• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

ইলিশের কেজি ৫৫০ টাকা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:২১ | আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:২৮
দেইখ্যা লন বাইছ্যা লন। তাজা ইলিশ। দুইদিন আগেই ধরা। একদাম ৫৫০ টাকা কেজি। কোনো দামাদামি চলবো না। ওজন দুইটা মিলে দেড় কেজি। 

মঙ্গলবার রাতে এভাবে হাঁক ডাকিয়ে ইলিশ বিক্রি করছিলেন রাজধানীর শনির আখড়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। 

এক ব্যবসায়ী জানালেন, বাজারে নতুন মাছ। একেবারেই টাটকা। হাত দিয়া দেখেন তেলে ভরা। এখনো বরফের আঁচ তেমন লাগেনি। দরদাম না করে কিনে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেন তিনি। জানালেন খেয়ে মজা পাবেন। 

যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া থেকে রায়েরবাগের ছোট বাজারেও প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। শুধু শনির আখড়া, রায়েরবাগ নয় রাজধানীর অলিগলি থেকে অন্যান্য বাজারেও এখন ইলিশ উঠছে প্রচুর।   

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত রোববার। নিষেধাজ্ঞা উঠার পর দিন থেকে ভোলা, বরিশালে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যা বাজারে ঢুকছে। এর ফলে দামও কমেছে।

রায়েরবাগে রফিক নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ডিম ছাড়ার কারণে ইলিশের ওজন কমেছে, তাই বাজারে ছোট ইলিশ বেশি আসছে। এসব ইলিশের দামও কম। তবে বড় ইলিশের দাম তেমন কমেনি।
তিনি জানান, প্রতিদিনই ইলিশ আসা বাড়ছে। নদীতে ইলিশ বেশি ধরা পড়ায় বাজারে সরবরাহ ভালো। 

এই ব্যবসায়ী মঙ্গলবার রাতে কেজি প্রতি ইলিশ দর হাঁকান ৬০০ টাকা। যার ওজন দুইটা মিলে দেড় কেজির কাছাকাছি। অথচ একদিন আগেও তিনি এ রকম চারটা ইলিশ চেয়েছিলেন দুই হাজার টাকা।

তিনি বলেন, বলতে গেলে এখনো ইলিশের বাজার তেমন জমেনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাজার আরো জমজমাট হবে বলে আশা করছি। তখন দাম আরো কমবে। 

তবে বাজার ভেদে দামে তারতম্যও আছে। কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় বাজারে প্রচুর ইলিশ আসছে। এ বাজারে ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রামের উপরে হলে প্রতি হালির দাম পড়বে ২৪০০ টাকা। 

আর ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, ৪০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৫০০ টাকা। 

ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে গত ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত (২২ দিন) ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করে সরকার।

আগে প্রজনন মৌসুমে ১৫ দিন ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলেও গত বছর থেকে এই সময় সাত দিন বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়।

সরকারের এই আদেশ অমান্য করে ইলিশ মাছ আহরণ ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান ছিল।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান,  এ সময় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় প্রতিটি ইলিশ ১০ থেকে ১২ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে আগামীতেও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। ক্রেতারাও আরো সস্তায় ইলিশ খেতে পারবেন।

এসআর

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়