• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১০ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:২৪
সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। শুক্রবার রাজধানীর কাঁচাবাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।   

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, শান্তিনগর, মগবাজার কাঁচাবাজার সরেজমিনে ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কারওয়ান বাজারের কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ী ও পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. শাহেদ আলম আরটিভি অনলাইনকে জানান, ভারতে নতুন পেঁয়াজ আসায় হিলি স্থলবন্দরে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। বন্দরে হাজার হাজার পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বেড়েছে আমদানি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ৩০ টাকার নিচে নামবে।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজি বাজারে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তার আঁচ বেশি ভোগাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের। সব মিলিয়ে প্রায় সবধরনের সবজির দামই কেজি প্রতি ৮০ টাকা বা তার বেশি। শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও সবজির দর বেশ চড়া। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করতে গিয়ে অনেকেই কমিয়ে দিয়েছেন সবজি কেনা।

রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি ধনিয়াপাতা ২০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, সিম ১৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৭০ টাকা থেকে ৬০ টাকা।

এছাড়া প্রতি পিস বাঁধাকপি ৩৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৩৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর কাঁচাবাজারে বিক্রেতা মো. কামরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, তিনি শিম বিক্রি করেছেন কেজি প্রতি ১৪০ টাকা দরে। কাঁচামরিচের দামও কমেছে, কেজি প্রতি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। করলার দাম উঠেছে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

শান্তিনগর কাঁচা বাজারে সবজি কেনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ খান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, গ্রীষ্মের সবজিগুলোর মান ভালো নয়। দেখলেই বোঝা যায় বিবর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু দাম চাইছে ৬০ টাকার বেশি।

এদিকে কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয় ২২-২৬ টাকায়। লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ৪০ টাকা; লালশাক ৪০ টাকা; পুঁইশাক ৪০ টাকা এবং লাউশাক ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁঠালবাগান বাজার করতে আসা সারোয়ার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কি কিনব। কোনোভাবেই কুলাতে পারছি না। সবকিছুর দাম এত বেশি। এদিক-সেদিক করে জীবিকা নির্বাহ করছি।

বন্যা ও চালের মজুদ কম- এই অজুহাতে চালের দাম এক লাফে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়ে যায়। তবে কমার সময় সেই চিত্র পাওয়া যায় না। সপ্তাহ ভেদে প্রত্যেক চাল কেজিতে তিন থেকে চার টাকা কমছে পাইকারি বাজারে। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব খুব।

রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পারিজাত ৪৩ টাকা, চিনিগুড়া ৮৫ টাকা, কাটারি ৬২, ছিদ্র কাটারি ৭৫ টাকা, বাসমতি ৭২ থেকে ৭৩ টাকা, নাজির ৬০ থেকে ৬৫, পাইজাম ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫, লেয়ার মুরগি ১৭০-১৭৫, পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

এমসি/কে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়