• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

তামাকপণ্যে কর না বাড়ার প্রস্তাব স্বাস্থ্যবিরোধী

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১১ জুন ২০১৭, ১৪:১৫
প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে কর (শুল্ক) না বাড়ার প্রস্তাব চরম জন স্বাস্থ্যবিরোধী। সিগারেটের সর্বনিম্নস্তর ভেঙ্গে দেশি এবং আন্তর্জাতিক ব্রান্ড নামে দু’টো স্তরে বিভক্ত করে তামাক কর-কাঠামোর জটিলতা আরো বাড়ানো করা হয়েছে। কার্যকর করারোপ না হওয়ায় বাড়বে মৃত্যুর সংখ্যা।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’র উদ্যোগে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য এবং করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতির ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এ দু’টো স্তরের সিগারেটের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে সবচে’ বেশি লাভবান হবে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি বিএটিবি, যাদের উৎপাদিত ১৫টি ব্রান্ডের মধ্যে ১০টিই উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট। প্রস্তাবিত বাজেটে ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য, জর্দা ও গুলের উপর কর বাড়ানো হয়নি।  দেশে অর্ধেকেরও বেশি তামাক ব্যবহারকারী ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা ও গুল) সেবন করেন অর্থাৎ বাংলাদেশের ৪ কোটি ১৩ লাখ তামাক ব্যবহারকারীর মধ্যে ২ কোটি ৫৯ লাখই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারী। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে জর্দা-গুল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করার উদ্যোগ প্রস্তাবিত বাজেটে নেই, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার বিড়ির প্যাকেটের দাম ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একি সঙ্গে বিড়ির প্রচলিত ট্যারিফ ভ্যালু বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিড়ির কর আদায়ের জটিলতা কিছুটা হলেও সহজ হবে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় আসছে ৩ বছরের মধ্যে বিড়ি উৎপাদন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু বিড়ির ওপর করহার এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের তেমন কোনো প্রতিফলন হয়নি। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বিড়ির ওপর করারোপে প্রায় ৫০ শতাংশ মূল্য বাড়ানো হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যবৃদ্ধি হবে মাত্র ৪১.৩৮ শতাংশ। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে কার্যত বিড়ি মালিকদের সুবিধা দেয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে তামাকপণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার অর্থ হচ্ছে ভোক্তার কাছে এগুলো আরো সহজলভ্য হয়ে যাবে। লাভবান হবে তামাক কোম্পানি।  গেলো এক বছরে জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।   তামাকবিরোধীদের সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাব গ্রহণ না করে করারোপের পুরানো ও জটিল বহুস্তরভিত্তিক এডভ্যালোরেম পদ্ধতিই বহাল রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থার প্রেক্ষিতে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কার্যকরভাবে কমাতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তামাকের ব্যবহার কমাতে সহায়ক নয়। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড.কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, মানুষের যে হারে আয় বেড়েছে, সেই হারে তামাক পণ্যের দাম বাড়েনি। যেটুকু দাম বেড়েছে তার কোনো প্রভাব পড়বে না ভোক্তাদের মধ্যে। তামাকের কর বাড়াতে হবে ব্যক্তির আয়ের চেয়ে বেশি হারে। তাহলে একদিকে যেমন রাজস্ব আয় হবে অন্যদিকে তামাকের ব্যবহার কমবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য (ট্যাক্স পলিসি) মো. আমিনুর রহমান বলেন, নতুন মূল্যস্তর সৃষ্টি করার ফলে উদ্ভূত জটিলতা মোকাবেলা এবং কর সংগ্রহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনেক বেশি বেগ পেতে হবে। এর ফলে লাভবান হবে তামাক কোম্পানি। চূড়ান্ত বাজেটে বিষয়টি পূনর্বিবেচনার আশা ব্যক্ত করেন তিনি এবং একই সঙ্গে এনবিআরের টোব্যাকো ট্যাক্স সেলকে সক্রিয় করার তাগিদ জানান তিনি।

জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) আব্দুল মালিক বলেন, তামাকজনিত ক্ষতি কমিয়ে আনতে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার, এজন্য তামাকের ওপর কর বৃদ্ধি উৎকৃষ্ট পন্থা।

সংবাদ সম্মেলনে এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস, দি ইউনিয়ন এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসসহ অন্যান্য তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমসি/এইচএম  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়