• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

আইফোন টেনের ধাক্কায় ফক্সকনের মুনাফায় ৩৯% পতন

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:৩৭ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৬
চলতি মাসের শুরুতে আইফোন টেন বাজারে এসেছে।  নতুন এই ফোন সেটের উৎপাদন নিয়ে জটিলতার মধ্যে হতাশার খবর জানালো ফক্সকন টেকনোলজি। বিশ্বের অন্যতম চুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতা এই কোম্পানি অ্যাপলের প্রধান পণ্য সরবরাহকারী।

কোম্পানিটির বরাতে সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে ফক্সকনের নিট মুনাফায় ‘ধস’ নেমেছে।  জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মেয়াদে গেলো বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৩৯ শতাংশ। যা প্রত্যাশার চেয়েও কম।

মার্কিন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সিসের তথ্য মতে, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক মন্দার পর কোম্পানিটির মুনাফায় এটিই সবচেয়ে বড় পতন।

কয়েক দফা উৎপাদন জনিত সমস্যায় জর্জরিত হওয়ার পর গেলো ৩ নভেম্বর আইফোন টেনের বিক্রি শুরু হয়। অ্যাপলের তৈরি সবচেয়ে দামি স্মার্টফোন এটি। চীনে সেটটির অ্যাসেম্বলিং করে ফক্সকন। শুরুতে আইফোন টেনের দাম ধরা হয়েছে ৯৯৯ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮৩ হাজার টাকা (আজকের দর হিসেবে)।

তাইওয়ান ভিত্তিক ফক্সকন যেটি হোন হাই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি নামে পরিচিত। কোম্পানিটি তাদের বিবৃতিতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গেলো তিন মাসে ৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলার নিট মুনাফা দেখিয়েছে।

এদিকে আর্থিক এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার কোম্পানিটির শেয়ারের দরপতন দেখা যায়।

আইফোন টেন কতটা বিক্রি হয়েছে তার তথ্য অবশ্য এখনো দেয়নি অ্যাপল। তবে জানা গেছে, অ্যাপলের স্টোরে ফোন সেটটি আসার পর তা কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আইফোনপ্রেমীরা।

অ্যাপল চলতি বছরে যে তিন ফোন সেট আনার ঘোষণা দিয়েছিল তার মধ্যে আইফোন টেন একটি। এর ছয় সপ্তাহ আগে কোম্পানিটি সাশ্রয়ী মূল্যের আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস বিক্রি শুরু করে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুযায়ী, আইফোন টেনের উৎপাদন জনিত সমস্যার মধ্যে রয়েছে অরগানিক এলইডি ডিসপ্লের (ওএলইডি) জটিলতা ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ঘাটতি।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক জানান, চলতি মাসে অ্যাপলের প্রান্তিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে আইফোন টেনের উৎপাদন ভালো আছে। কিন্তু এর যে সরবরাহ তা চাহিদা পূরণ করতে পারবে কিনা সে ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

কুক অবশ্য স্বীকার করেন, আইফোন টেনের যে চাহিদা ধরা হয়েছে তা আসলেই চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, আমরা যদি সেটা একবারেই ছাড়তে পারতাম, তবে আমাদের আগের চিত্র ঠিক থাকতো। কিন্তু আমরা সেটা চাচ্ছি না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্স বলছে, আগামী মাসগুলোতে আইফোন টেনের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বরে অ্যাপলের পণ্য উৎপাদনে আগের প্রান্তিক থেকে প্রায় তিন শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন আইফোন। চতুর্থ প্রান্তিকে এটা ৮১ মিলিয়নে পৌঁছবে বলে প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে।

এসআর/ এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়