• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

এখন চালের দাম কমলে কৃষক বাঁচবে কীভাবে?

শাহীনুর রহমান, আরটিভি অনলাইন
|  ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৪৯ | আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৪৫
ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ সময় এখন। মাঠে মাঠে সোনালী ফসল দোল খাওয়ার কথা। ইতোমধ্যে ফসল কাটা শুরু হয়েছে কিছু কিছু এলাকায়। ধান কাটার উৎসবে মেতে ওঠার কথা কৃষক পরিবারের। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে অনেক কৃষকের মুখের হাসি ম্লান করে দিচ্ছে। গত কয়েকদিন হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হচ্ছে পাকা ধানের। তার ওপর নতুন চাল ওঠার খবরেই বাজার পড়ছে নিম্ন দিকে। এতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে আরও।

কৃষকরা বলছেন, এমনিতে বৈশাখে হঠাৎ হঠাৎ ঝড়ে ধান সব মাঠে শুয়ে পড়েছে। এতে বড় ক্ষতি হয়েছে তাদের। তাছাড়া এবার ফলন ভালো হলেও ধানে ব্লাস্ট নামক ছত্রাকের আক্রমণ মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে। যে জমিতে ২৫ মণ ধান ওঠার কথা। সেখানে ২০ মণ হবে কিনা সন্দেহ। এই মুহূর্তে বাজারে চালের দাম যদি কমে যায়, তবে পুরোপুরি ধরা খাবেন তারা। লাভ তো দূরের কথা, খরচ উঠবে- তার নিশ্চয়তা নেই।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ৩ মাসে ৩১২০ কোটি টাকা আয় গ্রামীণফোনের
--------------------------------------------------------

চলতি বছর বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা উৎপাদন খরচ ধরে ৩৮ টাকা কেজি দরে চাল এবং ২৬ টাকায় ধান কেনার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার।

এই হিসাবে বোরো চাষিরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করে গতবারের তুলনায় কেজিতে দুই টাকা বেশি দাম পাবেন। আর মিলাররা সরকারের কাছে এবার চাল বিক্রি করে পাবেন গতবারের চেয়ে চার টাকা বেশি।

সে হিসাবে এক মণ ধানের দাম পড়ে এক হাজার টাকার ওপরে। সরকারের হিসাবে এতে কৃষকদের লাভ থাকার কথা।   

আগামী ২ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে এই ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় এই দরে সরকার এবার ১০ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান-চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্য ঠিক করেছে।

কিন্তু অভিযোগ আছে, গত কয়েক বছর ধরে সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি ক্রয়ের ঘোষণা দিলেও কৃষকের এই সুবিধা ভোগ করে আসছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় আড়তদারদের কাছে কৃষকরা মণপ্রতি ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন মৌসুমে দাম আরও কমে যাবে। তখন সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় মণপ্রতি ধান বিক্রি করতে হবে কৃষকদের। কোথাও কোথাও তার চেয়েও কম দাম হবে।

এ অবস্থায় ভরা মৌসুমে ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পারবেন না কৃষক। তার ওপর যদি চালের দাম কমে যায়, তবে বাজারে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অস্থির চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে চালের। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম মান ভেদে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মজুদ করা চাল বাজারে আসায় কমতির দিকে চালের দাম।

সরকারের বিপণন সংস্থা-টিসিবির চিত্রেও আজ রোববার তার প্রতিফলন দেখা যায়। টিসিবিতে প্রায় এক মাস চালের দাম থমকে থাকলেও রোববার তা নড়ে ওঠে।

টিসিবির মূল্য তালিকা অনুযায়ী আজ  সরু চালের দাম প্রায় ৩ টাকা ও মোটা চালের দাম প্রায় ৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমেছে অন্যান্য চালেরও।

এ মৌসুমে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন যশোরের মনিরামপুরের কৃষক শফিকুল ইসলাম। তিনি আরটিভি অনলাইন বলছিলেন, কদিন আগেও মনে খুব আনন্দ ছিল। মনে করেছিলাম এবার অন্তত একটা লাভ পাবো। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই। বৈরী আবহাওয়া ও ব্লাস্ট ছত্রাকে মাঠ শেষ। ফলে সব আনন্দ মাটি হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজার এখনই খারাপ হলে আমরা বাঁচতে  পারব না।

কৃষক হাফিজুর রহমান বলছিলেন, এখনও ধান কাটা হলো না। তাহলে চালের দাম কমে কী করে? এ সময় দাম কমলে চাষিদের কপাল পুড়বে।

আমির হোসেন নামের একজন বলেন, এটা হলো কৃষককে মারার ফন্দি, কৃষকের ধান বেচাকেনা শেষ হবে, চালের বাজার বেড়ে যাবে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা যেন সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে- সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আরও পড়ুন : 

এসআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়