• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

গ্রামীণ ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন কর্মীরা (ভিডিও)

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৫ জুলাই ২০১৮, ১২:৪৬ | আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৮, ১৩:১৮
মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে ছবি তুলেছেন আরটিভি অনলাইন প্রতিনিধি
চাকরি স্থায়ী ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ব্যাংকটির পিয়ন কাম গার্ডসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বলছেন, এর আগে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কথা রাখেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-২ এর গ্রামীণ ব্যাংকে সকাল থেকেই পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। ব্যাংকটিতে প্রবেশেও কড়াকড়ি ছিল। কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ প্রায় শতাধিক লোক ব্যাংকটির সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকে সেখানে বসে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের উঠিয়ে দেয়। রাস্তায় না বসে ব্যাংকের ভেতরের খালি জায়গায় বসার কথা বলে পুলিশ।

পুলিশের কথার প্রেক্ষিতে তারা ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে প্লাস্টিকের তিরপল বিছিয়ে বসে পড়েন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে জানান।

গ্রামীণ ব্যাংক অস্থায়ী কর্মচারী সমিতির আহ্বায়ক মো. আজিজুল হক বাবুল আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১৫, ১৫ থেকে ২০ বছর কাজ করার পরও গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের স্থায়ী করছে না। গত মার্চেও আমরা এ নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। ওই সময় তারা আমাদের বলেছিল- দুই মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে। আশ্বাসও দিয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও ব্যবস্থা তারা নেয়নি।

“এমনকি আন্দোলনে নামার পর তারা এই শ্রেণির কর্মচারীদের দৈনিক বেতন ২৫ টাকা করে কমিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে ৪০০ টাকা করে দেয়া হতো। এখন তা কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৭৫ টাকায়।”

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি করলেও আমাদের চাকরি স্থায়ী হয়নি। গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। ৯ মাস চাকরির পর স্থায়ীকরণের কথা ছিল। কিন্তু আমাদের বেলায় তা মানা হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, আমরা বউ-বাচ্চাদের ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে কিছু দিতে পারি না। তারা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। মানবিকতা বিবেচনা করে হলেও আমাদের দাবি মানতে হবে।

কর্মসূচিতে আসা কর্মীরা অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ ব্যাংকে পিয়ন কাম গার্ড হিসেবে কাজ করছেন। চাকরির ৯ মাস পর স্থায়ীকরণের কথা নিয়োগ বিধিতে বলা থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে এ বিধান মানা হচ্ছে না। উপরন্তু গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানি, কারণ ছাড়াই কাজে যোগদানে বাধা, বিনা বিশ্রামে ২৪ ঘণ্টাসহ নানা ধরনের অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন।

তারা দাবি জানান, বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে হবে, গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী বেতন-ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশন দিতে হবে।

আরসি/এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়