• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

নাসিকে পেঁয়াজের কেজি ৯ রুপি!

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২৩ | আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৮:২৩
বাংলাদেশসহ এশিয়ার বেশকিছু দেশে পেঁয়াজের বাজার যখন অস্থির, তখন ভারতের নাসিকে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৯ রুপি।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এশিয়ান এজের খবরে বলা হয়েছে, সেখানকার এগ্রিকালচার প্রডিউস মার্কেটিং কমিটি (এপিএমসি) বাজারে এই দর হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। 

তবে কিছুদিন আগে এই দর ছিল ১৫ রুপি। এই বাজারে গেলো তিন মাস পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এক পর্যায়ে তা ৪০ রুপিতে পৌঁছায়।

এপিএমসি বাজার হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ভারতের রাজ্য ও বাজারগুলোকে ভৌগোলিকভাবে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যা মণ্ডি হিসেবে পরিচিত। একটি রাজ্যের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি মণ্ডি বসানো হয়। কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্য এসব মণ্ডিতেই নিলামে বিক্রি করতে হয়।

যেকোনো মণ্ডিতে কেবল লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরাই কার্যক্রম চালাতে পারেন। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলো কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনতে পারে না।

এই বাজারের ব্যবসায়ী নেতা রমেশ দেওরি জানান, কিছুদিন আগে চাহিদা বেশি ছিল। আর এখন যোগান বেশি। এটা বাজারের সাধারণ নীতি। যোগান অনুযায়ী রপ্তানিও হচ্ছে না। 

দুইদিন আগে লাসালগাঁও এপিএমসি বাজারে সর্বনিম্ন ৯ রুপি এবং সর্বোচ্চ ৩৪.৬০ রুপি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এসময় গড় দাম ছিল ২৮.৩১ রুপি। তার একদিন আগে সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫ রুপি ও সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৭.১৫ রুপি। 

খবরে বলা হয়, নাসিকে এখন প্রচুর পরিমাণে লাল পেঁয়াজ উঠছে। যার কারণে এই দর কমছে। 

দেওরি জানান, এই সময় বাজারে দুই ধরনের পেঁয়াজ ওঠে। একটা খরিপ মৌসুমের শুরুর পেঁয়াজ; যা উঠতে শুরু করেছে। আরেকটা খরিপ মৌসুমের শেষদিকের পেঁয়াজ; যা বাজারে আসতে আগামী মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 

এর আগে গেলো সপ্তাহে ব্লুমবার্গের এক খবরে বলা হয়, সম্প্রতি পেঁয়াজ-টমেটোর মূল্য বৃদ্ধি ভারতের মূল্যস্ফীতিকে ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে টেনে তোলে। নভেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) এর টার্গেট ভেঙে ফেলেছে মূল্যস্ফীতি।

খুচরা বাজারে ৭-৮ দফা পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর গেলো মাসের শেষদিকে পণ্যটি রপ্তানিতে নতুন শর্ত দেয় ভারত। ওই শর্তানুযায়ী, পেঁয়াজ রপ্তানিতে দাম প্রায় দ্বিগুণ করে দেশটি। এতদিন প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজ ৪০০ থেকে ৫০০ ডলারে রপ্তানি হলেও নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ৮৫০ ডলার।
এতে করে এশিয়ার বাজারে পেঁয়াজের যোগানে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। 

মুম্বাইয়ে অজিত শাহ নামে ভারতের একজন রপ্তানিকারক জানান, নতুন দরে আমদানিকারক কমে গেছে। কিছু আমদানিকারক টনপ্রতি ৮৫০ ডলারে পেঁয়াজ কিনতে চাচ্ছে। এতে করে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

ইকোনমিক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশকিছু দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করে ভারত। 

এসআর/এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়