• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

বিটকয়েনে কেন সতর্ক থাকবেন?

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:০৬ | আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৫৬
অনলাইন পেমেন্টে ব্যবহার হয় ডিজিটাল মুদ্রা নামে পরিচিত বিটকয়েন। বর্তমানে এই মুদ্রা এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে তা এখন ব্যবহার হচ্ছে বিনিয়োগেও। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্র সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মুদ্রাটির দর কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। অথচ নভেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে এর দর অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছিল। একপর্যায়ে একেকটি বিটকয়েন কেনাবেচা হয় প্রায় ২০ হাজার ডলারে। যা একমাস আগেই ছিল ১০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। আর চলতি বছরের শুরুতে ছিল মাত্র এক হাজার ডলার। 

এবার প্রায় একই গতিতে কমছে মুদ্রাটির দর। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হচ্ছে, শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় এটির ৩০ শতাংশ দরপতন হয়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ডলারে। বিটকয়েন নিয়ে এখন ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। বিনিয়োগকারীরাও এ নিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।  

বিটকয়েন আসলে কী?

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অনেকসময় শোনা যায় আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা বিভিন্ন কম্পিউটার হ্যাক করে মুক্তিপণ দাবি করছে আর সে মুক্তিপণ পরিশোধ করতে বলা হয় বিটকয়েনে।

বিটকয়েন এক ধরনের ক্রিপ্টো-কারেন্সি বা ভারচুয়াল মুদ্রা। মুদ্রাটির দাম ওঠা-নামার মধ্যেই রয়েছে। গেলো মঙ্গলবার ছিল প্রায় ১৯ হাজার ডলার যেখানে গতকাল শুক্রবার তা একপর্যায়ে ১১ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। 

যদিও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। ইন্টারনেট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রোগ্রামিং করা আছে যেটি চাইলে কেনা যায়।

বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বিবিসিকে বলেন, এটি ইন্টারনেট সিস্টেমে একটা নির্দিষ্ট অংকে প্রোগ্রামিং করা আছে যা চাইলে কেনা যায়। প্রতিবছর এটি অল্প অল্প করে বাড়ানো হয়ে থাকে। ১০/১৫ বছর পর্যন্ত হয়তো বাড়বে তারপর আর বাড়বে না।

বিটকয়েনে কেন ছুটছে মানুষ?

আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটা এমন একটি কয়েন যেটি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা কোনো দেশের জারি করা নয়। ইন্টারনেট সিস্টেমকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি এই সিস্টেমকে ডেভেলপ করেছে। এটাকে বলা যেতে পারে এক ধরনের জুয়াখেলা। যেটার ভিত্তিতে হয়তো টাকা খাটিয়ে লাভজনক কিছু করে ফেলতে পারি। যার জন্য বেশিরভাগ লোক এটার পিছনে এখন ছুটছে।

তিনি বলেন, এটার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে এর কোনো কর্তৃপক্ষ নেই, এর সঙ্গে কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেই যাদের কাছে বলা যাবে এটার বিনিময়ে আমি কিছু পেতে পারি। 

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, কারো কাছে যদি বিটকয়েন থাকে যা সে পাঁচশো ডলার দিয়ে কিনেছে এবং সেটা যদি সে ১৯ হাজার ডলারে বিক্রি করতে চায় কেবল সেই দামেই সেটি কিনতে হবে।

বিটকয়েনে লেনদেন কতটা নিরাপদ?

সম্প্রতি দাম বেড়ে যাবার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে এর দাম ছিল এক হাজার ডলার। তারও আগে ছিল একশো ডলার। একবছরের মধ্যে একশো থেকে এক হাজার ডলারে দাম উঠে যায়। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে এর দাম উঠে গেছে ১৯ হাজার ডলারে। এটা র‌্যাশনাল বিহেভিয়ার নয়।

তিনি জানান, বর্তমানে অনেকেই এর পেছনে বিনিয়োগ করছে আরো বেশি টাকার জন্য। এরকম ক্ষেত্রে হঠাৎ করে এইসব লোকেরা বাজার থেকে সরে গেলে বিপদে পড়বেন অনেকেই।

এই অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে বলেন, এটাই আমাদের আশঙ্কা। যেহেতু এখানে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই, টাকাটা আরো বেশি পরিমাণে সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং এটা যখন কলাপস করবে বা উপরের দিকে যাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মেকানিজম নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বিটকয়েনে বিনিয়োগ না করতে। এটা কোনো অনুমোদিত কারেন্সি না। এটাতে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না।

এসআর/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়