• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

অর্থমন্ত্রীর থেকে সুখবর পেয়ে ছুটল বাজার

শাহীনুর রহমান
|  ০২ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:৫১ | আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:১৬
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে প্রণোদনা ঘোষণার একদিন পর হাওয়ায় মেলছে দেশের পুঁজিবাজার। বেশ কয়েক সপ্তাহ ডুবার পর এখন চাঙাভাব পার করছে। দেশের দুই বাজারেই এখন সেই গতি দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- ডিএসইর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ সোমবার সূচক ও লেনদেন ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দিনশেষে ঢাকার বাজারে আজ লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার শেয়ার। যা গেলো দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিন ডিএসইতে অংশ নেয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেনের প্রায় শেষ সময় পর্যন্ত দর বেড়েছে ২৪৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর, কমেছে মাত্র ৪৭টির। আর এ সময়ে অপরিবর্তিত আছে ২২টির শেয়ার দর। যা বেশ কয়েক সপ্তাহ ছিল উল্টো দিকে।

অবশ্য, গেলো সপ্তাহের শেষদিনে চাঙাভাব দেখায় বাজার। এরপর থেকে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তবে ডিএসইর সূচক বাড়লেও লেনদেনে গতি পাচ্ছিল না।

সবশেষ লেনদেনে আজ গতদিনের চেয়ে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইর লেনদেন দেখা যায় ৫৯৬ কোটি টাকা। যা গতকাল রোববার ছিল ৪৪১ কোটি টাকা।

ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ইস্যুতে ব্যাংক খাতে হঠাৎ সৃষ্ট তারল্য সংকটে গেল প্রায় দুই মাস মুখ থুবড়ে পড়ে বাজার। সম্প্রতি এই সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসেন ব্যাংক খাতের নেতারা।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: শেষবারের মতো এক বছর সময় পেল বিজিএমইএ
--------------------------------------------------------

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এডিআর ইস্যুতে ব্যাংক খাতে সম্প্রতি হঠাৎ সৃষ্ট তারল্য সংকটের কারণে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ ক্ষমতা হারায়। ব্যক্তি শ্রেণির অনেক বড় বিনিয়োগকারী দরপতনের শঙ্কায় আগেভাগে শেয়ার বিক্রি করেন। বড় ক্রেতারা বিক্রেতার ভূমিকা নেওয়ায় নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্রমাগত দরপতনে বিনিয়োগযোগ্য অর্থ থাকার পরও অনেকে হাত গুটিয়ে রাখেন।

এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) কার্যালয়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সরকারের আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, ব্যাংকের অর্থসংকট মেটাতে সরকারি তহবিলের ৫০ শতাংশ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যাবে।

গতকাল রোববার অর্থমন্ত্রী আরেক দফা সুখবর দেন। আর তা হলো- কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণের হার- (সিআরআর) সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে এক শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ১০ হাজার কোটি টাকা চলে আসবে। তারল্য সংকট কমে গেলে সুদের হারও কমে যাবে। বর্তমানে যা দুই অংকে বিদ্যমান আছে।

আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার বাজারে প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে প্রায় ৮১ পয়েন্ট। এদিন অন্যান্য সূচকও ছিল উর্ধ্বমুখী।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দেখা যায় একই চিত্র। এ বাজারে সোমবার লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ২৮৩ পয়েন্টের মতো।

আরও পড়ুন:

এসআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়