• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন ব্যাংক মালিকরা!

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১১:১৮ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:১৬
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নগদ অর্থ সংকটে ভুগছে। আর এই সংকট মেটাতে একদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি সুদে আমানত নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ তাদের ব্যাংকে জমা রাখার দাবিও আদায় করে নিয়েছে।

তবে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি'র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলছেন, সব ব্যাংকে এ তারল্য সংকট নেই। যারা এ সংকটে পড়েছে তারা অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছে।

গত জানুয়ারিতে দেয়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের তথ্য অনুযায়ী, তারল্য-সংকটের কারণে ফারমার্স ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। পরে তিনি জানান, ফারমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।ওই সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে রেগুলেটরি ও প্রুডেনশিয়াল নিয়মকানুন মানতে অনীহা এবং পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ফারমার্স ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি ক্রমে দুর্বল হতে থাকে। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়লে আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে আমানত উঠিয়ে নিতে থাকলে তারল্য-সংকটের সৃষ্টি হয়।

নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, পুরো খাতে ফারমার্স ব্যাংকে অনিয়মের প্রভাবও পড়েছে।

নগদ অর্থ সংকট মেটাতে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে ব্যাংকিং খাতের উদ্যোক্তারা সরকারি অর্থ তাদের ব্যাংকে জমা রাখার হার বাড়িয়ে রাখার দাবি জানান। এরপর অর্থমন্ত্রী তা মেনে নেন।

এর ফলে আগে যেখানে সরকারি ফান্ডের ৭৫ শতাংশ টাকা রাখা হতো সরকারি ব্যাংকে। এখন নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে টাকার ৫০ শতাংশ রাখা হবে বেসরকারি ব্যাংকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে টাকা জোগানোর জন্য আরও একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি ব্যাংকের নগদ জমার হার এক শতাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে চলে যাবে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার পদত্যাগ
--------------------------------------------------------

এ নিয়ে সম্প্রতি নানা প্রশ্নও উঠেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, সরকারি তহবিলের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বেসরকারি ব্যাংককে দেয়া হচ্ছে। যে ব্যাংকগুলো অলরেডি খুব বাজে পারফরম্যান্স করছে, আমি তাদের কাছে যদি আবার টাকা দিই, তবে ওই টাকাটা তারা ফারদার মিস ইউজ করবে না- তার গ্যারান্টি কোথায়?   

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে এক ধরনের বাইপাস করে সম্প্রতি অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এটাও কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংককে একটা ডিলেমার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে- বাংলাদেশ ব্যাংকের রোলটা তাহলে কী?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার (সিআরআর) এক শতাংশ কমানোও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মনে করেন, কিছু ব্যাংক মালিক কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন।

তিনি বিবিসি বাংলার কাছে বলেছেন, যেসব ব্যাংকের মালিকরা এখন হইচই করছেন, সেসব ব্যাংকের মালিকরা জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। ১০০ টাকা ডিপোজিট থাকলে ৮৫ টাকা ধার দেয়া যায়। কিন্তু সেসব মালিকরা ১০০ টাকার বিপরীতে ১২০-১১৫ টাকা অ্যাডভান্স করে বসে আছেন। তাদের তো শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।

আরও পড়ুন : 

এসআর/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়