বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত

প্রকাশ | ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:২৩ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:০৯

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠেছি। ৮টার মধ্যে সব সেরে প্রস্তুত। এরপর গাড়ি ধরে সোজা গুলিস্তান। সেখান থেকে শিকড় পরিবহনে উঠে বাণিজ্য মেলায়। ততক্ষণে ঘড়িতে ১১টা। কিন্তু কি আর করা জানতাম এমন হবে। কারণ আজ যে শেষ ছুটির দিন।

মেলায় জনস্রোত দেখে একটু অবাক হয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ থেকে বাণিজ্য মেলায় আসা নিহার বানু।

শুধু নিহার নয়, তার মতো হাজার হাজার মানুষ আজ বাণিজ্য মেলায় এসেছেন। এতেই যেন শনিবার জনস্রোতে রূপ নেয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, আগারগাঁও এলাকা।

মেলা শেষ হতে আর মাত্র চারদিন বাকি। তাই শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে সব বয়সের ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর মেলা প্রাঙ্গণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে। মেলা প্রাঙ্গণসহ এর আশপাশের এলাকাও হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য। দুপুরের পর থেকে মেলার প্রবেশ লাইন লম্বা হতে থাকে। শেষ বিকেলে মানুষের ভিড়ে মেলায় পা ফেলাও দায় হয়ে পড়ে। শেষ ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জনস্রোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না মেলা প্রাঙ্গণে।

মেলায় দায়িত্বরত এক কর্মী বলছিলেন, সকালে মেলার প্রধান গেট খোলার আগেই ঢুকতে অপেক্ষায় ছিলেন দর্শনার্থীরা। টিকেটের লাইন ছিল লম্বা। দুপুরের দিকে তা আরো বাড়তে থাকে। বিকেলের পর সেখানে পা ফেলানোর জায়গা ছিল না।

মেলায় ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে গৃহস্থালি বিভিন্ন পণ্যের প্রতি। প্লাস্টিক পণ্যের পাশাপাশি রয়েছে প্রেসার কুকার, জুস মেকার, জুস ব্লেন্ডার, ওভেন, রাইস কুকার, ইস্ত্রি, ইন্ডাকশন চুলা, ফ্যানসহ নানা ধরনের ইলেক্ট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্য।

নিহার বানু বলেন, মেলায় হরেক রকমের পণ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিবছরই মেলার অপেক্ষায় থাকি। শনিবার ছুটির দিন। বিকেলে বেশি ভিড় হয় তাই সকালেই এসেছি। মেলা থেকে একটি রাইস কুকার ও ঘরে ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী কিনলাম। 

তবে মেলার চারপাশের রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সন্ধ্যায় উপচেপড়া ভিড়ে চারদিকের রাস্তায় গাড়ি চলাচল কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। অনেকের দুই তিন কিলোমিটার হেঁটে যেমন মেলায় ঢুকতে হয়েছে। তেমনি ফেরার বেলায় গাড়ি ধরতে পড়তে হয়েছে বিপাকে। 

তবুও যেন মেলায় না গেলেই নয়। ভিড় ও যানজটে কষ্ট করে গেলেও দর্শনার্থীদের মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। অনেকেই মেলায় সময় বাড়ানোর দাবি করেন।

আরও পড়ুন: 

এসআর