউন্টেন্ট, আর্কিটেক্ট, ইঞ্জিনিয়ার, সাইন্টিস্ট,ডাক্তার,প্যাথলজিস্ট, নার্স, আইটি, ব্যারিস্টার,এনজিও কর্মীসহ আরও অনেক পেশাজীবী সুযোগটি গ্রহণ করতে পারবেন।

স্কিলড মাইগ্রেশন উইথ পিআর:

সাব-ক্লাস ১৮৯, স্কিলড ইনডিপেনডেন্ট ভিসা :

বিষয়টি সম্পূর্ণ পয়েন্টের ওপর নির্ভর করে। মোট ৬০ পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। পয়েন্ট পাওয়া যায় বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা, ভাষার ওপর চূড়ান্ত দখলের ভিত্তিতে।

•             ৪৫ বছরের নিচে বয়স হতে হবে।

•             কাজ,পড়াশুনা ও বসবাস করা যায়।

•             কমপক্ষে ৬০ পয়েন্টের প্রয়োজন হয়।

•             IELTS এ ৭ থাকলে ১০ পয়েন্ট পাওয়া যায়।

•             কমপক্ষে ০৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন পড়ে।

স্কিলড নমিনেটেড ১৯০ ভিসা :

এই প্রোগ্রামটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এতে আবেদনের জন্য শর্ট লিস্টেড পেশাজীবী হতে হবে। টেরিটরি থেকে স্পন্সরশিপ থাকতে হবে, যা পাওয়া খুব কঠিন কাজ নয়।

•             CSOL লিস্টে থাকা জবের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

•             কমপক্ষে ৬৫ পয়েন্ট হতে হয়।

•             স্পন্সরশিপ থাকতে হবে।

•             স্কিল অ্যাসেসমেন্ট করতে হয়।

•             IELTS এ ৭ থাকলে ভালো হয়।

•             সম্পূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা পাওয়া যায়।

স্কিলড রিজিওনাল ভিসা (সাব-ক্লাস ৪৮৯) :

•             স্টেট বা টেরিটোরি থেকে স্পন্সরশিপ নিতে হয়।

•             কমপক্ষে ৬৫ পয়েন্ট হতে হয়।

•             ৪৫ বছরের নিচে বয়সসীমা।

এছাড়া রিজিওনাল এলাকায় দুই বছরের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা। আইইএলটিএসে কমপক্ষে ৬ স্কোর থাকতে হবে। পড়াশোনার পর রিজিওনাল এলাকায় এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। চাকরিদাতার বর্তমান কাজের ঠিকানা, কাজের ধরন ও অভিজ্ঞতার বছর, পড়াশোনার যোগ্যতা, চাকরির ধরন ও বেতনের ওপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করে।

এমপ্লয়ার স্পন্সরশিপ:

অস্ট্রেলিয়ান কোনও চাকরিদাতা যদি আপনাকে স্পন্সর করতে ইচ্ছুক হয়, তবে আপনার ভাগ্য খুলে গেল। এটি জোগাড় করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এখানে অনেক ধরনের ভিসা হয়। সঠিক ভিসা খুঁজে পাওয়ার ওপর সবকিছু নির্ভর করে।

কোন ধরনের ভিসার জন্য আপনি উপযুক্ত, তা সঠিক ও বিস্তারিতভাবে জানাটা সবচেয়ে জরুরি। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণের কোনও বিকল্প নেই।

এ ভিসায় প্রশিক্ষণটি দুভাবে হতে পারে। সরাসরি একই পেশায় অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করার মাধ্যমে অথবা কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে। কার্যকরী ইংরেজি ভাষা দক্ষতা (আইইএলটিএসে ৪.৫) থাকতে হবে। ১৮ বছর বয়সী বা তার ঊর্ধ্বে হতে হবে।

এমপ্লয়ার নমিনেশন স্কিম (১৮৬) :

•             স্থায়ীভাবে পরিবারসহ এ স্কিমে আবেদন করে বসবাস ও কাজ করা যায়। নাগরিকত্ব লাভ করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ায় দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

•             স্পন্সর কোম্পানিতে দুই বছর কাজ করতে হয়।

•             বয়স ৫০ বছরের বেশি হবে না।

•             স্থায়ী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।

•             মূলত তিন ভাগে আবেদন করা যায়। টেম্পোরারি, সরাসরি ও চুক্তি ভিত্তিক

•             চিকিৎসা, বাড়ি কেনা, ট্যাক্স সুবিধা পাওয়া যায়।

•             IELTS এ কমপক্ষে ৬ স্কোর প্রয়োজন পড়ে।

•             পড়াশুনা করার সুযোগ পাওয়া যায়।

রিজিওনাল স্পন্সরড মাইগ্রেশন স্কিম (১৮৭) :

•             স্কিল অ্যাসেসমেন্টের প্রয়োজন হয় না।

•             বয়স ৪৫ বছরের নিচে হতে হবে।

•             চাকরিদাতার দায়-দায়িত্ব এক্ষেত্রে কিছুটা কম।

•             স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব।

•             রিজিওনাল এরিয়া থেকে জব অফারের প্রয়োজন হয়।

•             IELTS এ কমপক্ষে ৬ স্কোর প্রয়োজন পড়ে।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের জন্য সততা ও দক্ষতার কোনও বিকল্প নেই। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও কোনও জটিলতা তৈরি হয় না। অস্ট্রেলিয়ান ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে দক্ষতার সঙ্গে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে, তার মধ্যে ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেড অন্যতম।

অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলতি বছর প্রচুর দক্ষ লোকের প্রয়োজন পড়বে। আমরা যদি সঠিকভাবে ও যোগ্য লোক বাছাই করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারি, তবে সবাইকে পেছনে ফেলে আমরাই অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারটি দখল করতে পারবো। বাংলাদেশের সেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

এক্ষেত্রে সবাইকে প্রতারকদের হাত থেকে সাবধানে চলার জন্য তিনি উপদেশ দেন। অস্ট্রেলিয়া মাইগ্রেশনের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি ভিসা নিয়ে আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আপনার সন্তানরা কিন্তু প্রতি মাসে সোশ্যাল বেনিফিট পাওয়া শুরু করবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশটির বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা পরিবারের সব সদস্যের জন্য। সুতরাং আর দেরি না করে যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের জন্য।

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বিষয়ে আরও তথ্য জানতে আপনার পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে পারেন এই ই-মেইল ঠিকানায়-  [email protected] অথবা হালনাগাদ তথ্যের জন্য ভিজিট করতে পারেন www.wwbmc.com. ওয়েবসাইটে।  প্রাথমিক তথ্যের জন্য কথা বলতে পারেন ০১৯০৯০৮৩৯৬২, ০১৯৬৬০৪১৫৫৫, ০১৯০৪০৩৬৮৯৯, ০১৯০৯০৮৩৯৬৩   নম্বরগুলোতে। সরাসরি কথা বলতে পারেন ঢাকার উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরের ৫১ সোনারগাঁও জনপথে অবস্থিত খান টাওয়ারে অবস্থিত ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের অফিসে।

আরও পড়ুন  :

বিজ্ঞপ্তি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়