• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলেই জরিমানা-সুদ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:১৩ | আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৩৬
করনেট বাড়ানো ও বড় অঙ্কের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশে শুরু হয়েছে আয়কর মেলা। এটি আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। গেলো বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়কর মেলা উদ্বোধনের দিনই অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, এবার তিন হাজার কোটি টাকার বেশি কর আদায় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৭-১৮ কর বছরের নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে এবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় আগামী ৩০ নভেম্বর।

কারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন: 

কোনো ব্যক্তি করদাতার আয় যদি বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি হয়, তবে তাকে রিটার্ন দিতে হবে। নারী এবং ৬৫ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সের পুরুষ করদাতার আয় যদি বছরে তিন লাখ টাকার বেশি হয়, প্রতিবন্ধী করদাতার আয় যদি বছরে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে চার লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি হয়, তাহলে ওই করদাতাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

এর বাইরে আয়ের পরিমাণ যাই হোক না কেন, অবশ্যই তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে:

(ক) যদি আয় বছরে করদাতার মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে;
(খ) আয় বছরের পূর্ববর্তী তিন বছরের যেকোনো বছর করদাতার কর নির্ধারণ হয়ে থাকে বা তার আয় করযোগ্য হয়ে থাকে;
(গ) করদাতা যদি—
১. কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী হন;
২. কোনো ফার্মের অংশীদার হন;
৩. সরকার অথবা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের বা প্রচলিত কোনো আইন, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের কর্মচারী হয়ে যদি বছরের যেকোনো সময় ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকেন;
(ঘ) করদাতার আয় কর অব্যহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে যদি করযোগ্য হয়ে থাকে;
(ঙ) যদি আয় বছরের কোনো এক সময়ে নিম্নবর্ণিত শর্তের যেকোনোটি করদাতার জন্য প্রযোজ্য হয়—
১. মোটরগাড়ির মালিকানা থাকা (মোটরগাড়ি বলতে জিপ বা মাইক্রোবাসকেও বোঝাবে);
২. মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর অধীন নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্যপদ থাকা;
৩. কোনো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোনো ব্যবসা বা পেশা পরিচালনা;
৪. চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার অথবা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধন থাকা;
৫. আয়কর পেশাজীবী হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিবন্ধন থাকা;
৬. কোনো বণিক বা শিল্পবিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্যপদ থাকা;
৭. কোনো পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের কোনো পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া;
৮. কোনো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কোনো স্থানীয় সরকারে কোনো টেন্ডারে অংশগ্রহণ করা;
৯. কোনো কোম্পানির বা কোনো গ্রুপ অব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে থাকা;

আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে: 

এনবিআরের তথ্য মতে, ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন ছাড়া এই রিটার্ন গ্রহণযোগ্য হবে না। সক্ষম করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে তাকে জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ গুনতে হবে।

আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫ ধারা অনুসারে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট করদাতার ওপর সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা আয়কর অধ্যাদেশের ১২৪ ধারা অনুসারে জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। একইসঙ্গে রাজস্ব কর্মকর্তা ৭৩ ধারা অনুযায়ী ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত সরল সুদ বা ৭৩(এ) ধারা অনুসারে বিলম্ব সুদও আরোপ করতে পারবেন। 

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করদাতা রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব না হলে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য বিধি নির্ধারিত ফরমে কারণ উল্লেখ করে উপ-কর কমিশনারের কাছে সময়ের আবেদন করতে পারবেন। 

উপ-কর কমিশনার সময় মঞ্জুর করলে করদাতার জরিমানা আরোপ হবে না। কিন্তু অতিরিক্ত সরল সুদ ও বিলম্ব সুদ আরোপ হবে।

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়