• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুফল আসবে কবে?

শাহীনুর রহমান
|  ১০ মে ২০১৮, ১৭:৪৮ | আপডেট : ১০ মে ২০১৮, ১৭:৫১
ছবি- থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস
শেষ হতে চলেছে অপেক্ষার পালা। আজ রাতেই কৃত্রিম উপগ্রহের মালিক দেশের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ। আকাশে উড়বে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’। ভিডিও কনফান্সের মাধ্যমে স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্য রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এর উদ্বোধন করবেন। 

আর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় ১০ মে বিকেল ৪টা ১২ মিনিট থেকে ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণ হবে। বাংলাদেশ সময় তখন শুক্রবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিট।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎক্ষেপণের পর মাস দুয়েক পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। এরপর সুফল পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এটি উৎক্ষেপণের পর মাস দুয়েক পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সফলতা পাওয়ার পর তা ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া যাবে।

‘বঙ্গবন্ধু-১’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ১ জুলাই। আর পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ৩০ জুন। তবে এর প্রস্তাব আসে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে। কিন্তু অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থতা এবং সরকার পরিবর্তনের কারণে এর দায়িত্ব পড়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির ওপর।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানেই উড়ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট
--------------------------------------------------------

এই স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশের ৩০টি টিভি চ্যানেলকে উপগ্রহ খরচ বাবদ প্রতি বছর বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয় ১২৫ কোটি টাকা। নিজস্ব উপগ্রহ হওয়ায় এই টাকা সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০টি সেবায় ভূমিকা রাখবে। ভূমিকা থাকবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো নিরবচ্ছিন্ন রাখতেও।

প্রকল্প পরিচালক মো. মেজবাহুজ্জামান জানান,  উৎক্ষেপণের ৩০ দিনের মধ্যে এটি অরবিট বা কক্ষপথে পৌঁছাবে। দুটি ধাপে এই উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। প্রথম ধাপটি হল লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেজ (এলইওপি) এবং দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন লাগবে।

উৎক্ষেপণের দিনটি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিহাস হবে জানিয়ে তিনি বলেন, উৎক্ষেপণের পর সাধারণত এক মাস সময় লাগে। এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচারে বাংলাদেশ নতুন যুগের সূচনা হবে।

ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে কেনা হলেও এটি পরিচালিত হবে গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। এর জন্য মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধি দলকে প্রশিক্ষিত করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মূল তত্ত্বাবধানে প্রথম তিন বছর সহায়তা করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন :

এসআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়