• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

ইতিহাস গড়ল টাটা, পেছনে ছুটছে রিলায়েন্স

শাহীনুর রহমান
|  ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:১১ | আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:২৩
ভারতে এখন সবচেয়ে বড় তথ্য ও প্রযুক্তি সেবাদাতা কোম্পানি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস (টিসিএস)। কোম্পানিটি সোমবার মাইলফলক গড়েছে। ১০০ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বাজার মূলধন অর্জন করার হিসাবে ভারতের ইতিহাসে প্রথম কোম্পানি হওয়ার  ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। 

বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপের ৮৫ শতাংশ লাভ আসে এই টিসিএস থেকে। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে কোম্পানিটির রাজস্ব বেড়েছে  ৮ দশমিক ২ শতাংশ।  এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর সোমবার প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায় কোম্পানিটির শেয়ার দর। দরবৃদ্ধি এই উল্লম্ফন যা আগে কখনও দেখা যায়নি। 

শেয়ারবাজারে নেতৃত্ব দেয়া টিসিএস এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই রকেট গতিতে ছুটতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর প্রায় সাড়ে শতাংশ বেড়ে যায়। সকালের দিকেই দেশের দুই প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ বোম্বে স্টক (বিএসই) ও ন্যাশনাল স্টকে (এনএসই)  টিসিএস-এর ১৬ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়।

চলতি হিসাববছরের সবশেষ প্রান্তিকে ভালো মুনাফার খবরের ধাক্কায় এদিন সকালে যে শেয়ারের দর ছিল ৩ হাজার ৪২৯ রুপি, দিন গড়ার পর তা ৩ হাজার ৫৫৭ রুপিতে ঠেকে। যার ধাক্কা শুরু হয়েছিল মূলত গত শুক্রবার থেকে। এর একদিন আগেও কোম্পানিটির লেনদেন শেষ হয় ৩ হাজার ১৯০ রুপিতে।

ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের খবর বলছে, এ হিসেবে মাত্র দুই দিনেই কোম্পানিটির বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৭০ হাজার রুপি। বৃহস্পতিবার যে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ১০ হাজার ৯৫৪ কোটি রুপি, তা সোমবার দাঁড়ায় ৬ লাখ ৮০ হাজার ৫২৮ কোটি রুপি (বর্তমানে এক ডলারের মূল্য ৬৬ দশমিক শূন্য ১ রুপি হিসেবে)।

শুধু বাজার মূলধনের নিরিখেই নয়, ভারতীয় এই কোম্পানি নিজেদের প্রমাণ করেছে আরও অনেক ক্ষেত্রেই।

ভারতের সর্ববৃহৎ আইটি আউটসোর্সিং

প্রযুক্তি কোম্পানি ইনফোসিসকে পেছনে ফেলে দিয়ে টিসিএস এখন দেশের বৃহত্তম আইটি সার্ভিস সংস্থা। ২০১৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে টিসিএস-এর আয় বেড়েছিল প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

টিসিএস-এর পথ চলা শুরু ১৯৬৯ সালে। ২০১৯ সালে ৫০ বছর পূরণ করবে এই সংস্থা। এখনও টিসিএস-এর প্রধান নির্বাহী- সিইও সংখ্যা মোট ৪ জন। তার মধ্যে এফসি কোহলি সিইও পদে ছিলেন ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত।

ভারতের বেসরকারি খাতে বড় চাকরিদাতা কোম্পানি

৪৬টি দেশের মোট ৪ লাখ কর্মী এই কোম্পানিতে কাজ করেন। টিসিএসে নারী কর্মীর সংখ্যাও অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির থেকে কয়েকগুণ বেশি। বর্তমানে নারী কর্মীর সংখ্যা মোট কর্মীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

পেছনে ধাওয়া করছে রিলায়েন্স

টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস ১০০ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করার পর এখন দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারতের অন্যতম ধনকুবের মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এই ক্লাবে প্রবেশের জন্য কোম্পানিটি এখন টাটার পেছনে ছুটছে।

সোমবার পর্যন্ত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বাজার মূলধন ছিল ৮৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।  সে হিসেবে এখনও ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে মুকেশকে।

ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল-গ্যাস থেকে টেলিকম খাত দাপিয়ে বেড়ানো এই কোম্পানি ২০০৭ সালে একবার ১০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করেছিল। তখন এক ডলার ছিল ৩৯ দশমিক ৫ রুপিতে। রুপির বিনিময় হিসাবে ওই সময় ৪ দশমিক ১১ লাখ কোটি রুপির বাজার মূলধন গড়েছিল রিলায়েন্স।

অর্থ বিশ্লেষকরা মনে করেন, মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বে রিলায়েন্স আবারও তার হারানো মুকুট ফিরে পাবে। আর সেটা হতে পারে এ বছরই।

এসআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়