• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

'মহাকাশে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, আমরাও পারি ....'

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১২ মে ২০১৮, ১০:৪৮ | আপডেট : ১২ মে ২০১৮, ১৪:২৬
বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মহাকাশের বুকে ৫৭তম দেশ হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করলো। মহাকাশ মানচিত্রে ঠাঁই নিলো উন্নত দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে চলা ছোট্ট বাংলাদেশ।

প্রথম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর এই সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলো বাংলাদেশ। প্রবেশ করল নতুন যুগে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাস্তবায়ন হলো আরেকটি স্বপ্নের। এর মাধ্যমে বিশ্ব মহাকাশ জগতে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিলো- আমরাও পারি ......।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হয় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটের দিকে। প্রায় ৩৩ মিনিটে এটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছায়।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : এখনও দেশে দুই কোটি মানুষ দরিদ্র: অর্থমন্ত্রী
--------------------------------------------------------

উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যায়। এরপর স্টেজ-২ কাজ শুরু করে।

পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ এরপর সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং অবতরণ করে আটলান্টিকে ভাসমান ড্রোন শিপে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রথম দফায় উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়। শুরু হয় চূড়ান্ত ক্ষণগণনা। প্রথম দুই মিনিট কাউন্টডাউনও হলো। কিন্তু শেষ মিনিটে এসেই থমকে গেল সেকেন্ডের কাঁটা। রকেটের যাত্রা (স্টার্ট-আপ মোড) শুরু হওয়ার সময়েই তা বন্ধ হয়ে গেল। জানানো হয়, ওই দিন আর উড়ছে না বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।

তবে শুক্রবার ফের চালু হয় কাউন্টডাউন। এদিন মধ্যরাতেই মহাকাশের দিকে তীব্র গতি ছুটে চলার বেগ তোলে ফ্যালকন-৯।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা যে জ্ঞান অর্জন করছেন, তা তারা কাজে লাগাতে পারবেন। আমরা আশা করতে পারি, সে দিনটি বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট তৈরি করতে সক্ষম হবেন এবং দেশের মাটিতেই তা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, চাঁদে অবতরণের অনুপ্রেরণীয় কাহিনী বিশেষ করে নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং –এর চাঁদে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়। বিষয়টি এখনও বিস্ময় জাগায় আর মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের শিশুদের আরও বড় পরিসরে ভাবতে উৎসাহ যোগায়। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা আশা করছি, আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভবিষ্যতে সফল নভোচারী হতে ও উদ্ভাবনী বিজ্ঞানী হতে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারবো।

সরকার আশা করছে, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই অর্জন থেকে বড় অংকের টাকা সাশ্রয় হবে। সেইসঙ্গে আসবে বিদেশি মুদ্রাও।

পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়া হবে।

‘এর মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রারই সাশ্রয় হবে না, সেই সঙ্গে অব্যবহৃত অংশ নেপাল, ভুটানের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর আয় হবে প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।’

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে একটি নতুন ডিজিটাল অধ্যায়ের সূচনা করে বঙ্গবন্ধু-১ একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে আরও সফলতা অর্জনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও বিবেচিত হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম দফার উৎক্ষেপণ চেষ্টা কারিগরি কারণে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন অনেকে শুক্রবারের সফল উৎক্ষেপণ তাদের আনন্দে ভাসিয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী আবু সুফিয়ান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে আমরা, আজ বহুদূর এগিয়ে গেলাম। মহাকাশ জয়ে পথে পা রাখলাম।

প্রযুক্তি প্রকৌশলী মো. মহসিন খান জানান, আলহামদুলিল্লাহ্‌...। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতির ইতিহাসে রচিত হলো একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হলো দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।  ৫৭ তম স্যাটেলাইট অধিকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ। দেশব্যাপী এখন আনন্দের জোয়ার বইছে।

আরও পড়ুন : 

এসআর/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়