• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

তেলের দর নামতে পারে লিটারে ৫ টাকা

অনলাইন ডেস্ক
|  ২৬ অক্টোবর ২০১৭, ২৩:৪৪ | আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৩৩
ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে চীন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা ২০৪০ সালের পর নতুন করে আর কোনো পেট্রলচালিত গাড়ি তৈরি বা বিক্রি করবে না। এ পথে এগিয়ে যাচ্ছে জাপানও।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে বাজারে ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ির চাহিদা থাকবে না। আর তেমনটি হলে বাজারে তেলের চাহিদা কমে যাবে। কমবে দামও।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি লংভিউ ইকোনমিকস এর প্রধান নির্বাহী ক্রিস ওয়াটলিং মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা এখন তেলের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানির দিকে ছুটছেন। সে কারণে আগামী ৬ থেকে ৮ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত তেলের দাম নামতে পারে ১০ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮০৮ টাকা (আজকের দর অনুযায়ী)। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে এক লিটার তেলের দাম দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ টাকা।

আগামী বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসতে যাচ্ছে বৈশ্বিক তেল বাজারে মুখ্য ভূমিকা রাখা বিশ্বের সর্ব বৃহৎ তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসার কথা রয়েছে।

কবে নাগাদ এটি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে আসছে- এমন প্রশ্নে ওয়াটলিং বলেন, আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর ১০ ডলারে নামার আগেই তাদের এ বাজারে আসা উচিত। তবে আমি চাই না- শিগগির সেটা হোক; যেটা ইলেকট্রিক গাড়িবাজার ঘটাতে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এ বাজারে প্রায় ৭০ শতাংশ জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। 

কাটলিং বলেন, ১২০ বছর আগে কী ঘটেছে তা আমরা ভুলে গেছি। বিশ্ব তখনও শুধু তেলের ওপর নির্ভর করেনি। তেল সবসময় বিশ্ব অর্থনীতিকে চালিত করেনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানিই এখন গতি তৈরি করছে।

লংভিউ ইকোনমিকস সিইও আভাস দেন, আগামী ৬ থেকে ৮ বছরে জ্বালানি তেলের দর নামবে ১০ ডলারে। যা এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যারেলপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে উঠানামা করছে।

সম্প্রতি অবশ্য আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানিকারকদের সংগঠন অরগানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস (ওপেক) জানায়, তারা আগামী বছর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর সমন্বয় হবে বলে আশা করছে।

২০১৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল তেল কেনা-বেচা হয় ১২০ ডলার। সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য না থাকা, যুক্তরাষ্ট্রে শেলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণে এক পর্যায়ে তা ৩০ ডলারের নিচে নামে। সেখান থেকে বর্তমান বাজার এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এক ব্যারেল তেল কেনা-বেচা হচ্ছে ৬০ ডলারের কাছাকাছি।

গাড়িবাজার কতটা ইলেকট্রিকে ঝুঁকছে- তার চিত্র উঠে এসেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে মার্কেট্ওয়াচের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে চীন ৭০ লাখ ইলেকট্রিক বা বিদ্যুতচালিত গাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ সংক্রান্ত প্রকল্পে তারা ব্যয় ধরেছে ৬ হাজার কোটি ডলার।

ব্লুমবার্গ নিউজ এনার্জি ফিন্যান্সের প্রতিবেদনে এক পূর্বাভাসে বলা হয়, ইলেকট্রিক গাড়ি আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দিনে ৮০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের চাহিদা কমাবে; যার ফলে তেলের দর কমবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর অতিরিক্ত কমায় বাংলাদেশ সরকারও গতবছর তেলের দাম কমায়। বিশ্ববাজারে তেলের বাজারে পূর্বাভাস সত্য হলে বাংলাদেশেও তেলের দর কমতে পারে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন- বিপিসির মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক মির আলী রেজা আরটিভি অনলাইনকে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দর অনেক কমে গেলে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে দর কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত সরকার নিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস সত্য হলে তখন যদি সরকার মনে করে দাম সেভাবে কমানোর দরকার আছে, তখন সেটা কমবে। তবে এতোটা কমবে বলে মনে হয় না।

এসআর/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়