• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

বরাদ্দ বাড়লো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৭ জুন ২০১৮, ১৮:৩৭
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে এ বছর বরাদ্দ বেড়েছে। এ বছর তিন হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরে ছিল ২০ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। 

তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এ বছর বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে ২২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে ছিল ১৮ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। এ বছর জ্বালানিখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা যা গত অর্থ বছরে ছিল দুই হাজার ১১১ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের এ মেয়াদের শেষ বাজেট কিংবা নির্বাচনী বাজেটের উপস্থাপনা শুরু হয় দেশের অর্থনীতিতে গত আট বছরের সাফল্যের কথা তুলে ধরে। 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত।’ 

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত আট বছরের সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে নেওয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘২০০৯ সালে চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে সরকার। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ও যৌক্তিক মূল্যে সরবরাহ করতে সরকার কাজ করছে।’

বাজেট বক্তৃতায় মুহিত নির্মাণাধীন ১৫ হাজার ২০৫ মেগাওয়াট মতার ৫৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণের কথা জানান। এ সময় তিনি আরও বলেন, চার হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ৯২ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।’

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কথা তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রামপাল, মাতারবাড়ি ও পটুয়াখালীর পায়রায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া মহেশখালীতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ 

মুহিত বলেন, ‘গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়াও রূপপুরে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম চলছে।’ এ সময় অর্থমন্ত্রী উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। দেশের মধ্যে বিদ্যমান গ্রিড শক্তিশালী করা হয়েছে। এছাড়া নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎকেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ আমদানি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-র্পূবাঞ্চল হতে জল বিদ্যুৎ আমদানি আলোচনা চলছে।’ এ সময় তিনি দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন শক্তিশালীকরনে নেওয়া কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।

দেশের গ্যাস সংকটের সমাধানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাসের সংকট সমাধানে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাসের চাহিদা এলপিজি দ্বারা প্রতিস্থাপনের জন্য ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৬টি এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি ও মজুদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ২০২১ সালের মধ্যে ১০৮টি কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এর প্রতিদিন তেল পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিকটন থেকে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন উন্নীত করা হয়েছে।

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়