• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ভ্যাট থেকে প্রথম তিন মাসে রাজস্ব বেড়েছে ৩০৪৪ কোটি টাকা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৪৪ | আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৫০
চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম তিন তিন মাসে (প্রথম প্রান্তিক) শুধু ভ্যাট থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১৭ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। গেলো অর্থবছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ফলে প্রথম তিন মাসে ভ্যাট থেকে রাজস্ব বেড়েছে তিন হাজার ৪৪ কোটি টাকা। 

তবে এ সময়ে খাতটি থেকে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছে। এ প্রান্তিকে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। 

এনবিআরের তথ্য মতে, দেশে ৫০ লাখের বেশি ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮ লাখ ৮৪ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। মাত্র ৩৪ হাজার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দিচ্ছে।

এনবিআরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ মু’মেন আরটিভি অনলাইনকে জানান, রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত দেশের প্রতিটি প্রান্তে ভ্যাট অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ভ্যাটের বিশাল এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবার ভ্যাট আওতার বাইরে থাকা নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে নজর দেয়া হবে।  ভ্যাট সংগ্রহে দেশের প্রতিটি প্রান্তে চিরুনি অভিযান চালানো হবে।  

তিনি আরো বলেন, ভ্যাটযোগ্য নতুন প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা ভ্যাট বিভাগের রুটিন ওয়ার্ক।  এবার রুটিন ওয়ার্ককে স্থায়ী করে দেয়া হচ্ছে। শুধু শহর নয়, গ্রাম পর্যন্ত ভ্যাট কর্মকর্তারা ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠানে হানা দেবে।  অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে নজরদারি বাড়ানো হবে।  অনেক প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ভ্যাটের দোহাই দিয়ে পার পেতে চায় তাদের বিষয়েও কঠোর হবে এনবিআর।  অডিটের পরিমাণ বাড়ানো হবে।  মাঠ অফিসকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আয়কর, মূসক ও শুল্কবাবদ সব মিলিয়ে ৪৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাময়িক হিসাবে আহরণ হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। 

রাজস্ব আহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হলেও সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাজেট বাস্তবায়ন ফোরাম গঠন, নিয়মিত মনিটরিং, ভ্যাট আদায়ে মাঠ পর্যায়ে অভিযান ও মাঠ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কারণেই রাজস্ব আহরণে এ সাফল্য এসেছে। সেই সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে পুরনো মামলা নিষ্পত্তি, সর্বস্তরে সুশাসন বাস্তবায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ফলেও অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণে সফলতা পেয়েছে এনবিআর।

প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণের এ চিত্র নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, রাজস্ব আহরণে অন্যতম শর্ত সময়োপযোগী যথাযথ কৌশল নির্ধারণ। এ কৌশল বাস্তবায়নে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত সবাই মিলে কাজ করেছি। সঠিক সময়ে যোগ্য ব্যক্তিকে উপযুক্ত পদে পদায়ন করেছি। রাজস্ব ফাঁকিবাজদের ধরতে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি ভালো করদাতার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে কাজ করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। চলমান মামলা নিষ্পত্তিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। ভালো অগ্রগতি হয়েছে বকেয়া আদায়েও। এসব কারণেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়েছে এনবিআর।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী,  ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে ৬৮ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা করা হয়। 

এমসি/এসআর 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়