close
ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪

বেড়েছে খেজুরের চাহিদা, দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা

মিথুন চৌধুরী
|  ২৮ মে ২০১৭, ১৭:১১ | আপডেট : ২৮ মে ২০১৭, ২৩:৫৮
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনে মুসলমানরা রোজা রাখেন। সারাদিন রোজার পর সাধ্যমত নানা পদ দিয়ে ইফতার করেন। ইফতারের অন্যতম আইটেম খেজুর। রমজান মাসে এদেশে খেজুরের কদর বেশি। তাই সারা বছর কম আমদানি কম হলেও, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এ পণ্য বেশি আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এ সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ইফতারের এ অনুষঙ্গ খাদ্যটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের হিসেবে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে ২৮ হাজার ৪৩৮ টন খেজুর আমদানি হয়েছে। এরমধ্যে ২৭ হাজার ৫০৪ টন ভেজা খেজুর। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে গড়ে প্রতি মাসে খেজুর আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৮৪৪ টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ৯৩০ মে টন খেজুর আমদানি হয়েছিল।

সারাবছর বিশেষ কিছু দোকান ও ফলের দোকানে মূলত খেজুর বিক্রি করা হয়। কিন্তু পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের সব স্থানে খেজুর বিক্রি করছেন মৌসুমী বিক্রেতারা।

বাজারে নানা ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— ইরানের মরিয়ম, ইরাকের জাহিদি, দুবাইয়ের সায়ের এবং আরব আমিরাতের বোমান, বারহি, বরই ও নাগাল।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি নাগাল খেজুরের দাম ৭৫-৮০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বরই খেজুরের পাইকারি দাম ১৪০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তার দাম ১৮০-২৫০ টাকা। প্রতি কেজি জাহিদির পাইকারি দাম ৪৫-৪৮ টাকা, কিন্তু খুচরা বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকায়। প্রতি কেজি মরিয়ম খেজুরের দাম পাইকারি বাজারে ৪০০-৫০০ টাকা আর খুচরা বাজারে ৫০০-৫৫০ টাকা।

তিউনিশিয়ার প্যাকেটজাত এক ধরনের খেজুর আছে, যা ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সৌদি আরবের কেস খেজুর মানভেদে পাইকারি দাম ১২০-২২০ টাকা, কিন্তু খুচরা বিক্রি হয় ১৫০-২৫০ টাকায়, আরব আমিরাতের বারাকা খেজুর মানভেদে পাইকারি দাম ১০০-১২০ টাকা, কিন্তু খুচরা বিক্রি হয় ১৩৫-২২০ টাকায়। ছোট খেজুর (ডাবাস) মানভেদে পাইকারি দাম ১২০-২২০ টাকা, কিন্তু খুচরা বিক্রি হয় ১৭০-১৮০ টাকা এবং ১০ কেজি কার্টনের রেজিস খেজুর পাইকারি দাম ১২০০-১৪০০ টাকা, কিন্তু খুচরা ১৫০০-১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ও পাইকারি বাজারের দামের বিরাট পার্থক্যের কারণ জানতে চাইলে কারওয়ানবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শহিদুল্লাহ বলেন, প্রতি কেজি খেজুরে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লাভ করি। রমজান আসার কিছুদিন আগ থেকে পাইকারি দোকানগুলোতে দাম বাড়তে থাকে। এছাড়া বেশিরভাগ মৌসুমি খুচরা ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা বাজার বাড়িয়ে দেন। পরে পাইকারাও দাম বাড়িয়ে দেন।

কারওয়ানবাজারের আরেক খুচরা ব্যবসায়ী সুজন সারোয়ার জানান, বাজারে ৩২ ধরনের খেজুর আছে। গুণ-মানের দিক থেকে দামেরও পার্থক্য রয়েছে। তার দোকানে প্রতি কেজি জাহিদি খেজুর ৮০, ল্যাপাস ১০০, বরই ১৮০ ও মরিয়ম ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

পাইকারি খেজুর ব্যবসায়ীরা জানান, খেজুর প্যাকেটজাত করলে দেড় বছর পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। বিদেশে প্যাকেট করার সময় খেজুরে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে দেয়া হয়। একটি খেজুরের প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ থেকে ১৮ মাস বিক্রির কথা উল্লেখ থাকে। ফলে রমজানের আমদানি করা খেজুর সারা বছর বিক্রি করা যায়। তাই অনেক আমদানিকারক রমজানের আগে সারা বছরের খেজুর একসঙ্গে আমদানি করেন। ফলে দামের পার্থক্য থাকে। পাশাপাশি ডলারের দামের ওপর তারতম্য নির্ভর করে থাকে।

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়