• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়বে: বিশ্বব্যাংক

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৯ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৪৩ | আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৫৫
আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের চেয়ে এ বছর জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে। আগামী বছর আরো বাড়বে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

'কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক, অক্টোবর-১৭' নামে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে ব্যাংকটি এমন তথ্য জানিয়েছে।

প্রতি তিন মাস পর পর পণ্য বাজার নিয়ে পূর্বাভাস দেয় বিশ্বব্যাংক।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৪৩ ডলার। ২০১৭ সালে তা ৫৩ ডলার হতে পারে আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি মনে করছে, ২০১৮ সালে গড় দর হতে পারে ৫৬ ডলার। বর্তমানে এর দাম ৫২ থেকে ৫৩ ডলার। ২০১৭ সালে কৃষিপণ্যের মূল্য মোটা দাগে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে আগামী বছর এর মূল্য সামান্য বাড়তে পারে। ধাতব পণ্যের মূল্য এ বছর ২২ শতাংশ বেড়েছে এবং আগামী বছর এর মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। অবশ্য স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থির গতিতে হলেও তেলের চাহিদা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েলের উৎপাদন কমানোর প্রতিশ্রুতি ও তেল রপ্তানিকারকদের উৎপাদন সীমিত করার পদক্ষেপ তেলের দর বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেল ছাড়া গ্যাস ও কয়লার দামও আগামী বছর বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, তেজি চাহিদা ও মজুদ কমে যাওয়ার কারণে জ্বালানির মূল্য বাড়ছে। তবে উৎপাদক দেশগুলো উৎপাদন কমানোর সময় বাড়ায় কি-না তার ওপর আগামীতে এর দামের বিষয়টি বহুলাংশে নির্ভর করবে। ধাতব পণ্যের মূল্য নির্ভর করবে চীনের পরিস্থিতির ওপর।

বিশ্বব্যাংক গত এপ্রিলের প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে তেলের দামের যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, বর্তমান প্রতিবেদনে তা থেকে কিছুটা কমিয়েছে। আগের প্রতিবেদনে তেলের মূল্য ২০১৮ সালে গড়ে ৬০ ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটি অবশ্য ধারণা করছে, ওপেকের সদস্যরা উৎপাদন কম রাখার ব্যাপারে আবারও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে এবং তাহলে এর দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।

আগামী বছর সার্বিকভাবে কৃষিপণ্যের মূল্য সামান্য বাড়তে পারে। তবে চালসহ কিছু শস্যের ভালো মজুদ থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭-১৮ সময়কালে বিশ্বে চালের উৎপাদন ৩০ লাখ টন কমে ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টন হবে। এর কারণ- চীন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদন কিছুটা কম হবে। তবে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে উৎপাদন বাড়বে। চালের দামও কিছুটা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনা না থাকলেও এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও আমদানি কেন্দ্রিক পরিসংখ্যান রয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন ১৬ লাখ টন কমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টন হতে পারে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চালের উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ টন। উৎপাদন ঘাটতির কারণে চালের আমদানি বাড়বে। বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে চাল আমদানি বেড়ে ১৭ লাখ টন হবে। গমের আমদানিও বাড়বে। গত অর্থবছরে ৫৬ লাখ টন গম আমদানি হয়। এবার হতে পারে ৬৫ লাখ টন।

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়