• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

দাম কমছে সবজির, স্থিতিশীল পেঁয়াজ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৫৭ | আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২৮
রাজধানীতে শীতকালীন শাকসবজি আসতে শুরু করেছে। শুরুর দিকে দাম কিছুটা বাড়তি হলেও এখন সবজির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমতে শুরু করেছে। বিক্রেতারা বলছেন, শীত যত বাড়বে সরবরাহও বাড়বে আর সেই সাথে দামও কমবে। 

এদিকে গেল সপ্তাহে পেঁয়াজের বাজারের দাম বাড়তি থাকলেও এ সপ্তাহে তা স্থিতিশীল রয়েছে।  এক কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়।  তবে নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গেল ১৩ ডিসেম্বর ব্লুমবার্গের এক খবরে জানিয়েছিল, বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কম থাকার মধ্যে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। আর তার প্রভাব পড়ছে পুরো এশিয়ায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের মানুষকে কাঁদাচ্ছে এই পেঁয়াজ।   

তবে কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী খাজা ট্রেডার্সের মালিক জোবায়ের হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পাইকারি বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ খুব কম। তাই দাম একটু বাড়তির দিকে রয়েছে। আর দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ এখনও তেমনভাবে বাজারে আসেনি। তবে সপ্তাহ খানেক পর বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়বে, তখন পেঁয়াজের দাম আবারও কমে আসবে।

মগবাজারের দিলু রোডের বাসিন্দা সালমা আক্তার নামের এক গৃহিণী আরটিভি অনলাইনকে জানান, তার ৮ জনের পরিবারে মাসে ১০ কেজি পেঁয়াজ লাগে। পেঁয়াজের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় তিনি একসাথে পুরো মাসের পেঁয়াজ কিনতে কারওয়ান বাজার এসেছেন। তবে তিনি জানালেন এভাবে পেঁয়াজের দামসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে।

এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুরুর দিকে শীতের অন্যতম সবজি বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতিটি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও কারওয়ান বাজারে ভালো মানের এই কপি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। আবার কিছুটা ছোট কপি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। প্রতিটি কপি ১০ টাকা করে হাঁকাচ্ছিলেন কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা মো. কুদ্দুস। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দাম কইমা গেছে অনেক। একদম সস্তা।

কারওয়ান বাজারের সবজির পাইকারি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, নতুন সবজির সরবরাহ অনেক বেড়েছে। এখন সরবরাহ বাড়তেই থাকবে, দামও কমতে থাকবে। এক সপ্তাহের মধ্যে দাম আরো কমবে।

এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন প্রকারভেদে ১০ টাকা কমে  ২০ টাকা ধরে, যা গেল সপ্তাহ ছিল ৩০ টাকা। পটল ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা। কচুর লতি ৩০ টাকা কমে ২০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ২০ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ২০ টাকা। পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, পাকা টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকা, শসা ২০ টাকা, মূলা ১০ থেকে ১৫ টাকা, নতুন আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, পুরাতন আলু ১০ থেকে ১২ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধনেপাতা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখে গেছে।

শীতের শাকের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পালংশাক, সরিষাশাক, মুলাশাক, লাউশাক প্রভৃতি। গেল সপ্তাহে এসব শাক আঁটিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা থাকলেও এখন তা ৫ থেকে ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি, মাঝারি সাইজের দেশি মুরগি ১৫০-২২০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার কেজিপ্রতি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায় যা গেল সপ্তাহে ছিল ৬২ টাকা। বিআর-২৮ চাল ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা গেল সপ্তাহে ছিল ৫২ টাকা এবং স্বর্ণা ও পারিজা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায় যা গেল সপ্তাহে ছিল ৪২-৪৩ টাকা।

এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের টেংরা ও ছোট মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে।  আকার বেধে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৮০ টাকা কেজিতে। তা ছাড়া প্রতি কেজি পোয়া মাছ ১০০-১২০ টাকা, সরপুঁটি ১২০-১৪০ টাকা, তেলাপিয়া ৮০-১০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

 

এমসি/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়