• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

ফারমার্স ব্যাংক কি বাঁচানো সম্ভব?

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১১ মার্চ ২০১৮, ১২:১৪ | আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৮, ১৪:০৪
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পর এবার বেসরকারি ব্যাংকের দায় নিচ্ছে সরকার। ভয়াবহ আর্থিক সংকটে থাকা ব্যাংকটিতে মূলধন যোগান দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।  

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৮ মার্চ এক অনুষ্ঠানে জানান, ফারমার্স ব্যাংকের ৬০ শতাংশ শেয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের নামে লিখে দিতে হবে। ওই পরিমাণ শেয়ার লিখে দিলেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে টাকা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আলোচনায় থিংকট্যাংকগুলোর কাছ থেকে পরামর্শ এসেছিল, লেট দেম ডাই। ফারমার্স ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দরকার নেই। কিন্তু ফারমার্স ব্যাংককে কলাপস হতে দেব না। যেকোনোভাবেই একে রক্ষা করতে হবে।

গত জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, তারল্য-সংকটের কারণে ফারমার্স ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। পরে গত মাসে তিনি জানান, ফারমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

ওই সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে রেগুলেটরি ও প্রুডেনশিয়াল নিয়মকানুন মানতে অনীহা এবং পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ফারমার্স ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি ক্রমে দুর্বল হতে থাকে। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়লে আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে আমানত উঠিয়ে নিতে থাকলে তারল্য-সংকটের সৃষ্টি হয়।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুর তৃতীয় স্প্যান বসছে রোববার
--------------------------------------------------------

ফারমার্স ব্যাংকের এই ৬০ শতাংশ শেয়ার কিনবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। আইসিবির পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক রয়েছে।

তবে এটির কড়া সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকারের মূলধন দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক বাঁচানো সম্ভব নয়, দরকার মালিকানা বদল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থ যোগানের চেষ্টার কোনো মানে হয় না। এতে দুর্নীতি আরও উৎসাহিত হবে। ফারমার্স ব্যাংকের দুর্নীতির জন্য দায়ী উদ্যোক্তারা।তাদের কাছে আমানতকারীরা নিরাপদ নয়। সরকারের উচিত হবে মূলধনে সহায়তা না করে মালিকানা বদল করতে সহায়তা করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন আলী বলেন, ব্যাংকটি বাঁচানোর আর কোনো পথ আছে বলে আমার মনে হয় না। মানুষ যদি ব্যাংকটিতে ডিপোজিট না রাখে, তবে এই ব্যাংকটি কীভাবে চলবে।

তিনি বলেন, মার্জার (একীভূতকরণ) বা বাইআউট- যেভাবেই হোক বা যেকোনো প্রক্রিয়ায় এটির এক্সিট করতে হবে।

বিআইডিএস গবেষক ড. মনজুর হোসেন বলেন, সরকার থেকে এটাকে যদি উৎসাহিত করা হয়, তবে দুর্নীতি আরও বাড়বে। মূলধন যোগানোর এই প্রক্রিয়া যদি চলতে থাকে, তবে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন বা যেসব নিয়মনীতি থাকা দরকার সেগুলোর বাস্তবায়ন নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে কেন এমন হলো।কেন আজ এই দুরবস্থা, কেন আস্থার সংকট- তার কারণটা উদঘাটন করা জরুরি। যারা দোষী তাদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়া হয়, তবে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন হবে।

আরও পড়ুন: 

এসআর/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়