• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

২০০ পণ্যে ভ্যাট কমালো ভারত, কমলো দাম

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১১ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৩৪ | আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৫০
গেলো জুলাইতে চালু হওয়া ভারতের নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ চার মাস ধরে বিতর্ক করে আসছিল ব্যবসায়ীরা। নতুন ভ্যাট চালুর পর ভারতের নানা জায়গায় বিক্ষোভও দেখা যায়। 

অবশেষে গতকাল শুক্রবার ভ্যাট বিতর্ক ও বিক্ষোভে কিছুটা শিথিলতা এনেছে মোদির সরকার। ভারতীয় ভ্যাট বলে পরিচিত গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) এর আওতায় মোট ২০০টি পণ্যে কর কমানো হয়েছে। 

অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির ঘোষণা অনুযায়ী, ১৭৮টি পণ্যে জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। ৫০টি পণ্যে এখনো ২৮ শতাংশ কর আরোপ থাকবে। যার মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট, রং, বিলাসসামগ্রী, দামি ভোগ্যপণ্য বা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক পণ্য। 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খরচ কমাতেও জিএসটির হার করা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। বর্তমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁয় জিএসটি করের হার ১৮ শতাংশ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ।

ঘর সাজানোর জিনিস, আসবাব, শ্যাম্পু, শেভিং ক্রিমের মতো পণ্যের ওপর কর কমছে। সস্তা হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্য। ১৫ নভেম্বর থেকে নতুন এই করের হার কার্যকর হবে।

নতুন ঘোষণায় বাসনপত্র, গ্যাস ওভেন, কুকারসহ খাবার তৈরিতে কাজে লাগে এমন বিদ্যুৎহীন যে কোনো দ্রব্যের দাম কমেছে। আগে এসব দ্রব্যের উপরে কর দিতে হতো ২৮ শতাংশ হারে। এখন দিতে হবে ১৮ শতাংশ হারে।  কর কমেছে ক্যামেরা, মাইক্রোস্কোপ এবং ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত বেশ কিছু পণ্যের উপর।

১৮ শতাংশ থেকে জিএসটি কর কমে ১২ শতাংশ হয়েছে কনডেনস্ড মিল্ক, চিনি, পাস্তা, ডায়াবেটিক ফুড, সুতি পণ্যে। বাঁশের তৈরি আসবাবের উপরও কর কমেছে।

এতদিন কিছু শুকনো সবজি, শুকনো মাছ বা হিমায়িত মাছের জিএসটি দিতে হতো ৫ শতাংশ হারে। সেই করের সবটাই তুলে নেয়া হয়েছে।

চার ‘ভিত্তিহার’ নিয়ে নতুন ওই কর ব্যবস্থায় পণ্য ও পরিষেবায় ৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৮ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে বলা হয়। জুলাইতে কর চালুর পর অবশ্য ভারতীয় মিডিয়ায় দাবি করা হয়, এতে রাজস্ব বৃদ্ধি, পণ্যের দামের সরলীকরণ হবে। আগামীতে সার্বিক কর নীতি প্রয়োগও আরো সহজ হবে। জিডিপি বৃদ্ধি পেতে পারে দেড় শতাংশ হারে।

সবচেয়ে বড় দাবিটি হল— জিএসটি চালু হওয়ায় চাপ পড়বে না গরিব বা মধ্যবিত্তের পকেটে। উল্টো দাম কমবে এমন কিছু জিনিসের, যার সিংহভাগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সাধারণ মানুষ। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, অর্থনীতিতে কিছুটা অস্থিরতা ছিল। কিছু কিছু পণ্যে বাড়তি কর যোগ হওয়ায় ওই পণ্যের বাজার ধরা খায়। এ নিয়ে বিরোধী দলের মধ্যেও ক্ষোভ ছিল। 

তবে একসঙ্গে এতো পণ্যে কর কমানোর কারণে প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি রাজস্ব আয় কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদি বলেছেন, করের কমানোর কারণে বছরে ২০ হাজার কোটি রুপির রাজস্ব হারাবে দেশ।

কিন্তু অরুণ জেটলির বলছেন, করের হার কমলে কর পরিষদের পরিমাণ বাড়বে। তাতে রাজস্ব ঘাটতি মিটবে। 

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়