• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

রোগের চিকিৎসার বদলে উপসর্গের পেছনে দৌড়াচ্ছি: সিপিডি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৩ জুন ২০১৮, ১৬:৫১ | আপডেট : ০৩ জুন ২০১৮, ১৬:৫৭
ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের কথা বলা হচ্ছে। আসলে সেটা কোনো রোগ নয়, আসল রোগ হলো সুশাসনের অভাব। রোগের চিকিৎসার বদলে আমরা উপসর্গের পেছনে দৌড়াচ্ছি।

আজ রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ- সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ব্যবস্থা দেখভাল করার কথা। কিন্তু তারাই নষ্টভ্রষ্টদের জন্য কাজ করছে। ব্যাংকিং খাতে লক্ষ্যভ্রষ্ট রাজনৈতিক অর্থনীতি চলছে। নষ্ট-ভ্রষ্ট লোকের সুবিধার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যার কারণে এটা হচ্ছে। এই সিস্টেম বদল করা না গেলে পরিবর্তন হবে না।

সিপিডির পক্ষ থেকে এসময় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়। বর্তমান আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক করমুক্ত থাকে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করার তাগিদ দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। এ ছাড়া সর্বনিম্ন করহার ১০ শতাংশ থেকে নামিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি বলেছে, তাড়াহুড়ো করে করপোরেট করহার কমানো ঠিক হবে না। করপোরেট কর কমালে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে—এটা ঠিক নয়। সার্বিকভাবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হলেই বিনিয়োগ বাড়বে।

সিপিডি আরও বলছে, সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকবে ৫০ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব খাত সম্পর্কে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনের বছরে রাজস্ব খাতে জোরালো সংস্কার হবে না। বিগত বছরগুলোতেও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক—এই তিন নতুন আইন হওয়ার কথা। তবে এবার না হলেও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, ভ্যাট আইনটি বাস্তবায়নের শেষ সময়ে এসে বলা হয়েছিল, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব আছে।

দেশের পুঁজিবাজারে সম্প্রতি যে মন্দা বিরাজ করছে তা কাটাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জোরালো ভূমিকা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। 

সামষ্টিক অর্থনীতির চারটি খাতে ঝুঁকি ও দুর্বলতা আছে বলে মনে করে সিপিডি। এগুলো হলো আর্থিক ও বাজেটীয় কাঠামো, মুদ্রানীতি ও ব্যাংক খাতের পারফরম্যান্স, শেয়ারবাজার ও বৈদেশিক লেনদেন পারফরম্যান্স।

সিপিডি আরও বলছে, বাজেট বড়—এটা বলা হচ্ছে না। এবারের বাজেটে মাথাপিছু বরাদ্দ ৩০ হাজার টাকা। বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে এই সংখ্যা বড় নয়। বাস্তবতার নিরিখে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত।

এসআর/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়