• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ধনী মানুষ বেজোস

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ০৯ মার্চ ২০১৮, ১৬:১৫ | আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৮, ১৯:১৮
পৃথিবীর এযাবৎকালের সবচেয়ে ধনী মানুষের রেকর্ড গড়লেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমাণ ১১২ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ সম্পদ পৃথিবীতে কোনো কালেই কারও ছিল না।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৮ সালের বৈশ্বিক বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট ও মাইক্রোসফট করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের পেছনে ফেলে বেজোস এই রেকর্ড গড়েন।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খুচরা বিক্রির ৪ শতাংশ হয়েছে জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠিত আমাজন ডটকম ডট ইনকরপোরেশনের মাধ্যমে। আর দেশটিতে ডিজিটাল মাধ্যমে যত ব্যয় হয়েছে, তার ৪৪ শতাংশ হয়েছে আমাজনের মাধ্যমে।

১৯৯৫ সালের ১৬ জুলাই নিজের বাড়ির গ্যারেজে  আমাজন প্রতিষ্ঠা করেন জেফ বেজোস। ১০ হাজার ডলার পুঁজি ও স্ত্রী এবং দুই প্রোগ্রামারকে সঙ্গে নিয়ে আমাজনের যাত্রা শুরু।

ইন্টারনেটে বিক্রয়যোগ্য ২০টি পণ্য দিয়ে শুরু হয় বেজোসের আমাজন ডটকম। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ শতাংশ বাড়ে। ইন্টারনেট ব্যবহারের এই চমকজাগানিয়া উল্লম্ফন দেখে তাঁর মাথায় আমাজন প্রতিষ্ঠার চিন্তা আসে।

প্রযুক্তি খাতের এই স্বপ্নদ্রষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেন। স্নাতক শেষ করার পর স্টার্টআপ কোম্পানি ফিটেলে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি ইনটেল ও বেল ল্যাবসের মতো কোম্পানির চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর তিনি সিনেটের প্রতিষ্ঠাতা হ্যালসে মাইনরের সঙ্গে ফ্যাক্সের মাধ্যমে সংবাদ সরবরাহের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে তিনি ডি. ই শ নামের এক হেজ ফান্ডে যোগ দেন।

শুরুতে আমাজন ডটকম বই বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ছিল। প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যে আমাজন যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্যসহ ৪৫টি দেশে বই বিক্রি করে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ পাচ্ছে ৩২০ কোটি টাকা
--------------------------------------------------------

আমাজনের শুরুর দিকে বেজোস ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, ২০০০ সালের মধ্যে আমাজন ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য বিক্রি করবে। যদিও বাস্তবে বিক্রি হয় অনেক বেশি, ১৬৪ কোটি ডলার। তিনি অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের (যারা স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে) কাছ থেকে ১০ লাখ ডলার জোগাড় করেন। এর আগে তিনি পরিবারের সদস্য ও পিতামাতার কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন, যারা জীবনের সঞ্চয়ের বড় অংশই তাকে দিয়ে দেন।

বেজোস বলেন, আমাজনের প্রথম ২০ জন বাইরের বিনিয়োগকারীর সবাই ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে, যদিও তাদের হিস্যা ছিল ১ শতাংশের কম। এই বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমানে ৬০০ কোটি ডলারের সমান।

এরপর ১৯৯৬ সালের জুন মাসে আমাজন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ক্লেইনার পারকিন্সের কাছ থেকে ৮০ লাখ ডলার সংগ্রহ করে।

১৯৯৭ সালের মে মাসে আমাজন গণশেয়ার ছাড়ে। ১৯৯০-এর দশকে ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানিতে বিনিয়োগের হিড়িক পড়ে যায়। যাকে বলে ডটকম বাস্ট। পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বাজারে নিজের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা সংহত করার মধ্য দিয়ে আমাজনের বার্ষিক বিক্রয় ১৯৯৫ সালের ৫ লাখ ১০ হাজার ডলার থেকে ২০০১ সালে ১৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

গত বছর জেফ বেজোসের সম্পদ বৃদ্ধির মূল কারণ তার প্রতিষ্ঠিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনের শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি। এক বছরে আমাজনের শেয়ারের দাম ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে বেজোসের সম্পদ বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আমাজনের ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি ২০১৩ সালের আগস্টে ২৫ কোটি ডলারে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট কিনে নেন জেফ বেজোস। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় পত্রিকাটি।

আরও পড়ুন:

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়