বসন্তের সমীরণে দুলছে সজনের ডাটা

প্রকাশ | ০৪ মার্চ ২০১৮, ১৩:৩৫ | আপডেট: ০৪ মার্চ ২০১৮, ১৩:৪৭

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

বসন্তের শুরুতে সজনে গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। এবারও তেমনটাই দেখা যাচ্ছে। ফুলের পরিমাণ এতটাই যে গাছের পাতা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। হালকা সমীরণে দোলা দিচ্ছে সজনের কচি ডাটাও। এ চিত্র এখন মেহেরপুরে।

কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, এবছর ২ কোটি টাকার বেশি সজনের ডাটা বিক্রি হবে।

প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।

এক সময় বাড়ির আশপাশের সীমানায় সজনের গাছ লাগানো হতো। তবে সময় পরিক্রমায় এবং চাহিদা থাকায় কৃষকরা ফসলি জমিতে সজনের চাষ করছেন। পরিকল্পিতভাবে সজনের চাষ করে লাভবানও হচ্ছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সজনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় বলে জানা যায়।

মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ২২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শেষ সময়ে দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২০/৩০ টাকায়।

ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্রের শুরুতে কচি সজনের ডাটা খাওয়ার উপযোগী হয়। সাধারণত শাখা কেটে রোপণ করার মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার হয়। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছ থেকে সজনে সংগ্রহ করা যায়। ডাটার পাশাপাশি ফুল, পাতাও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সবজি হিসেবে এটি যেমন উপাদেয়, তেমনি এর ভেষজ গুণাবলি অসাধারণ। মৌসুমে নানা রোগব্যাধি নিরাময়, রোগ প্রতিরোধ ও শক্তি বৃদ্ধিতে সজনে অত্যন্ত কার্যকর।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: রপ্তানি বাড়ছে পাট ও পাটজাত পণ্যের
--------------------------------------------------------

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের আম্বিয়া খাতুন জানান, আগে বাড়িতে খাবারের জন্য সজনে লাগাতাম। গত বছর বাড়িতে খাবারের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেছি। এবার গাছে প্রচুর ফুল আসছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো সজনে পাবো।

একই গ্রামের মীর আশরাফ আলী জানান, আগে বাড়ির সীমানা নির্ধারণী স্থানে সজনে গাছ লাগানো হলেও এখন আবাদি জমিতে ও জমির আইলে গাছ লাগানো হচ্ছে। সজনে চাষে তেমন কোনো ব্যয় করতে হয় না এবং রোগ বালাই কম। তবে ফুল আসার পর এবং সজনে ধরার পর কীটনাশক স্প্র্রে করতে হয়। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হয়।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো আক্তারুজ্জামান জানান, সজনে চারা উৎপাদনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাতৃগাছ সনাক্ত করা হয়েছে। মাতৃগাছ থেকে ডাল সংগ্রহ করে চারা রোপণ করা হবে। এছাড়া বারো মাসি সজনে চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এটি একটি লাভজনক ফসল এবং এটির ওষধি গুণাগুণও আছে। বিশেষত বসন্ত, জন্ডিস, মূত্র সংক্রান্ত সমস্যায় সজনের নানা অংশ ব্যবহার করে আসছেন ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন: 

এসআর