• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

অ্যামাজন রুখতে মরিয়া ওয়ালমার্ট-টার্গেট

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ২৬ মে ২০১৮, ১৩:৪৬ | আপডেট : ২৬ মে ২০১৮, ১৪:০৩
বিশ্বে এখন রীতিমতো চলছে ই-কমার্সের লড়াই। এক প্রতিষ্ঠান আরেক প্রতিষ্ঠানকে টেক্কা দিতে নতুন নতুন পথ খুঁজছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ালমার্ট, টার্গেট ও ক্রোজার অ্যামাজনকে রুখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

সিএনএন বলছে, নানা প্রান্তে আউটলেট খোলার পাশাপাশি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে বাড়াচ্ছে তাদের সর্বনিম্ন মজুরিও। একইসঙ্গে নিজেদের ঝুলিতে নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করে গ্রাহক ধরার পায়তারা করছে। ঢেলে সাজাচ্ছে আউটলেটগুলো। এছাড়া স্টোরগুলোতে পণ্যের দামও কমিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।  

গত বছর ৫৫ কোটি ডলারে গ্রোসারি স্টার্টআর্প শিপ্ট কিনে নেয় টার্গেট। আর এর আগের বছর ওয়ালমার্ট ৩০০ কোটি টাকায় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম জেট ডট কম কিনে নেয়।  

বুধবার ক্রোজার জানিয়েছে, তারা খাবার ডেলিভারি দেয়া মার্কিন কোম্পানি হোম শেফ কিনতে তোড়াজোড় শুরু করেছে। এজন্য তাদের গুণতে হচ্ছে ৭০ কোটি ডলার।

গত সপ্তাহে ২৫ কোটি ডলার ব্যয়ে কোম্পানিটি ব্রিটিশ অনলাইন সুপার মার্কেট ওকাডোর কিছু শেয়ার কিনে নেয়। যা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।

সে হিসেবে বলা যায় এই তিন কোম্পানি অনলাইন প্রতিষ্ঠান কেনার পেছনে প্রতিনিয়ত ব্যয় করে যাচ্ছে বড় অংকের অর্থ।  

যন্ত্রণা বাড়াচ্ছে

কিন্ত ডিজিটাল অপারেশনের এই উদ্যোগে কতটা সফলতা পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো?

টম ঘিয়ানি নামের একজন বিশ্লেষক বলছেন, দ্রুত ফলন পেতে বা ঝুঁকি এড়াতে অনলাইন ভিত্তিক এই তিন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ওপর নির্ভর করছে; যা খুব ব্যয়বহুল বলে প্রতীয়মাণ হচ্ছে।

বড় অংকের এই ব্যয় ও পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়া ওয়ালমার্ট, টার্গেট ও ক্রোজারের মুনাফা কমিয়ে দিয়েছে। 

বিশ্লেষক অলিভার চেন বলছেন, একটি অনলাইন বিজনেস প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্জিন ব্যবস্থাপনা খুবই কঠিন ব্যাপার।  এটি এক ধরনের জার্নি।

চলতি বছরে ওয়ালমার্টের মুনাফা কমেছে ১৬ শতাংশ, ক্রোজার হারিয়েছে ১০ শতাংশ। আর টার্গেটের মুনাফা ৯ শতাংশ বেড়েছে, তবে তা প্রত্যাশার তুলনায় কম।

প্রত্যাশা দীর্ঘমেয়াদী

সিএনএন বলছে, কোম্পানির আসন্ন মেয়াদের পূর্বাভাস নিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের দ্বিধা থাকলেও ওয়ালমার্ট, টার্গেট ও ক্রোজার সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে কেনাকাটার স্রোত থেকে গ্রাহকের পালিয়ে যাওয়া থামাতে দৃঢ় প্রুতিশ্রুতিবদ্ধ তারা। এজন্য তারা ডিজিটাল যুগের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। পরিবর্তন করছে গ্রাহকের অভ্যাসও।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত বছর টার্গেটের সিইও ব্রিয়ান কর্নেল জানান, ভবিষ্যত সামনে রেখে আগামী ৩ বছর তাদের প্রতিষ্ঠান ৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের চেষ্টা করবে। এই উদ্যোগের মধ্যে থাকবে শহরে ছোট ছোট স্টোর খোলা এবং বেশি বেশি ব্র্যান্ড তৈরি করা।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : এবারও ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে সাতক্ষীরার আম
--------------------------------------------------------

তিনি বলেন, মাস বা প্রান্তিকের কথা ভেবে নয়, বছর বা দশকের কথা চিন্তা করেই আমরা ব্যবসায় বিনিয়োগ করছি।  

ওয়ালমার্টও প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটা নতুন নতুন সুযোগ খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

কোম্পানিটি বলছে, জেট প্রত্যাশা অনুযায়ী সফলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তারা বোনোবস, মোডক্লথের মতে উপযুক্ত ব্র্যান্ডকে অধিগ্রহণ করেছে। ওয়ালমার্ট এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় চুক্তি করেছে ভারত ভিত্তিক ফ্লিপকার্টের সঙ্গে। ১৬ বিলিয়ন ডলারে কোম্পানিটির ৭৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে তারা।

এদিকে ক্রোজারও আশা করছে, ওকাডোর সঙ্গে চুক্তি হলে তারা গ্রাহকদের কেনাকাটা অভ্যাস পরিবর্তন করে নিজেদের দিকে টানতে পারবে।

পণ্য ডেলিভারি

তিন কোম্পানিই আশা করছে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে। বলা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লিক অ্যান্ড কালেক্ট স্লোগানের ওপরই নজর দিচ্ছে। যেখানে গ্রাহকরা কম্পিউটার বা ফোনে পণ্য অর্ডার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব পণ্য তাদের কাছে পৌঁছে দেবে।

ওয়ালমার্ট বিশ্বাস করে, আমেরিকায় ১০ মাইলের মধ্যে তাদের স্টোরগুলো রিটেইলারদের পণ্য বুঝে নেয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি ফলপ্রসূ হবে। এ বছর শেষে তাদের ২১০০টি পিকআপ স্টেশন হবে। যেখান থেকে খুব সহজেই পণ্য ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হবে।

টার্গেট এ বছর শেষে একহাজার পিকআপ স্পট তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এবং ক্রোজার বলছে, তাদের একহাজারের বেশি পণ্য সংগ্রহের সাইট রয়েছে।

পিকআপ স্টেশন বাড়ানো পণ্য ডেলিভারি ব্যয় কমিয়ে আনবে বলে মনে করছে কোম্পানিগুলো।    

আরও পড়ুন : 

এসআর/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়