• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

‘এলএনজির পরেও গ্যাসের দাম বাড়ানো যৌক্তিক নয়’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৬ জুন ২০১৮, ১১:৫২ | আপডেট : ২৬ জুন ২০১৮, ১২:৪৪
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস- এলএনজি মিশ্রিত গ্যাস ব্যবহারের পরও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি যুক্তি সংগত নয় বলে গণশুনানিতে দাবি করেছে ভোক্তা অধিকার আন্দোলন।

সোমবার রাজধানীর টিসিবি অডিটোরিয়ামে গ্যাসের মূল্যহার পরিবর্তন আবেদনের উপর গণশুনানিতে অংশ নিয়ে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা জানান সেবার মান না বাড়িয়ে জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

--------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ঝুঁকিতে পোশাক কারখানার বিনিয়োগ: বাণিজ্যমন্ত্রী
---------------------------------------------------------------

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪১২ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর বিভিন্ন কূপ থেকে উত্পাদন হয় ২৭৯ কোটি ঘনফুট। ফলে ঘাটতি থাকছে প্রায় ১৩২ কোটি ঘনফুট। ২০৪১ সাল নাগাদ চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৭৮ কোটি ঘনফুটে। তবে এর মধ্যে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে, এখন যেসব কূপ থেকে উত্পাদন হচ্ছে সেগুলোর মজুদ ফুরিয়ে যাবে। অর্থাৎ ওই সময় দেশীয় উত্স থেকে গ্যাস উত্পাদন শূন্যতে দাঁড়াবে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির যৌক্তিকতা নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দেয়া এক প্রতিবেদনে এই চিত্র ও পূর্বাভাস তুলে ধরে পেট্রোবাংলা।

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাহিদা মেটাতে এলএনজি মিশ্রিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হচ্ছে। তবে, এর আগেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই গণশুনানির আয়োজন।

এতে অংশ নিয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিতে এলএনজি ব্যবহারের পরেও মূল্যবৃদ্ধি না করার পক্ষে ক্যাবের যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের মতোই তিতাসে ডাকাতি চলছে। অন্যান্য খাতেও গ্রাহক সেবার উন্নয়ন না করে বিভিন্ন চার্জ বসানো হয়েছে। এ ধরনের অতিরিক্ত মুনাফা থেকেই ব্যয়বহুল এলএনজির খরচ বহন করা সম্ভব।

ক্যাবের হিসাবে, এলএনজি মিশ্রিত গ্যাসের মূল্যহার ভোক্তাপর্যায়ে ৯ টাকা ০৯ পয়সা। বিদ্যমান মূল্যহার ৭ টাকা ৩৮ পয়সা। ফলে এক টাকা ৭১ পয়সা ঘাটতি বিবেচনায় মোট ৫ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঘাটতি দাঁড়াবে।

এই ঘাটতি মূল্যহার বৃদ্ধি কিংবা সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই এই খাতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েই সমন্বয় করা যাবে বলে দাবি করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা। 

তিতাসের প্রস্তাবিত সিস্টেম লস মূল্যহার সমন্বয় না করা হলে ২৫৬ কোটি টাকা, জিডিএফ রদ করা হলে এক হাজার ৯৮ কোটি টাকা, সম্পদমূল্য এসডি-ভ্যাট মুক্ত ধরা হলে ৪১৩ কোটি টাকা, ইএসএফের অর্থ ভর্তুকি হিসাবে বিনিয়োগ করা হলে দুই হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা, আইওসি গ্যাস এসডিমুক্ত ধরা হলে ৮১৬ কোটি টাকা, তিতাসের রিটার্ন হার ১৮ শতাংশের পরিবর্তে ১২ শতাংশ ধরা হলে ১৫ কোটি টাকা এবং সরকারের ডেভিডেন্ট থেকে ঘাটতি সমন্বয়ের জন্য ১১০ কেটি টাকা দেওয়া হলে মোট ৫ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

চলমান গ্যাস সঙ্কটের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মকে দায়ী করেছে ক্যাব।

এ সময় তিতাস গ্যাসের সমালোচনা করে বক্তারা জানান, বাসা বাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস পাওয়াই যায় না। তারপরও প্রতিবছরই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। তাই এ থেকে নিস্তার চান তারা।

এছাড়াও গ্যাস সরবরাহের সকল পর্যায়ে ব্যয় গণশুনানির ভিত্তিতে যাচাই বাছাই করে গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধি করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে ভোক্তা অধিকার আন্দোলন।

আরও পড়ুন :

   ওয়ালটনের ফ্যান রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

   বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ইয়ামাহা ফুটবল ম্যানিয়া আয়োজন

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়